0 votes
15 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (6 points)
কেউ মুনাজাতে বললো - হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে ওয়াদা করছি আমি আর গীবত করবো না। আপনি আমাকে ওয়াদা পালনের তাওফীক্ব দান করুন। পরবর্তীতে তার মাধ্যমে গীবত হয়ে গেলে করণীয় কি?
তাওবা করতে হবে। কিন্তু বার বার একই ভুল রিপিট হলে কি এক্ষেত্রে বারবার ওয়াদা খেলাফের গুনাহ হচ্ছে?

এর জন্য কাফফারা আদায় করতে হবে? নাকি শুধু তাওবা যথেষ্ট হবে?

1 Answer

0 votes
by (15,640 points)
edited by

 বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

 গীবত করা হারাম। হাদীস শরীফে এসেছে-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَتَدْرُونَ مَا الْغِيبَةُ " . قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ " ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ " . قِيلَ أَفَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ فِي أَخِي مَا أَقُولُ قَالَ " إِنْ كَانَ فِيهِ مَا تَقُولُ فَقَدِ اغْتَبْتَهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهِ فَقَدْ بَهَتَّهُ " .

 

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কি জান, গীবত কী জিনিস? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, (গীবত হল) তোমার ভাই এর সম্পর্কে এমন কিছু আলোচনা করা, যা সে অপছন্দ করে। প্রশ্ন করা হল, আমি যা বলছি তা যদি আমার ভাই এর মধ্যে থেকে থাকে তবে আপনি কি বলেন? তিনি বললেন, তুমি তার সম্পর্কে যা বলছ তা যদি তার মধ্যে থাকে তাহলেই তুমি তার গীবত করলে। আর যদি তা তার মধ্যে না থাকে তা হলে তো তুমি তার প্রতি অপবাদ আরোপ করলে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ৬৩৫৭)

 অন্যের সাথে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করা মুনাফিকের আলামত।

হাদীস শরীফে এসেছে-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ " آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلاَثٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ ".

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেনরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ মুনাফিকের আলামত তিনটিঃ ১. যখন কথা বলে মিথ্যা বলে ২. যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে এবং ৩. আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে। সহীহ বুখারীহাদীস নং-৩২

 

অন্যের সাথে ওয়াদা করলে তা পূর্ণ করা উচিৎ। তবে যদি কেউ উক্ত ওয়াদা পূর্ণ না করে তাহলে তার গুনাহ হবে না ইনশাআল্লাহ ।

 

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

 

১. গীবত হয়ে গেলে করণীয় হলো, যার গীবত করেছেন তার কাছে মাফ চেয়ে নেওয়া এবং আল্লাহ তায়ালার কাছেও মাফ চেয়ে নেওয়া।

২. ওয়াদা করলে তা পূর্ণ করা উচিৎ। সুতরাং একান্ত ওয়াদা করে ভঙ্গ করলে কাফ্ফারা দেওয়া লাগবে না। তবে এভাবে ওয়াদা ভঙ্গ করা উচিৎ নয়।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...