0 votes
90 views
in Salah (Prayer) by
closed by
Salah
closed

1 Answer

0 votes
by (9.5k points)
selected by
 
Best answer
বিসমিহি তা'আলা

১ম পৃষ্টা-

ভূমিকাঃ

পারিভাষিক কিছু শব্দের বিশ্লেষণ

রাফউল ইয়াদাঈনঃ
তাকবীর বলার সাথে সাথে দুনু কানের লতি পর্যন্ত বা কাধ পর্যন্ত হাতদ্বয় উত্তোলন করাকে রাফউল ইয়াদাঈন বলা হয়।

তাকবীরে যাওয়াঈদঃ দুনু ঈদের সময় অতিরিক্ত যে তাকবীর সমহ দেয়া হয়,তাকে তাকবীরে যাওয়াঈদ বলা হয়।

তাকবীরে তাহরিমাঃ

নামায শুরু করার সময় যে তাকবীর দেয়া হয় তাকে তাকবীরে তাহরিমা বলে।

তাকবীরে ইন্তেকালঃ নামাযের এক রুকুন/অবস্থান থেকে ভিন্ন রুকুনে যেতে যে তাকবীর সমূহ দেয়া হয়, তাকে তাকবীরে ইন্তেকাল বলে।

সনদঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃ পর্যন্ত যে ধারাবাহিক সূত্রে হাদীস বর্ণিত হয় তাকে সনদ বলা হয়।

মূল আলোচনাঃ

রাফয়ে ইয়াদাঈন সম্পর্কে পক্ষে বিপক্ষে উভয় রকম হাদীস দেখতে পাওয়া যায়।যেমন,

(পক্ষে)

হযরত ইবনে উমর রাযি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ : ( ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺮْﻓَﻊُ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﺣَﺬْﻭَ ﻣَﻨْﻜِﺒَﻴْﻪِ ﺇِﺫَﺍ ﺍﻓْﺘَﺘَﺢَ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ، ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻛَﺒَّﺮَ ﻟِﻠﺮُّﻛُﻮﻉِ ، ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺭَﻓَﻊَ ﺭَﺃْﺳَﻪُ ﻣِﻦْ ﺍﻟﺮُّﻛُﻮﻉِ ﺭَﻓَﻌَﻬُﻤَﺎ ﻛَﺬَﻟِﻚَ ﺃَﻳْﻀًﺎ ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺳَﻤِﻊَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟِﻤَﻦْ ﺣَﻤِﺪَﻩُ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻭَﻟَﻚَ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ، ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻟَﺎ ﻳَﻔْﻌَﻞُ ﺫَﻟِﻚَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴُّﺠُﻮﺩِ )

তাকবীরে তাহরিমার সময় রাসূলুল্লাহ সাঃ কাধ বরাবর হাতদ্বয় তুলেছেন।এবং যখন রু'কুর জন্য তাকবীর বলেছেন,তখনও হাতদ্বয়(কাধ পর্যন্ত) তুলেছেন।এবং যখন রু'কু থেকে মাথা তুলেছেন তখনও হাতদ্বয় (কাধ পর্যন্ত) তুলেছেন।অতঃপর সা'মি আল্লাহু লিমান হামিদাহ এবং তারপর রাব্বানা লাকাল হামদ বলেছেন।কিন্তু তিনি সেজদায় এমনটা করেননি। তথা কাধ পর্যন্ত হাতদ্বয় তুলেননি।

সহীহ বুখারী-৭৩৫-৭৩৯

সহীহ মুসলিম-৩৯০

(বিপক্ষে)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,

ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﺃَﻻ ﺃُﺻَﻠِّﻲ ﺑِﻜُﻢْ ﺻَﻼﺓَ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ؟ ﻓَﺼَﻠَّﻰ ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﺮْﻓَﻊْ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﺇِﻻ ﻣَﺮَّﺓً .

আমি কি তোমাদেরকে সাথে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাঃ এর মত সালাত পড়ব?

