0 votes
9 views
in সাওম (Fasting) by (24 points)
আসসালামু আলাইকুম।

একটা আপাতদৃষ্টিতে বিপদজনক জিনিস ফেলার জন্য অন্য কাউকে না পাঠিয়ে ভুলে আমি ইতিকাফের কক্ষ থেকে বের হয়ে কয়েক কদম যাই... মনে পরার সাথে সাথে আবার দৌড়ে রুমে চলে আসি। অন্য আরেকজনকে দেই জিনিসটা ফেলতে।

এক্ষেত্রে আমার ইতিকাফ কি ভঙ্গ হয়ে গেছে?
আর হলে কি করবো এখন।

আমি পুরো দশ দিন ইতিকাফ করার নিয়ত করে শুরু করেছিলাম। আর যেটা হয়েছে একদমই ভুলবশত, তাই মনে পড়ার সাথে সাথে চলে এসেছিলাম।

1 Answer

0 votes
by (170,760 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
وَالْمَرْأَةُ تَعْتَكِفُ فِي مَسْجِدِ بَيْتِهَا إذَا اعْتَكَفَتْ فِي مَسْجِدِ بَيْتِهَا فَتِلْكَ الْبُقْعَةُ فِي حَقِّهَا كَمَسْجِدِ الْجَمَاعَةِ فِي حَقِّ الرَّجُلِ لَا تَخْرُجُ مِنْهُ إلَّا لِحَاجَةِ الْإِنْسَانِ كَذَا فِي شَرْحِ الْمَبْسُوطِ لِلْإِمَامِ السَّرَخْسِيِّ. وَلَوْ اعْتَكَفَتْ فِي مَسْجِدِ الْجَمَاعَةِ جَازَ وَيُكْرَهُ هَكَذَا فِي مُحِيطِ السَّرَخْسِيِّ. وَالْأَوَّلُ أَفْضَلُ،
«الفتاوى الهندية» (1/ 211)
মহিলা ঘরের মসজিদে ইতিকাফ করবে। যখন মহিলা ঘরের মসজিদে ইতিকাফ শুরু করবে, তখন সেই জায়গা ঐ মহিলার জন্য জামে মসজিদের সমতুল্য হিসেবে গণ্য হবে। মহিলা ঐ ঘর থেকে মানবিক হাজত ব্যতিত বের হতে পারবে না।( মাবসুত-সারখাসি) মহিলার জন্য জামে মসজিদে ইতিকাফ করা মাকরুহে তাহরিমি। তবে সর্বাবস্থায় ঘরেই ইতিকাফ উত্তম। ( ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/২১১)

ইসলামী শরীয়তে ই‘তিকাফ ৩ প্রকার।
(ক) ওয়াজিব ই‘তিকাফ : ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্যে ওয়াজিব ই‘তিকাফ হলো মানতের ই‘তিকাফ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ وَلۡيُوفُواْ نُذُورَهُمۡ ... ٢٩ ﴾ [الحج: ٢٩]
অর্থাৎ ‘‘তারা যেন তাদের মানৎ পূর্ণ করে।’’ (সূরা হাজ্জ : ২৯)

(খ) সুন্নাত ই‘তিকাফ : রমযানের শেষ ১০ দিনের ই‘তিকাফ। সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। যেমন :

كَانَ رَسُوْلُ اللهِ -صلى الله عليه وسلم- يَعْتَكِفُ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ
‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানে শেষ দশদিন ইতিকাফ করতেন।’ (বুখারী : ২০২৫; মুসলিম : ১১৭২)

(গ) মুস্তাহাব ই‘তিকাফ : উল্লেখিত দু’প্রকার ব্যতীত বাকী সব মুস্তাহাব ইতেকাফ।

ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াতে বর্ণিত রয়েছে,
«وَيَنْقَسِمُ إلَى وَاجِبٍ، وَهُوَ الْمَنْذُورُ تَنْجِيزًا أَوْ تَعْلِيقًا، وَإِلَى سُنَّةٍ مُؤَكَّدَةٍ، وَهُوَ فِي الْعَشْرِ الْأَخِيرِ مِنْ رَمَضَانَ، وَإِلَى مُسْتَحَبٍّ، وَهُوَ مَا سِوَاهُمَا هَكَذَا فِي فَتْحِ الْقَدِيرِ.» 
- «الفتاوى الهندية» (1/ 211)
ইতিকাফ তিন প্রকার যথা- (১) ওয়াজিব ইতিকাফ, যা নযর বা মান্নতের জন্য কারো উপর ওয়াজিব হয়েছে। (২) সুন্নতে মুআক্কাদা ইতিকাফ, তা হল রমজানের শেষ দশ দিনের ইতিকাফ।(৯) মুস্তাহব ইতিকাফ, এছাড়া সকল ইতিকাফকে মুস্তাহব ইতিকাফ বলা হয়। 

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন! 
ভুলে ঘর থেকে বের হয়ে গেলে ইতিকাফ সুন্নত ইতিকাফ ফাসিদ হয়ে যাবে। আপনি চাইলে পরবর্তী সময় পর্যন্ত নফল ইতিকাফ করতে পারবেন। হ্যা একদিনের ইতিকাফ রোযা সহ কাযা করতে হবে। 



(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...