0 votes
13 views
in miscellaneous Fiqh by

সাধারণ অবস্থায় যেভাবে জীবন যাপন করা হয়, গর্ভাবস্থায় সেই মতো জীবন যাপন করা দুরূহ ব্যপার হয়ে দাঁড়ায় অনেক ক্ষেত্রেই।

সাধারণ মুসলিমের খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, সলাত, রোজা ইত্যাদির যে নিয়ম কানুন, গর্ভবতীর ক্ষেত্রে সব সময় তা মানা সম্ভব হয় না।

জীবনের এই সময়টুকুর জন্য রাসুল (সা) থেকে কি কোন প্রকার স্বাস্থ্যগত পরামর্শ মূলক হাদিস পাওয়া যায়? যেমন তিনি আমাদের খাওয়ার নিয়ম, পান করার নিয়ম, ঘুমানোর নিয়ম সবকিছুতেই উপকারী নির্দেশনা দিয়েছেন, সেরকম কোন নির্দেশনা কি গর্ভাবস্থায় অনুসরণ করার জন্য রয়েছে কি না? 

গর্ভবতী মহিলার খাওয়া, ঘুম এসবের নির্দেশনা নিয়ে অথেনটিক কোন হাদিস থেকে থাকলে দয়া করে জানাবেন।

জাযাকাল্লাহ খইরন।

1 Answer

0 votes
by (7k points)
edited by

বিসমিহি তা'আলা

পরামর্শঃ-

প্রথমেই বলব যে,

নিম্নে বিক্ষিপ্ত কয়েকটির বর্ণনার প্রতি লক্ষ্য করুন।

ﻋَﻦْ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺑْﻦِ ﺟَﻌْﻔَﺮٍ ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ ، ﻋَﻦْ ﺟَﺪِّﻩِ ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ( ﺃَﻃْﻌِﻤُﻮﺍ ﺣُﺒْﻼﻛُﻢُ ﺍﻟﻠِّﺒَﺎﻥَ؛ ﻓَﺈِﻥْ ﻳَﻜُﻦْ ﻓِﻲ ﺑَﻄْﻨِﻬَﺎ ﺫَﻛَﺮٌ ﻳَﻜُﻦْ ﺫَﻛِﻲَّ ﺍﻟْﻘَﻠْﺐِ ، ﻭَﺇِﻥْ ﺗَﻜُﻦْ ﺃُﻧْﺜَﻰ ﻳَﺤْﺴُﻦُ ﺧُﻠُﻘُﻬَﺎ ﻭَﺗَﻌْﻈُﻢُ ﻋَﺠِﻴﺰَﺗَﺎﻫَﺎ )
رواه ابو نعيم في (ﺃﺭﺑﻌﻮﻥ ﺣﺪﻳﺜًﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻟﺮﺍﺑﻊ ﻣﻦ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻄﺐ ) رقم الحديث 38

রাসূলুল্লাহ বলেন,তোমরা সাঃ গর্ভবর্তী মহিলাদের দুধ পান করাও।যদি গর্ভে ছেলে সন্তান থাকে তাহলে সে অত্যান্ত বুদ্ধিমান হবে।আর যদি মেয়ে সন্তান থাকে তাহলে তার চরিত্র সুন্দর হবে এবং তার শারিরিক গঠন ও অভয়ব সুন্দর হবে।
এক বর্ণনায় এসেছে,রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,

তোমরা আতাফল ভক্ষণ করো।এবং পরস্পর হাদিয়া প্রদান করো।এবং তোমাদের গর্ভবর্তী মা'দের কে তা ভক্ষণ করাও।কেননা অাতাফল সন্তানাদিগকে সুন্দর করে।

হাজেরা আঃ কে অনুসরণ করে পাহাড় বা এ জাতীয় স্থানে গর্ভবর্তী মায়েদের জন্য কিছু সময় দৌড়ানো উচিৎ।