তাহলে চলো!

অতঃপর ইবনে মাসউদ রাযি তাদেরকে সাথে নিয়ে সালাত আদায় করলেন।

প্রথমবার ব্যতীত অার কখনো রাফয়ে ইয়াদাঈন করেননি।

সুনানে আবু-দাউদ;৭৪৮

হযরত বারা' ইবনে আযিব রাযি, থেকে বর্ণিত,

ﻋَﻦْ ﺍﻟْﺒَﺮَﺍﺀِ ﺑﻦ ﻋﺎﺯﺏ ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻛَﺎﻥَ ﺇِﺫَﺍ ﺍﻓْﺘَﺘَﺢَ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﺭَﻓَﻊَ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﺇِﻟَﻰ ﻗَﺮِﻳﺐٍ ﻣِﻦْ ﺃُﺫُﻧَﻴْﻪِ ﺛُﻢَّ ﻟَﺎ ﻳَﻌُﻮﺩُ .

রাসূলুল্লাহ সাঃ যখন সালাত শুরু করতেন, তখন কানের লতি পর্যন্ত হাতদ্বয়কে উত্তোলিত করতেন।

অতঃপর সালাতের ভিতর তা আর কখনো করতেন না।

সুনানে আবু-দাউদ;৭৪৯

২য় পৃষ্টা-

(রাফয়ে ইয়াদাঈন নিয়ে একটি ঐতিহাসিক কথোপকথন)

রাফেয়ে ইয়াদাঈন নিয়ে ইমাম আবু-হানিফা ও ইমাম আওযায়ীর কথোপকথনঃ-

............فَإِنَّ الْأَوْزَاعِيَّ لَقِيَ أَبَا حَنِيفَةَ - رَحِمَهُمُ اللَّهُ - فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ فَقَالَ مَا بَالُ أَهْلِ الْعِرَاقِ لَايَرْفَعُونَ أَيْدِيَهُمْ عِنْدَ الرُّكُوعِ وَعِنْدَ رَفْعِ الرَّأْسِ مِنْ الرُّكُوعِ، وَقَدْ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمْ -: «أَنَّ النَّبِيَّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ عِنْدَ الرُّكُوعِ وَعِنْدَ رَفْعِ الرَّأْسِ مِنْ الرُّكُوعِ»، فَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى - حَدَّثَنِي حَمَّادٌ عَنْ إبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ -: «أَنَّ النَّبِيَّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ عِنْدَ تَكْبِيرَةِ الْإِحْرَامِ، ثُمَّ لَا يَعُودُ».

একদা  ইমাম আবু হানিফা রাহ এর সাথে ইমাম আওযায়ী রাহ এর সাক্ষাৎ হল।তখন ইমাম আওযায়ী রাহ,বললেনঃ ইরাক বাসীর কি হল?

তারা কেন রু'কু তে যাওয়ার সময় এবং রু'কু থেকে উঠার সময় রাফয়ে ইয়াদাঈন করে না?

অথচ আমার কাছে যুহরী রাহ, এবং উনার কাছে সালিম রাহ, এবং উনার কাছে ইবনে উমর রাযি বর্ণনা করেছেন,যে 'রাসূলুল্লাহ সাঃ রু'কু তে যেতে এবং রু'কু থেকে মাথা উঠানোর সময়ে রাফয়ে ইয়াদাঈন করতেন।

ইমাম আবু-হানিফা রাহ এর প্রতিউত্তরে বললেন।

হে ইমাম আওযায়ী!

