0 votes
17 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (66 points)
edited by

১) পূর্বের ফতোয়াতে আপনারা বলেছেন

""তবে যে সব গেমসে কোনো জীবজন্তুর ছবি এবং উল্লেখিত গোনাহর বিষয়গুলো থাকে না। যেমনবিমানহুণ্ডাহেলিকপ্টাররকেটনৌযানসাবমেরিনগাড়ীজাহাজচন্দ্রগ্রহনক্ষত্র ইত্যাদি। অথবা জীবজন্তু হলেও খুব ছোট কিংবা অস্পষ্ট হওয়ার কারণে নাককানচোখমুখ ইত্যাদি বুঝা যায় যায় নাবরং এগুলোকে কেবল নকশার মতো মনে হয়। সেসব গেমস কিছু শর্ত সাপেক্ষে বিনোদন লাভের উদ্দেশ্যে খেলা জায়েয আছে। শর্তগুলো হলো-১. তাতে জুয়া থাকতে পারবে না। ২. নামাজ নষ্ট হতে পারবে না। ৩. বান্দার হক নষ্ট হতে পারবে না। ৪. লেখাপড়া ও জরুরি কাজে কোনো ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়তে পারবে না। ৫. খেলায় একেবারে বিভোর হওয়া যাবে না।

এসব শর্তের কোনো একটি শর্ত অনুপস্থিত থাকলে এজাতীয় গেমসও খেলা জায়েয হবে না। (মাহমুদিয়া : ১৭/৩১৮)""

 

 এখানে যে গেম খেলি শেখানে সবগুলা শর্তই মানা সম্ভব। কিন্তু আপনি বলেছেন জীবজন্তুর ছবি থাকা যাবে না।আমি যে গেম খেলি সেখানে জীবজন্তুর সরাসরি ছবি থাকে না কার্টুন আকারে থাকে তবে এখানে বেপর্দা নারীর ছবি বন্ধ করা যায়, মিউজিক বন্ধ করা যায় এবং কোন অশ্লীল দৃশ্য নাই।আর এই কার্টুন স্থির থাকে না অর্থাৎ গেমের কার্টুন ছবি আকারে না ভিডিওর মত থাকে। এমতাবস্থায় কেবল বিনোদনের জন্যে উল্লিখিত শর্ত মেনে গেম খেললেও কি হারাম হবে?

 

২)এর আগে ফুটবল গেম খেলা নিয়ে জানতে চেয়েছি আপনি সেটা বলেছেন হারাম হবে না তবে মাকরুহ হবে।কিন্তু আমি একটা তথ্য দিতে ভুলে গেছি তাহলো ফুটবল গেমে খেলোয়াড় কার্টুন হলেও কার্টুন গুলোর হাঁটু দেখা যায়। অর্থাৎ ওপর পুরুষের সতর দেখা যায়।তাহলে কি তা হারাম হবে?

 

৩)কেউ যদি হারাম কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলে বা আল্লাহর উপর ভরসা রাখে তাহলে কি কুফরী হবে?

 

৪)আরেকটা গেম আছে সেখানে একটা খেলোয়াড় গোল দিলে আকাশের দিকে তাকিয়ে দুই আঙ্গুল তুলে। বাস্তব জীবনেও সেই প্লেয়ার গোল দিলে আকাশের দিকে তাকিয়ে দুই আঙ্গুল তুলে। শেই প্লেয়ার বাস্তব জীবনে অমুসলিম।এখানে সে হয়তো দুই আঙ্গুল তুলে তারা যে তথাকথিত ঈশ্বরে বিশ্বাস করে তার কৃতজ্ঞতা জানায় যদিও আমি বিষয়টা নিশ্চিত না। অনুরূপভাবে গেমে ওই প্লেয়ার গোল দেয়ার পর একই কাজ করে আমি স্কিপ করি নাই।আগে এ নিয়ে কোনো জ্ঞান ছিল না।আমার আজকে এরপরে মনে হয় যে এটা আমার ভুল হইছে আমার স্কিপ করা উচিত ছিল।তারপর থেকে আমার অনুতপ্ত অনুভাব হচ্ছে।এখন আমার কি ঈমান ঠিক আছে?আমি কখনোই কুফরী বিশ্বাস রাখি নাই সবসময়ই আমি আল্লাহ্ করি রব হিসেবে মানি

 

৫)বন্ধুবান্ধব একে অপর মজা করার সময় বাংলা বা ইংলিশ বানান/বাক্য জানা সত্বেও ভুল বানান/বাক্য লেখে।তবে কোনো মিথ্যা কিছু না লিখলে এতে কি গুনাহ হবে?

