0 votes
120 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (33 points)
closed by

আস সালামু আলাইকুম,
আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার এবং আমি কন্টিনিওয়াসলি ই শেখার মাঝে থাকি। এখন শেখার জন্যে আমি যেটা করি সেটা হচ্ছে, আমি প্রায় সবকিছুই অনলাইন থেকে বিভিন্ন কোর্স বা টিউটোরিয়াল দেখে কাজ শিখি। ইউটিউব বা ফ্রি সোর্সে ভালো মানের কোর্স-টিউটরিয়াল তেমন পাওয়া যায় না বিশেষ করে যখন প্রোজেক্ট ভিত্তিক কিছু শিখতে হয়। তাই বিভিন্ন পেইড কোর্সগুলো আমি টরেন্ট থেকে বাঁ যারা পেইড কোর্সগুলো কিনে ফ্রি তে শেয়ার করে দেয়(তারা কোন উপায়ে কিনে তা আমার ঠিক জানা নেই) তাদের থেকে ডাউনলোড করে সেগুলো শিখি এবং আমার কাজ শেখার ৪০-৫০% কাজ ই শেখা হয়েছে এদের থেকে। এখন এখানে আমার কয়েকটি প্রশ্ন,
১। এভাবে কাজ শেখা কি জায়েজ বাঁ হালাল?
২। এই ডাউনলোড করা কোর্সের দ্বারা কি আমি বান্দার হক নষ্ট করছি আর করলে আমার এখন কি করা উচিত?
৩। এইভাবে শেখা কাজের মাধ্যমে আমি যদি কোন চাকরী তে যুক্ত হয়ে উপার্জন করি তবে সেই টাকা কি হালাল হবে?
উল্লেখ্যঃ কোর্সগুলো কেনার সামর্থ প্রায় ই আমার থাকে না আবার থাকলেও তাদের পেমেন্ট করার মতো কোন ব্যবস্থা আমার কাছে নেই। এবং আরো একটা বিষয় আমি বলেছি যে আমি জানি না তারা কি ভাবে কোর্সগুলো কালেক্ট করে ফ্রিতে বিতরণ করে। কিন্তু এখানে একটা বিষয় বলা দরকার যে , যেখানে এই কোর্সগুলো ফ্রিতে দেয়া হয় সেখান আপলোড সময়ের মধ্যে আমি একটা বিষয় লক্ষ্য করেছি যে তারা এমন সময় বা এমন সময়ের পরে এটা আপলোড করে যখন কোর্সগুলো সাময়িক সময়ের জন্যে ফ্রি(ডিসকাউন্ট) দেয়া হয়।
closed

1 Answer

+1 vote
by (32.1k points)
selected by
 
Best answer

বিসমিহি তা'আলা

ওয়া আলাইকুম আসসালাম।

জবাবঃ-

১.

হুকুকে মুজাররাদাহ বা স্বত্বকে সংরক্ষণ করে রাখা জায়েয।যেমন কেউ কিছু আবিস্কার করল বা কোনো গ্রন্থ প্রকাশ করল।এ জাতীয় বিষয় সমূহের মালিকানাকে উন্মোক্ত না করে নিজের জন্য রেখে দেওয়া জায়েয।সুতরাং এ সমস্ত জিনিষ কে কপি করে প্রচার-প্রসার করা মানে উক্ত ব্যক্তির হক্ব-কে নষ্ট করা।অর্থাৎ কপি করে প্রচার প্রসার করা জায়েয হবে না।

সুতরাং সংরক্ষিত ঐ ভিডিও গুলো যদি -ফ্রি ডাউনলোড অফর- থাকা কালিন সময়ে তারা ডাউনলোড করে থাকে, তাহলে সেগুলো আপনি দেখতে পারবেন।কেননা যেহেতু তারা ঐ ভিডিওগুলোকে ফ্রি-তে দিয়ে দিয়েছে তাই অবশ্যই সেটার প্রচার প্রসারে তাদের কোন প্রকার বিধিনিষেধ থাকবে না।কেননা হয়তো তারা প্রচার প্রসারের উদ্দেশ্যেই এগুলোকে ফ্রি করে দিয়েছে।

আর যদি কেউ টাকা দিয়ে কিনে নিজে প্রথমে দেখে তারপর কম্পানির অনুমোদন ছাড়াই সেগুলোকে ভাইড়াল করে দেয় তাহলে এগুলো দেখা জায়েয হবে না।

আরো জানতে ক্লিক করুন-294

মাইক্রোসফট বিষয়ক একটি ফাতাওয়া আমাদের এখান থেকে দেয়া হয়েছে,সেটা বহুজাতিক ভিন্ন কারণে বিভিন্ন দারুল ইফতার ফাতাওয়ার অনুসরণে কিছু শর্তের মাধ্যমে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-196

২.

যদি ফ্রি অফার কালিন সময়ের ভিডিও না হয়ে থাকে তবে বান্দার হক্ব নষ্ট হয়েছে।এক্ষেত্রে মূলত বান্দার হক নষ্ট হয়েছে ঐ ব্যক্তির দ্বারা যে ঐ গুলোকে ভাইড়াল করেছে এবং আপনার নিকট পর্যন্ত পৌছিয়ে দিয়েছে।তারপর হয়তো আপনার।

আপনি ইস্তেগফার করুন।সম্ভব হলে ঐ ভিডিও এর বাজার মূল্য পরিমাণ টাকা তাদেরকে ফিরিয়ে দিন বা তাদেরকে খুশী করার চেষ্টা করুন।

৩. আপনি কাজ যেভাবেই শিখে থাকেন না কেন,এখন আপনি তো কাজের বিনিময়ে টাকা নিচ্ছেন।এখানে উপার্জন হারাম হবে কেন?হারাম হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।যেমন বিদেশে ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর রোজী-রোজগার এর মাস'আলা। মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থা থাকাটা জায়েয না তবে উপার্জন হারাম হবে না।

আল্লাহ তা'আলা ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, IOM.

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

Related questions

...