আমার কাছে হাম্মাদ রাহ, এবং উনার কাছে ইবরাহিম নাখায়ী রাহ এবং উনার কাছে আলক্বামাহ রাহ, এবং উনার কাছে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি, বর্ণনা করেন যে,'রাসূলুল্লাহ সাঃ তাকবীরে তাহরিমার ব্যতীত আর কখনো রাফয়ে ইয়াদাঈন করেননি।

فَقَالَ الْأَوْزَاعِيُّ عَجَبًا مِنْ أَبِي حَنِيفَةَ أُحَدِّثُهُ بِحَدِيثِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ وَهُوَ يُحَدِّثُنِي بِحَدِيثِ حَمَّادٍ عَنْ إبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ فَرَجَّحَ حَدِيثَهُ بِعُلُوِّ إسْنَادِهِ فَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ أَمَّا حَمَّادٌ فَكَانَ أَفْقَهَ مِنْ الزُّهْرِيِّ وَأَمَّا إبْرَاهِيمُ فَكَانَ أَفْقَهَ مِنْ سَالِمٍ وَلَوْلَا سَبْقُ ابْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - لَقُلْتُ بِأَنَّ عَلْقَمَةَ أَفْقَهُ مِنْهُ وَأَمَّا عَبْدُ اللَّهِ فَرُجِّحَ حَدِيثُهُ بِفِقْهِ رُوَاتِهِ وَهُوَ الْمَذْهَبُ؛ لِأَنَّ التَّرْجِيحَ بِفِقْهِ الرُّوَاةِ لَا بِعُلُوِّ الْإِسْنَادِ

তখন ইমাম আওযায়ী রাহ, ইমাম আবু-হানিফা রাহ,এর প্রতি বিস্ময় জ্ঞাপন পূর্বক বলেন,

আমি হযরত সালেম রাহ, এর সনদে যুহরীর হাদীস বর্ণনা করলাম, আর আপনি হযরত হাম্মাদ রাহ, এর সনদে হযরত আলক্বামাহ রাহ,এর হাদীস বর্ণনা করে শুনালেন।তখনই ইমাম আওযায়ী রাহ, তিনি তাহার বর্ণনাকৃত হাদীসকে উচ্ছমানের সনদ বলে দাবী করে বসলেন।

প্রতিউত্তরে ইমাম আবু-হানিফা রাহ,বললেন, হাম্মাদ রাহ, উনি যুহরী থেকে অধিক ফেকাহবিদ।এবং ইবরাহিম উনি সালেম থেকে অধিক ফেকাহবিদ।

যদি ইবনে উমর আগে না আসতেন,তাহলে বলে ফেলতাম যে,আলক্বামাহ ও উনার(ইবনে উমরের) চেয়ে অধিক ফেকাহবিদ।

সুতরা ইবনে মাসউদ রাযি এর বর্ণনাকৃত হাদীসের রাবীগণ বিজ্ঞ ফেকাহবিদ।তাই রাবীগণ বিজ্ঞ ফকীহ হওয়ার ধরুণ উনার হাদীসকে অগ্রগণ্য দেয়া হবে।কেননা অগ্রগামিতা রাবীর ফিকহ সম্পর্কে ধারণার বাস্তবতা দ্বারাই হয়ে থাকে,সনদের উচ্ছতার কারণে হয় না।

فَالشَّافِعِيُّ اعْتَمَدَ حَدِيثَ ابْنِ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - وَقَالَ تَكْبِيرُ الرُّكُوعِ يُؤْتَى بِهِ حَالَةَ الْقِيَامِ فَلْيُسَنَّ رَفْعُ الْيَدِ عِنْدَهُ كَتَكْبِيرَةِ الِافْتِتَاحِ أَلَا تَرَى أَنَّهُ مَحْسُوبٌ مِنْ تَكْبِيرَاتِ الْعِيدِ وَرَفْعُ الْيَدِ مَسْنُونٌ فِي تَكْبِيرَاتِ الْعِيدِ فَكَذَا هَذَا

