0 votes
23 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (4 points)
১. মসজিদে পাত্র পাত্রীর সশরীরে উপস্থিত থেকে বিবাহ সম্পাদন ও রেজিষ্ট্রেশন করা উত্তম কিনা?


২. পাত্রী যদি মসজিদে একান্তই সশরীরে উপস্থিত না ই হতে পারে তবে পাত্রীর উকিল হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি হকদার কে? পাত্রীর বাবা?

1 Answer

0 votes
by (203,080 points)
edited by
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
(১)বর্তমান এই ফিতনার সময়ে পাত্রীর জন্য মসজিদে উপস্থিত হওয়া কখনো কাম্য হতে পারেনা। সুতরাং পাত্রীর জন্য মসজিদে উপস্থিত না হওয়াই উত্তম। আর গায়রে মাহরাম পুরুষ থাকলে তখন উপস্থিত হওয়া নাজায়েয। 

(২)https://www.ifatwa.info/1525 নং ফাতাওয়ায় আমরা বলেছি যে,
চার মাযহাব সম্বলীত সর্ব বৃহৎ ফেক্বাহী গ্রন্থ  "আল-মাওসু'আতুল ফেক্বহিয়্যায় " এ বিবাহের ওলী সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।আমি নিম্নে সেই কিতাবের কিছু আলোচনা অর্থসহ উল্লেখ করছি-
ওলীর প্রকারবেধ সম্পর্কে বলা হয়-
ذهب الفقهاء إلى أن الولاية في النكاح بحسب المولى عليه نوعان:
ولاية إجبار: وهي تنفيذ القول بالإنكاح على الغير، أي أن يباشر الولي العقد فينفذ على المولى عليه شاء أو أبى.
وولاية اختيار: أو ولاية ندب واستحباب، أو ولاية شركة، على اختلاف بين الفقهاء في تسميتها.
وليس في هذه الولاية تنفيذ القول على الغير أو إجباره، ومقتضاها أن نكاح المولى عليه يصح بعد أخذ إذنه أو اختياره
বিবাহের ওলী দুই প্রকার যথাঃ-
(ক) ওলায়তে ইজবার তথা ওলী কর্তৃক তার নিয়ন্ত্রনাধীন কাউকে বিয়ে দেয়া,চায় ঐ নিয়ন্তনাধীন ব্যক্তির এ ব্যাপারে ইচ্ছা থাকুক বা না থাকুক।
(খ) ওলায়তে এখতিয়ার- এর ব্যখ্যা হচ্ছে, কাউকে অনুমতি ব্যতীত ওলী বিয়ে দিতে পারবে না। (আল-মাওসুআতুল ফেকহিয়্যাহ-৪১/২৫৯)

বিবাহের জন্য অভিভাবক শর্ত কি না? এ সম্পর্কে চার মাযহাবের ফুকাহায়ে কেরামদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে,
اختلف الفقهاء في كون الولي ركنا من أركان النكاح أو شرطا في صحته أو شرطا في جوازه ونفاذه.فقال المالكية والشافعية: الولي ركن من أركان عقد النكاح، فلا يصح النكاح بدون ولي بشروطه،.............  وقال الحنفية:...................  والولاية في النكاح نوعان:الأول: ولاية ندب واستحباب، وهو الولاية على البالغة العاقلة بكرا كانت أو ثيبا. والثاني: ولاية إجبار، وهو الولاية على الصغيرة بكرا كانت أو ثيبا، وكذا الكبيرة المعتوهة والمرقوقة. وللحنفية في الولاية على البالغة العاقلة أقوال لخصها الكمال فقال: وحاصل ما عند علمائنا في ذلك سبع روايات:وَقَال الْحَنَابِلَةُ: الْوَلِيُّ شَرْطٌ فِي صِحَّةِ النِّكَاحِ، فَلاَ يَصِحُّ نِكَاحٌ إِلاَّ بِوَلِيٍّ،
ভাবার্থ সংক্ষেপে.......মালিকী এবং শাফেয়ী মাযহাব মতে অভিভাবক ব্যতীত বিয়ে শুদ্ধ হবে না।হানাফি মাযহাব মতে, ওলায়ত দুই প্রকার,যথাঃ-(১)মুস্তাহাব ওলায়ত-জ্ঞান সম্পন্ন বালেগা মহিলা চায় বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত হোক (২)ওলায়তে ইজবার নাবালেগা মহিলা,চায় বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত হোক।ঠিক তেমনি বালেগা পাগল মহিলার বিধান।জ্ঞান সম্পন্ন বালেগা মহিলার অভিভাবকত্ব নিয়ে সর্বমোট সাতটি মতামত রয়েছে।হাম্বলী মাযহাব মতেও অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত বিয়ে হবে না।(আল-মাওসুআতুল ফেকহিয়্যাহ-৪১/২৪৭-৪৯)

হানাফি মাযহাব মতে অভিভাবক নাবালক-নাবালিকার বিয়ে তাদের সম্মতি ব্যতীতও দিতে পারবে।তবে ঐ নাবালক-নাবালিকা অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত কোথাও বিয়ে বসতে পারবে না।এবং বিয়ে করলেও সেটা বাতিল বলে গণ্য হবে।কেননা নাবালক থাকার ধরুণ শরীয়ত তাদের কাজকে সমর্থন দিবে না।

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
ওলী বা অভিভাবক উপস্থিত থাকলে উকিলের কোনো প্রয়োজন নাই। বরং ওলীই উকিলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তিনি বিয়েকে সমাপ্ত করে দিতে পারবেন। অর্থাৎ তিনি মেয়ের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ঐ মেয়েকে তিনি যে কারো হাতে বিয়ে দিতে পারবেন। বাবা তার মেয়ের অনুমতি নিয়ে ঐ মেয়েকে তিনি যে কারো নিকট বিয়ে দিতে পারবেন। তখন আর উকিলের কোনো প্রয়োজনিয়তা নাই।  


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...