এরকম মজা করে লেখতে গিয়ে কেউ যদি বানান জানা সত্ত্বেও good কে god লেখে তাহলে কি কুফরী হবে?(অন্তরে কোনো কুফরী নিয়ত না থাকলে)

বি দ্রঃ যে লিখেছে সে শরীয়তের এই বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞ

 

১)আমার মা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল যে আমি কি করছি।আমি তখন উত্তরে বলেছিলাম কুরআন পড়ছি।আমি কুরআন এ আয়তুল কুরসী পড়ছিলাম।আমি যখন আমার মাকে কুরআন পড়ার কথা বলি তখন মূলত ধারাবাহিক পড়ার কথাই বুঝাই। তাহলে এখন কুরআন পড়লেও যেহেতু নির্দিষ্ট একটি আয়াত পড়ছিলাম আমার বলা এই কথাটি কি মিথ্যা হয়েছে?

আর আমি এটা বলার সময় হারাম মনে করে বলি নাই এটা যদি মিথ্যা হয়ে থাকে তাহলে কি আমার ঈমান থাকবে?

1 Answer

0 votes
by (255,440 points)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
ইসলাম এ বিষয়ে জোর দেয় যে,মানুষ তার জীবনের প্রতিটি মূহূর্ত এমন কাজে ব্যয় করবে যাতে দুনিয়া ও আখেরাতের নিশ্চিত কল্যাণ রয়েছে।কমপক্ষে যেন দুনিয়া ও আখেরাতের কোনো ক্ষতি না হয়।এ জন্যই কোরআনে কারীমে মু'মিনদের উত্তম ও প্রশংসনীয় গুনাবলীর আলোচনা করতে যেয়ে বলা হয়,
ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢْ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻠَّﻐْﻮِ ﻣُﻌْﺮِﺿُﻮﻥَ
যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত,
(মু'মিনুন-৩)
ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻣَﺮُّﻭﺍ ﺑِﺎﻟﻠَّﻐْﻮِ ﻣَﺮُّﻭﺍ ﻛِﺮَﺍﻣًﺎ
এবং যখন অসার ক্রিয়াকর্মের সম্মুখীন হয়, তখন মান রক্ষার্থে ভদ্রভাবে চলে যায়।
(ফুরকান-৭৩)

লাহব কাকে বলে?
اللهو: ما يشغل الإنسان عما يعنيه و يهمه (مفردات القرآن للإمام الراغب)
অর্থাৎ-যে সকল বস্তু মানুষকে লক্ষণীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী থেকে অমনোযোগী করে দেয় তা হলো "লাহব"।

اللعب :لعب فلان اذا كان فعله غير قاصد به مقصدا صحيحا
অর্থাৎ- খেলাধুলা ঐ সকল কাজ যাতে সঠিক কোন উদ্দেশ্য থাকে না।
اللغو: وهو كل سقط من قول او فعل فيدخل فيه الغناء واللهو و غير ذلك مما قاربه
অর্থাৎ- লাগু ঐ সকল অনর্থক কথাবার্তা ও কাজ-কর্ম যাতে গান-বাদ্য রং তামাশা ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
(কুরতুবি:১৩/৮০)

উল্লেখিত আয়াত ও হাদীস সমূহ থেকে বুঝা গেল যে, ইসলামী শরীয়তে সময়ের প্রতি যত্নশীল হওয়া ও লক্ষস্থির জীবন গঠনের নির্দেশ হয়েছে।
খেলাধুলা ও রং তামাশা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।কিন্তু বিনোদন নয়;বরং বললে ভুল হবে না যে,যেই বিনোদনের অর্থ হলো আনন্দ ও খুশি লাভ করা। শরয়ী আনন্দ সম্ভলিত সেই বিনোদন ইসলামে কেবল অনুমোদিতই নয়;বরং এক পর্যায়ে প্রশংসনীয় ও বটে।যাতে করে শারিরিক অলসতা ও অবসাদ কেটে যায় এবং মনোবল ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয় আর মানুষ প্রফুল্লতার সাথে জীবনের শ্রেষ্ঠ লক্ষ্য অর্জনে মনোযোগী হতে পারে।
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/673

সু-প্রিয় পাঠকবর্গ ও প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১)
জ্বী, এটাও হারাম হবে।
(২)
জ্বী,হারামের আওতাধীন হবে।
(৩)
হারাম কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা নিষেধ বা আল্লাহর সাথে মশকারি করা হয়, এটা জানার পরও যদি কেউ বিসমিল্লাহ্ বলে,তাহলে এটা অবশ্যই কুফরি। না জেনে বললে, বা মুখ ফসখে বের হয়ে গেলে তা কুফরি হবে না।
(৪)
আপনি তাওবাহ করেন।তবে আপনার ঈমানে কোনো সমস্যা হবে না।
(৫)
এমন কোনো বাক্য লিখলে,যা দ্বারা আল্লাহর সাথে শরীক করা বুঝায়, এমন কোনো বাক্য লিখলে, তা অবশ্যই কুফরি হবে, নতুবা কুফরি হবে না।
(৬)
না, এটা মিথ্যা হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...