0 votes
34 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (36 points)

আসসালামু আলাইকুম শাইখ

বিভিন্ন স্টুডেন্ট হোস্টেলে অনেক দ্রব্যাদি ব্যবহারের অনুমতি দেন না যেমনঃওয়াফাই রাউটার ব্যবহার,হিটার ব্যবহার এই ধরনের কিছু জিনিসপত্র ব্যবহারের অনুমতি দেন না।
তবে প্রত্যক্ষভাবে হল সুপাররা জানেন বা দেখেন যে এই সকল যন্ত্রাদি ছাত্ররা ব্যবহার করছে।অনেকক্ষেত্রে তারা মৌন সম্মতিও প্রদান করে থাকেন।
মাঝে মাঝে উপরের মহলের চাপে বা পরিস্থিতি বেশি বিগড়ে গেলে মাঝে মাঝে কিছু জিনিস তারা বাজেয়াপ্তও করে থাকেন।

অনেকক্ষেত্রে কিছু কিছু জিনিসের বিকল্প অন্য কিছু ব্যবহার করা যায়(যেমন রাউটারের পরিবর্তে মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়)
কিন্তু অনেকক্ষেত্রে নিষিদ্ধ জিনিসটি ব্যবহার অত্যধিক প্রয়োজন হয়ে পরে(যেমন শীতকালে গোসলের জন্য বা চা পানের জন্য ইলেক্ট্রিক চুলা বা কেটলীর বিকল্প নাই)।
আবার অনেকে নিজেরা রান্না করে খাওয়া দাওয়া করেন ফলে ইলেক্ট্রিক চুলা থাকে।

কিন্তু সম্পূর্ণ বিষয়াদির সম্পর্কে প্রশাসন অবগত এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের মৌন সম্মতিও পাওয়া যায়।তারা জানেন যে শিক্ষানবিশরা রাউটার ব্যবহার করছেন ইন্টারনেট কানেকশনের জন্য কারণ বর্তমানে শিক্ষার অনেক উপকরণও ইন্টারনেট ছাড়া পাওয়া যায় না।এবং ইলেক্ট্রিক হিটার পানি গরমের জন্য ছাত্ররা ব্যবহার করে থাকে এই বিষয়টিও তারা জানেন!

কিন্তু লিখিত নোটিশ ভিন্ন কথা বলে!

এক্ষেত্রে কি করা উচিত?সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে উক্ত কাজগুলো করা কি নাজায়েজ বা গুনাহের কাজ হবে?


কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জানাবেন।
জাযাকাল্লাহ খাইরান।
 

1 Answer

0 votes
by (80,280 points)
উত্তর 
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

শরীয়তের বিধান হলো সরকার বা প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলি যদি শরীয়তের বহির্ভূত না হয়,তাহলে তা মানা ওয়াজিব। 
না মানলে সে গুনাহগার হবে। 
সুতরাং  স্টুডেন্ট হোস্টেল গুলোতে কর্তৃপক্ষ যে অনেক গুলো নিয়ম করে থাকে,সেগুলো যদি শরীয়ত বিরোধী না হয়, তাহলে তা মানাও ওয়াজিব। 

অতএব প্রশ্নে উল্লেখিত স্টুডেন্ট হোস্টেলে যে অনেক দ্রব্যাদি ব্যাবহারের অনুমতি দেওয়া হয়না,যেমন ওয়াইফাই রাউটার ব্যবহার,হিটার ব্যবহার এই ধরনের কিছু জিনিসপত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়না।
এই নিয়ম যেহেতু শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক নয়, তাই এই নিয়ম মানাও ওয়াজিব। 

★উল্লেখ্য যে যদিও প্রত্যক্ষভাবে হল সুপাররা জানেন বা দেখেন যে এই সকল যন্ত্রাদি ছাত্ররা ব্যবহার করছে।অনেকক্ষেত্রে তারা মৌন সম্মতিও প্রদান করে থাকেন,তারপরও এগুলো ব্যবহার যতক্ষন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট আকারে  অনুমতি না দিবে,ততক্ষন পর্যন্ত এগুলো ব্যবহার জায়েয হবেনা।

হলের যাবতীয় দ্রব্যাদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ছাত্রদের কাছে আমানত।  
তাই এই আমানতের খিয়ানত করা যাবেনা। 

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ 
قال اللّٰہ تبارک وتعالیٰ: {اِنَّ اللّٰہَ یَأْمُرُکُمْ اَنْ تُؤَدُّوْا الْاَمَانَاتِ اِلٰی اَہْلِہَا} [النساء، جزء آیت: ۵۸]
আল্লাহ তায়ালা হুকুম করেছেন আমানতকে তার উপযুক্ত ব্যাক্তি,মালিকের কাছে ফিরিয়ে  দেওয়ার।

অপর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ 
قال اللّٰہ تعالیٰ: {اِنَّ اللّٰہَ لَا یُحِبُّ الْخَآئِنِیْنَ} [الأنفال، جزء آیت: ۵۸]
নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা আমানতের খিয়ানত কারীদের পছন্দ করেননা।   

হাদীস শরীফে এসেছেঃ   
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا لا يحل مال امري  إلا بطيب نفس منه
যার সারমর্ম হলো রাসুল সাঃ বলেন যে কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যাতিত তাদের সম্পদ ব্যবহার করা জায়েজ হবেনা।
সুতরাং তাদের সন্তুষ্টচিত্তে হলে এটা জায়েজ,অন্যথায় এটা জায়েজ নয়।         


আরেক হাদীসে এসেছেঃ 
عن أبي جحیفۃ عن أبیہ رضي اللّٰہ عنہ قال: آخی النبي صلی اللّٰہ علیہ وسلم بین سلمان وأبي الدرداء، … فقال لہ سلمان: … فأعط کل ذي حق حقہ۔ (صحیح البخاري، کتاب الأدب / باب صنع الطعام والتکلف للضیف ۱؍۲۶۴ رقم: ۶۱۳۹ دار الفکر بیروت)
যার সারমর্ম হলো প্রত্যেককে তার হক পুরোপুরি ভাবে ফিরিয়ে দিতে হবে।   

অন্যত্রে রাসুল সাঃ বলেনঃ 
عن عبد اللّٰہ رضي اللّٰہ عنہ قال: قال رسول اللّٰہ صلی اللّٰہ علیہ وسلم: من غشنا فلیس منا والمکر والخداع في النار۔ (المعجم الکبیر للطبراني ۱۰؍۱۳۸ رقم: ۱۰۲۳۴)
যে ধোকা দেয়,সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...