0 votes
42 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
অনেক সময় দেখা যায় পোশাকে বা অলঙ্কারে মানুষ অথবা অন্য কোনো প্রাণীর ছবি বা প্রতিকৃতি থাকে । এমন পোশাক বা অলঙ্কার পড়া শরীয়তের দৃষ্টিতে সঠিক কিনা জানালে উপকৃত হবো ইন-শাহ্-আল্লাহ্ । এবং এ সম্পর্কিত বিধিবিধান এবং দলিল পেশ করলে ভালো হয় ।

1 Answer

0 votes
by (25,600 points)
edited by

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

মনে করা হয় শিশুদের পোশাক সম্পর্কে শরীয়তের কোনো নীতিমালা নেই। যেমন ইচ্ছা পরানো যাবে। অথচ এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।

 

বড়দের ব্যাপারে পোশাকের যে নীতিমালা, ছোটদের ক্ষেত্রেও তাই। বিজাতীয় পোশাক যেমন বড়দের জন্য নিষিদ্ধ তেমনি ছোটদের জন্যও নিষিদ্ধ। একইভাবে ছেলেদেরকে মেয়েদের পোশাক এবং মেয়েদেরকে ছেলেদের পোশাক পরানোও গুনাহ। নাবালেগ

সন্তানদেরকে এধরনের নিষিদ্ধ পোশাক পরালে এর গুনাহ হবে মা-বাবার; অথচ এর খারাপ প্রভাব তো সন্তানদের উপর পড়বেই। 

 

ইসলামী শরিয়ত মতে, কোনো প্রাণীর ছবিযুক্ত পোশাক পরিধান করা হারাম। তবে প্রাণহীন বস্তু যেমন—বৃক্ষ, পাহাড়, ঝরনা ইত্যাদির ছবি বৈধ। (আল-বাহরুর রায়েক : ২/২৯, মেরকাতুল মাফাতিহ : ৪৪৮৯)

 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ   

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنَا عَمْرٌو أَنَّ بُكَيْرَ بْنَ الأَشَجِّ حَدَّثَهُ أَنَّ بُسْرَ بْنَ سَعِيْدٍ حَدَّثَهُ أَنَّ زَيْدَ بْنَ خَالِدٍ الْجُهَنِيَّ حَدَّثَهُ وَمَعَ بُسْرِ بْنِ سَعِيْدٍ عُبَيْدُ اللهِ الْخَوْلَانِيُّ الَّذِيْ كَانَ فِيْ حَجْرِ مَيْمُوْنَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَدَّثَهُمَا زَيْدُ بْنُ خَالِدٍ أَنَّ أَبَا طَلْحَةَ حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا تَدْخُلُ الْمَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيْهِ صُوْرَةٌ 

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন,

 ‘ওই ঘরে (রহমতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না, যে ঘরে কোনো ছবি, কুকুর বা এমন ব্যক্তি থাকে, যার ওপর গোসল করা ফরজ।’ (বুখারী ৩২২৫,আবু দাউদ, হাদিস : ৪১৫২)

 

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ حَدَّثَنِيْ ابْنُ وَهْبٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ عُمَرُ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ وَعَدَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم جِبْرِيْلُ فَقَالَ إِنَّا لَا نَدْخُلُ بَيْتًا فِيْهِ صُوْرَةٌ وَلَا كَلْبٌ

 

সালিম (রহ.) তাঁর পিতার নিকট হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, জিবরীল (আঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ওয়াদা দিয়েছিলেন। আমরা ঐ ঘরে প্রবেশ করি না, যে ঘরে ছবি এবং কুকুর থাকে। (বুখারী ৩২২৭,৫৯৬০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৯৯৭)

 

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) এক সফর থেকে ফিরে আসেন। (এসে তিনি দেখতে পান) আমি ছবিযুক্ত একটি (দেয়ালের) পর্দা টাঙিয়েছি। তিনি আমাকে তা সরিয়ে নিতে বলেন। অতঃপর আমি তা সরিয়ে ফেলি। (বুখারি শরিফ : হা. ৫৯৫৫)

 

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি (দরজার) পর্দা ছিল। তাতে একটি পাখির ছায়াযুক্ত ছবি ছিল। কেউ এলে তা সামনে পড়ত। অতঃপর মহানবী (সা.) বললেন, আমার সামনে থেকে এটি সরিয়ে নাও। কেননা যখনই আমি এটা দেখি, দুনিয়ার কথা স্মরণ হয়। (মুসলিম শরিফ)

 

حَدَّثَنَا يَسَرَةُ بْنُ صَفْوَانَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَفِي الْبَيْتِ قِرَامٌ فِيهِ صُوَرٌ، فَتَلَوَّنَ وَجْهُهُ، ثُمَّ تَنَاوَلَ السِّتْرَ فَهَتَكَهُ، وَقَالَتْ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم" مِنْ أَشَدِّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الَّذِينَ يُصَوِّرُونَ هَذِهِ الصُّوَرَ ".

আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নাবী  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন। তখন ঘরে একখানা পর্দা ঝুলানো ছিল। যাতে ছবি ছিল। তা দেখে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেহারার রং পরিবর্তিত হয়ে গেল। এরপর তিনি পর্দাখানা হাতে নিয়ে ছিঁড়ে ফেললেন। ‘আয়িশাহ বলেন, নাবী  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকেদের মধ্যে বললেনঃ ক্বিয়ামাতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে ঐসব লোকের যারা এ সব ছবি অঙ্কণ করে। [বুখারী ৬১০৯,২৪৭৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৫৬৬)

 

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

 

ইসলামী শরিয়ত মতে, কোনো প্রাণীর ছবিযুক্ত পোশাক (বা অলঙ্কার) পরিধান করা হারাম। তবে প্রাণহীন বস্তু যেমন—বৃক্ষ, পাহাড়, ঝরনা ইত্যাদির ছবি বৈধ। (আল-বাহরুর রায়েক : ২/২৯, মেরকাতুল মাফাতিহ : ৪৪৮৯)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...