খাওয়াতিনে ইসলামি ইন্সাইক্লোপিডিয়া:৪০৭

গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান ভূমিষ্ঠের পর খেজুর খাওয়া সাস্থ্যকর।যেমনঃ-

হযরত ঈসা আঃ এর জন্মের পর হযরত মরিয়ম আঃ কে লক্ষ্য করে আল্লাহ তা'আলা  বলেন,

ﻭَﻫُﺰِّﻱ ﺇِﻟَﻴْﻚِ ﺑِﺠِﺬْﻉِ ﺍﻟﻨَّﺨْﻠَﺔِ ﺗُﺴَﺎﻗِﻂْ ﻋَﻠَﻴْﻚِ ﺭُﻃَﺒًﺎ ﺟَﻨِﻴًّﺎ

আর তুমি নিজের দিকে খেজুর গাছের কান্ডে নাড়া দাও, তা থেকে তোমার উপর সুপক্ক খেজুর পতিত হবে।

সূরা মরিয়ম-২৫

বুজুর্গানে কেরাম বলেন,

গর্ভধারণের সময় কুরআন তেলাওয়াত সহ সকল প্রকার ইবাদত বেশী বেশী করে করলে সন্তান নেককার হয়।

যতটুকু সম্ভব বেশী বেশী করে ফরয সহ নফল ইবাদত করলে, এবং নেককার/বুজুর্গানে কেরামদের অভয়বকে কল্পনায় রাখলে সন্তান নেককার হয়।

কুরআনে কারীমে সর্বমোট তিন প্রকার নসিহত এসেছে,

(১)পূর্ববর্তী উম্মতের উপর আল্লাহর নি'আমত উল্লেখপূর্বক আলোচনা।

(২)পূর্ববর্তী উম্মতের উপর আপতিত আল্লাহর আযাব উল্লেখপূর্বক আলোচনা।

(৩)মূত্যুপরবর্তী জীবনাচার সম্পর্কে আলোচনা।

অহী নাযিলের মূল উদ্দ্যেশ্য এই তিনটিই।

দুনিয়াবি জীবনাচার তথা জীবনযাপনের পদ্ধতি সমূহকে বর্ণনা করা কুরআনের মূল উদ্দ্যেশ্য নয়।সেজন্য দুনিয়াবী কোনো বিষয় বিশদাকারে বর্ণিত হয়নি।মাঝেমধ্যে বিভিন্ন হেকমতের আলোকে  আংশিক বর্ণনা এসেছে।

যেমন, তা'বীরে নখলের ঘটনায় আমরা বিষয়টা বিস্তারিত বুঝতে পারি......

হযরত আয়েশা রাযি, থেকে বর্ণিত

ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ : " ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻣَﺮَّ ﺑِﻘَﻮْﻡٍ ﻳُﻠَﻘِّﺤُﻮﻥَ ﻓَﻘَﺎﻝَ : ( ﻟَﻮْ ﻟَﻢْ ﺗَﻔْﻌَﻠُﻮﺍ ﻟَﺼَﻠُﺢَ ) ، ﻗَﺎﻝَ : ﻓَﺨَﺮَﺝَ ﺷِﻴﺼًﺎ ، ﻓَﻤَﺮَّ ﺑِﻬِﻢْ ﻓَﻘَﺎﻝَ : ( ﻣَﺎ ﻟِﻨَﺨْﻠِﻜُﻢْ ؟ ) ﻗَﺎﻟُﻮﺍ : ﻗُﻠْﺖَ ﻛَﺬَﺍ ﻭَﻛَﺬَﺍ ، ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﺃَﻋْﻠَﻢُ ﺑِﺄَﻣْﺮِ ﺩُﻧْﻴَﺎﻛُﻢْ ) .