ইমাম শা'ফেয়ী রাহ,ইবনে উমর রাযি, এর হাদীসকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন,এবং তার উপর আ'মল করেন।এবং বলেন যে, রু'কু তে যাওয়ার সময় হাতদ্বয় উত্তোলন করা সুন্নাত,যেভাবে তাকবীরে তাহরিমার সময় সুন্নাত।তুমি কি দেখনা যে,ঈদের নামাযে রু'কু র তাকবীরকে ঈদের তাকবীরে যাওয়াঈদ সমূহের মধ্যেই গণ্য করা হয়।আর ঈদের তাকবীর সমূহে হাতদ্বয় উত্তোলন করা সুন্নাত।

ঠিক এভাবে এখানেও তথা রু'কু তে যাওয়ার সময় রাফয়ে ইয়াদাঈন করা সুন্নাত।

وَلَنَا أَنَّ الْآثَارَ لَمَّا اخْتَلَفَتْ فِي فِعْلِ رَسُولِ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - يُتَحَاكَمُ إلَى قَوْلِهِ وَهُوَ الْحَدِيثُ الْمَشْهُورُ: «أَنَّ النَّبِيَّ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - قَالَ لَا تُرْفَعُ الْأَيْدِي إلَّا فِي سَبْعِ مَوَاطِنَ عِنْدَ افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ، وَفِي الْعِيدَيْنِ وَالْقُنُوتِ فِي الْوِتْرِ»، وَذَكَرَ أَرْبَعَةً فِي كِتَابِ الْمَنَاسِكِ

হানাফিদের দালিলঃ

যখন রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায পড়ার পদ্ধতি-যা আমাদের পর্যন্ত পরস্পরা বর্ণিত হয়েছে, তাতে যখন আমরা বিরোধপূর্ণ দেখতে পাই।তখন আমরা রাসূলুল্লাহ সাঃ এর ঐ মশহুর হাদিস-যাতে রাসূলুল্লাহ সাঃ নিজে নামায পড়ার পদ্ধতি শিখিয়ে ঘোষনা দিয়েছেন-এর দিকে আলোকপাত করব।

তাতে বর্ণিত রয়েছে যে,

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন,সাতস্থান ব্যতীত হাতদ্বয় উত্তোলন করা যাবে না।যথাক্রমে-

(১)তাকবীরে তাহরিমা(২)দুই ঈদের তাকবীরে যাওয়ায়িদ(৩)বিতিরের নামাযে দু'অায়ে কুনুতের পূর্বে ইত্যাদি।

وَحِينَ رَأَى بَعْضَ الصَّحَابَةِ - رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ - يَرْفَعُونَ أَيْدِيَهُمْ فِي بَعْضِ أَحْوَالِ الصَّلَاةِ كَرِهَ ذَلِكَ فَقَالَ «مَالِي أَرَاكُمْ رَافِعِي أَيْدِيكُمْ كَأَنَّهَا أَذْنَابُ خَيْلِ شَمْسٍ اُسْكُتُوا»، وَفِي رِوَايَةٍ: «قَارُّوا فِي الصَّلَاةِ»،

অতঃপর পরবর্তীতে যখন রাসূলুল্লাহ সাঃ কিছুসংখ্যক ছাহাবায়ে কেরামদেরকে 'রাফয়ে ইয়াদাঈন'করতে দেখলেন,তখন তিনি তা অপছন্দ করলেন,এবং বললেন,তোমাদের কি হল যে,তোমাদেরকে দেখতে পাচ্ছি, তোমরা উদ্ভ্রান্ত ঘোড়ার লেজ ও পা নাড়ানোর মত হাতদ্বয় কে নাড়াচাড়া করছ।তোমরা শান্ত হও।কোনো বর্ণনায় এসেছে,তোমরা প্রশান্তির সাথে নামাযকে গ্রহণ করো।

وَالْمَعْنَى فِيهِ أَنَّ هَذِهِ التَّكْبِيرَةَ يُؤْتَى بِهَا فِي حَالِ الِانْتِقَالِ، فَلَا يُسَنُّ رَفْعُ الْيَدِ عِنْدَهُ كَتَكْبِيرَةِ السُّجُودِ وَفِقْهُهُ مَا بَيَّنَّا أَنَّ الْمَقْصُودَ مِنْ رَفْعِ الْيَدِ إعْلَامُ الْأَصَمِّ الَّذِي خَلْفَهُ وَهَذَا إنَّمَا يُحْتَاجُ إلَيْهِ فِي التَّكْبِيرَاتِ الَّتِي يُؤْتَى بِهَا فِي حَالَةِ الِاسْتِوَاءِ كَالتَّكْبِيرَاتِ الزَّوَائِدِ فِي الْعِيدَيْنِ وَتَكْبِيرِ الْقُنُوتِ وَلَا حَاجَةَ إلَيْهِ فِيمَا يُؤْتَى بِهِ فِي حَالَةِ الِانْتِقَالِ، فَإِنَّ الْأَصَمَّ يَرَاهُ يَنْحَطُّ لِلرُّكُوعِ، فَلَا حَاجَةَ إلَى الِاسْتِدْلَالِ بِرَفْعِ الْيَدِ.

মোটকথাঃ এর অর্থ হল,নামাযের রুকুন বা অবস্থান পরিবর্তনের সময় যে তাকবীর বলা হয়, তাতে রাফয়ে ইয়াদাঈন করা সুন্নাত নয় যেভাবে সেজদায় রাফয়ে ইয়াদাঈন করা সুন্নাত নয়।

রাফয়ে ইয়াদাঈন করার হেকমত তো এটাই যে,পিছনের বধির লোকদেরকে নামাযের বিভিন্ন রুকুন সম্পর্কে জানানো।সুতরা এই জানানো তো দাড়ানো অবস্থায় বিভিন্ন প্রকার রুকুনেই প্রযোজ্য হবে।যেমন,ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীর সমূহ,দু'অা য়ে কুনুতের তাকবীর।

আর এক অবস্থান থেকে অন্য অবস্থায় চলে যেতে যে তাকবীর দেয়া হয়,তাতে রাফয়ে ইয়াদাঈন করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।

কেননা বধির ব্যক্তি ইমাম সাহেব সহ মুসাল্লিয়ানে কেরামদের তো দেখতেছে যে,তারা ঝুকে রু'কু করতেছে।সুতরাং রাফয়ে ইয়াদাঈন করে তাদেরকে অবস্থান পরিবর্তন বুঝানোর কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।

মাবসুত সারখাসী;১/১৪

কোন সাত স্থানে রাফয়ে ইয়াদাঈন করা যায়?

এ সম্পর্কে বিভিন্ন রকম বর্ণনা পাওয়া যায়।যেমন-

হরযত ইবনে আব্বাস রাযি থেকে বর্ণিত,

ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ : ﺗُﺮْﻓَﻊُ ﺍﻟْﺄَﻳْﺪِﻱ ﻓِﻲ ﺳَﺒْﻊِ ﻣَﻮَﺍﻃِﻦَ , ﻓِﻲ ﺍﻓْﺘِﺘَﺎﺡِ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ , ﻭَﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟْﺒَﻴْﺖِ , ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺼَّﻔَﺎ ﻭَﺍﻟْﻤَﺮْﻭَﺓِ , ﻭَﺑِﻌَﺮَﻓَﺎﺕٍ ﻭَﺑِﺎﻟْﻤُﺰْﺩَﻟِﻔَﺔِ , ﻭَﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟْﺠَﻤْﺮَﺗَﻴْﻦِ
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন- সাত স্থানে রাফয়ে ইয়াদাঈন করা যাবে।তাকবীরে তাহরিমায়,বাইতুল্লাহ শরীফ ইস্তেক্ববালের সময়ে,সাফা মারওয়ায়,আরাফাত ও মুযদালিফার ময়দানে,কঙ্কর নিক্ষেপের স্থানে।