ﺃﺧﺮﺟﻪ ﻣﺴﻠﻢ ﻓﻲ " ﺻﺤﻴﺤﻪ " ( ﺣﺪﻳﺚ ﺭﻗﻢ 2363/ ) ،

ভাবার্থঃ

একবার রাসূলুল্লাহ সাঃ মদীনার একদল কৃষকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন,যারা পুরুষ খেজুর বৃক্ষের সাথে মহিলা খেজুর বৃক্ষের মিলন ঘটানোর কাজে লিপ্ত ছিল।রাসূলুল্লাহ তাদেরকে দেখে বললেন,আমার ব্যক্তিগত ধারণা যদি তোমরা এমন না করো তবে সম্ভবত ভালো হবে।সে বৎসর আর ফল আসেনি।পরবর্তীতে যখন রাসূলুল্লাহ সাঃ তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন,তখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন,তোমাদের খেজুরের খবর কি?উত্তরে তারা বলল,হে রাসূলুল্লাহ সাঃ! আপনি তো এমন এমন বলেছিলেন,যদ্দরুণ আমরা কোনো তদবীর করিনি।(এবং তেমন ফলও আসেনি)

প্রতিউত্তরে রাসূলুল্লাহ সাঃ বললে,

"এটা আমি আমার ধারণাপ্রসূত একটি কথা ছিলো যা আমি তোমাদিগকে বলেছিলাম।(তথা ইহা অহীর ছিলনা)সুতরাং দুনিয়াবি বিষয়ে তোমরাই অধিক জ্ঞাত।কেননা দুনিয়াবি বিষয়ের জ্ঞান-বিজ্ঞানের জন্য আমাকে প্ররণ করা হয়নি।তবে মাঝেমধ্যে অহীর মাধ্যমে যা আদেশ হয় তাই বলব, সেগুলো অবশ্যই বাস্তবমুখী ও মহা সত্যে প্রমাণিত হবে।

{সহীহ মুসলিম-২৩৬৩}

দেখুন উক্ত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাঃ দুনিয়াবি জ্ঞানের নিসবতকে জনসাধারণের দিকে করেছেন।

এই দুনিয়াবি জ্ঞান পূর্ববর্তী নবী রাসূলগণের নিকট অবশ্যই অহীর মাধ্যমে এসেছিলো।যেমন বর্ণিত রয়েছে যে, হযরত আদম আঃ এর নিকট পৃথিবীকে আবাদযোগ্য করার পদ্ধতি নিয়ে যেমন হালচাষ ইত্যাদি বিষয়ে অহী আসত।

মায়ের গর্ভে সন্তান জন্ম নেয়া সংক্রান্ত জ্ঞান- বিজ্ঞান অতীতে আম্বিয়ায়ে কেরামের নিকট অবশ্যই এসেছে।এবং সেই জ্ঞানই বংশ পরস্পরায় ধারাবাহিকভাবে আমাদের নিকট এসে পৌঁছেছে।

তাছাড়া এ সংক্রান্ত কিছু বিষয় যাচাই বাচাইয়ের মাধ্যমেও আমাদের নিকট এসে পৌঁছেছে।অন্যদিকে কিছু বিষয় আল্লাহপাক কিছু মানুষের অন্তরে ইলহাম করে দিয়েছেন।

তাই গর্ভধারণ ও তার পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জানতে বিজ্ঞ-অভিজ্ঞদের নিটক জিজ্ঞাসা করেই জানতে হবে।

আল্লাহ তা'আলা বলেন,

ﻭَﻣَﺎ ﺃَﺭْﺳَﻠْﻨَﺎ ﻣِﻦ ﻗَﺒْﻠِﻚَ ﺇِﻻَّ ﺭِﺟَﺎﻻً ﻧُّﻮﺣِﻲ ﺇِﻟَﻴْﻬِﻢْ ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ

আপনার পূর্বেও আমি প্রত্যাদেশসহ মানবকেই তাদের প্রতি প্রেরণ করেছিলাম অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমারা না জানো।

(সূরা নাহল-৪৩)

আল্লাহই ভালো জানেন।

পরামর্শদানে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, IOM.

পরিচালক

ইসলামিক রিচার্স কাউন্সিল বাংলাদেশ

ইসলামিক ফতোয়া ওয়েবসাইটটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত। যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।
...