হযরত ইবরাহিম নাখায়ী রাহ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,

ﻋَﻦْﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ ﺍﻟﻨَّﺨَﻌِﻲِّ ﻗَﺎﻝَ : ﺗُﺮْﻓَﻊُ ﺍﻟْﺄَﻳْﺪِﻱ ﻓِﻲ ﺳَﺒْﻊِ ﻣَﻮَﺍﻃِﻦَ : ﻓِﻲ ﺍﻓْﺘِﺘَﺎﺡِ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ , ﻭَﻓِﻲ ﺍﻟﺘَّﻜْﺒِﻴﺮِ ﻟِﻠْﻘُﻨُﻮﺕِ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻮِﺗْﺮِ , ﻭَﻓِﻲ ﺍﻟْﻌِﻴﺪَﻳْﻦِ , ﻭَﻋِﻨْﺪَ ﺍﺳْﺘِﻠَﺎﻡِﺍﻟْﺤَﺠَﺮِ , ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺼَّﻔَﺎ ﻭَﺍﻟْﻤَﺮْﻭَﺓِ , ﻭَﺑِﺠُﻤْﻊٍ ﻭَﻋَﺮَﻓَﺎﺕٍ , ﻭَﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟْﻤَﻘَﺎﻣَﻴْﻦِ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟْﺠَﻤْﺮَﺗَﻴْﻦِ
সাতস্থানে রা'ফে ইয়াদাঈন করা হবে।

১/তাকবীরে তাহরিমায়।

২/দু'অায়ে কুনুতের তাকবীরে।

৩/দুনু ঈদের তাকবীরে যাওয়াঈদে।

৪/হাজরে আসওয়াদ চুমু দেয়ার সময়ে।

৫/সাফা মারওয়ার উপরে আরোহনের সময়ে।

৬/আরাফাহর ময়দানে এবং মুযদালাফায়।

৭/কঙ্কর নিক্ষেপের দুই স্থানে

তাহাবী শরীফ;২৪৩৯-২৪৪২

হেদায়ায় বর্ণিত রয়েছে

( ﻭﻻ ﻳﺮﻓﻊ ﻳﺪﻳﻪ ﺇﻻ ﻓﻲ ﺍﻟﺘﻜﺒﻴﺮﺓ ﺍﻷﻭﻟﻰ ) ﺧﻼﻓﺎ ﻟﻠﺸﺎﻓﻌﻲ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ ﺍﻟﺮﻛﻮﻉ ﻭﺍﻟﺮﻓﻊ ﻣﻨﻪ ﻟﻘﻮﻟﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ } ﻻ ﺗﺮﻓﻊ ﺍﻷﻳﺪﻱ ﺇﻻ ﻓﻲ ﺳﺒﻊ ﻣﻮﺍﻃﻦ : ﺗﻜﺒﻴﺮﺓ ﺍﻻﻓﺘﺘﺎﺡ ، ﻭﺗﻜﺒﻴﺮﺓ ﺍﻟﻘﻨﻮﺕ ﻭﺗﻜﺒﻴﺮﺍﺕ ﺍﻟﻌﻴﺪﻳﻦ ، ﻭﺫﻛﺮ ﺍﻷﺭﺑﻊ ﻓﻲ ﺍﻟﺤﺞ { ﻭﺍﻟﺬﻱ ﻳﺮﻭﻯ ﻣﻦ ﺍﻟﺮﻓﻊ ﻣﺤﻤﻮﻝ ﻋﻠﻰ ﺍﻻﺑﺘﺪﺍﺀ ، ﻛﺬﺍ ﻧﻘﻞ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﺰﺑﻴﺮ
তাকবীরে তাহরিমা ব্যতীত রাফয়ে ইয়াদাঈন করা যাবে না।কিন্তু ইমাম শা'ফেয়ী রাহ,রু'কু তে যেতে এবং তা থেকে উঠতে রাফয়ে ইয়াদাঈনের কথা বলে থাকেন।

আমরা রাসূলুল্লাহ সাঃ হাদীসের ধরুণ সীমাবদ্ধ করেছি।কেননা রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,সাতস্থান ব্যতীত অনত্র রাফয়ে ইয়াদাঈন করা যাবে না।

তাকবীরে তাহরিমা, দু'অায়ে কুনুত,ঈদের তাকবীরে যাওয়াঈদ,পরবর্তী চারটি হজ্বে মধ্যে।

তাকবীরে তাহরিমা ব্যতীত যতস্থানে রাফয়ে ইয়াদাঈনের কথা বর্ণিত রয়েছে,তা প্রাথমিকযুগে ছিল,পরিবর্তীতে মানসুখ হয়ে গেছে।

এটাই ইবনে যুবাইর রাযি থেকে বর্ণিত।

ফাতহুল ক্বাদীর;১/৩১০

«لَا تُرْفَعُ الْأَيْدِي إلَّا فِي سَبْعِ مَوَاطِنَ عِنْدَ افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ وَاسْتِقْبَالِ الْبَيْتِ وَالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَالْمَوْقِفَيْنِ وَالْجَمْرَتَيْنِ وَالْقُنُوتِ وَالْعِيدَيْنِ» كَذَا فِيالْكَرْخِيِّ

সাতস্থান ব্যতীত রাফয়ে ইয়াদাঈন করা যাবে না।

১/তাকবীরে তাহরিমায়।

২/বাইতুল্লাহ শরীফের ইস্তেক্ববালের সময়ে।

৩/সাফা-মারওয়ার উপরে আরোহনের সময়ে।

৪/আরাফাহ এবং মুযদালাফায় অবস্থানের সময়ে।

৫/কঙ্কর নিক্ষেপের দুই স্থানে।

৬/দু'অা য়ে কুনুতের তাকবীরে।

৭/দুনু ঈদের তাকবীরে যাওয়াঈদে।

আল-জাওহারাতুন নায়্যিরাহ-১/৫৪

ইতিপূর্বে বিক্ষিপ্তভাবে সাতস্থান নির্ধারণ পূর্বক বিভিন্ন স্থান সম্ভলিত বর্ণনা আমাদের সামনে এসেছে।হাদীসের কিতাব এবং ফিকহে হানাফির বিভিন্ন কিতাবে।

তন্মধ্যে গ্রহণযোগ্য বর্ণনা নিম্নে উল্লেখ করছি------

(ولا يرفع يديه) على وجه السنة(إلا في) سبع مواطن

 يجمعها حروف (فقعس صمعج) لخبر (لا ترفع الأيدي إلا في سبع مواطن) وعددها كما هنا أي: بقاع ولذا حذف التاء وقد أحسن ابن الفصيح إذ نظمها في بيت على الترتيب فقال:

فتح قنوت عيد استلم الصفاء .... مع مروة عرفات الجمرات

সাতস্থানে রা'ফে ইয়াদাঈন করা সুন্নাত।

১/তাকবীরে তাহরিমায়।

২/দু'অায়ে কুনুতের তাকবীরে।

৩/দুনু ঈদের তাকবীরে যাওয়াঈদে।

৪/হাজরে আসওয়াদ চুমু দেয়ার সময়ে।

৫/সাফা মারওয়ার উপরে আরোহনের সময়ে।

৬/আরাফাহর ময়দানে।

৭/কঙ্কর নিক্ষেপের দুই স্থানে

আন-নাহরুল ফায়েক্ব,শরহে কানযুদ্দাক্বায়িক;১/২১৯

সাত স্থান ব্যতীত অন্যত্র রা'ফে ইয়াদাঈন করা মানসূখ।

ফাতাওয়ায়ে দারুল উলূম;২/১৩১

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, IOM.

পরিচালক

ইসলামিক রিচার্স কাউন্সিল বাংলাদেশ
ইসলামিক ফতোয়া ওয়েবসাইটটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত। যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।
...