0 votes
68 views
in সাওম (Fasting) by (2 points)
আসসালামু আলাইকুম,
১. কারো যদি পিরিয়ড বা মাসিকের সম্ভাব্য  তারিখ রমজানের ২৮/২৯ তারিখে থাকে, একদিন আগেও হতে পারে একদিন পরেও হতে পারে।
 এরকম হলে রমজানের শেষ দশদিনের ইতিকাফের জন্য সে কি বসতে পারবে?

২. আর দশ দিনের ইতিকাফের নিয়তে বসলে শেষের দিকে অর্থাৎ ৭/৮ দিনের মাথায় পিরিয়ড হলে ইতিকাফ তো ভেঙে যাবে, সে ক্ষেত্রে ২/৩ দিন কাযা ইতেকাফ পরবর্তীতে কিভাবে করবে?

৩. সিজদাতে কি রব্বানা... দিয়ে যে দোআ গুলো শুরু হয় ওগুলো পড়া যাবে?  বা ইস্তেগফার কি পড়া যাবে?

৪. নামাজ শেষে যখন দোআ করি দুই হাত তুলে মাঝে মাঝে খুব কান্না আসে তখন মন চায় সেজদায় গিয়ে কান্না করে দোআ করি, এখন আমিতো নামাজের বাইরে দোআ করছি সে ক্ষেত্রে কি আমার সেজদায় যাওয়া সহিহ হবে? এমনিতেও খারাপ লাগলে কান্না করে দোআ করি তখন খুব সেজদায় গিয়ে আল্লাহর কাছে চাইে মন চায় নামাজের বাইরে এ সেজদা কি সহিহ হচ্ছে?

1 Answer

0 votes
by (203,080 points)
edited by
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
হযরত আয়েশা রাযি থেকে বর্ণিত,
ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻬَﺎ ﺯَﻭْﺝِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻌْﺘَﻜِﻒُ ﺍﻟْﻌَﺸْﺮَ ﺍﻷَﻭَﺍﺧِﺮَ ﻣِﻦْ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﻮَﻓَّﺎﻩُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ، ﺛُﻢَّ ﺍﻋْﺘَﻜَﻒَ ﺃَﺯْﻭَﺍﺟُﻪُ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِﻩِ 
রাসূলুল্লাহ সাঃ ইহকাল ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত রমজানের শেষ দশে এ'তেক্বাফ করতেন।অতঃপর উনার বিবিগণ এ'তেক্বাফ করেন।(সহীহ বোখারী-২০২৬,সহীহ মুসলিম-১১৭২)

আল্লামা কা'সানি রাহ বলেন,
وَلَوْ حَاضَتْ الْمَرْأَةُ فِي حَالِ الِاعْتِكَافِ فَسَدَ اعْتِكَافِهَا
যদি এ'তেকাফ অবস্থায় মহিলার হায়েয চলে আসে তাহলে তার এ'তেকাফ ফাসিদ হয়ে যাবে।
বাদায়ে সানায়ে-২/১১৬

রমজানের শেষ দশে মহিলাদের জন্য এ'এ'তেকাফ করা মুস্তাহাব।(কিতাবুল-ফাতাওয়া-৩/৪৫৯)

মহিলাদের জন্য শর্ত হল,হায়েয নেফাস থেকে পবিত্র থাকা।এ'তেক্বাফের মধ্যখানে যদি হায়েয চলে আসে, তাহলে এ'তেক্বাফ ফাসিদ হয়ে যাবে।কেননা তখন তো উনি আর রোযা রাখতে পারবেন না। পরবর্তীতে কমপক্ষে একদিন রোযা সহ এ'তেক্বাফকে কাযা করে নেবেন।সম্ভব হলে অবশিষ্ট সকল দিনের এ'তেক্বাফকে রোযাসহ কাযা করে নিতেও পারেন।
স্বাভাবত মানুষের যে সমস্ত প্রয়োজন থাকে সেসব প্রয়োজনের স্বার্থে তিনি এ'তেক্বাফ থেকে বের হতে পারবেন।প্রস্রাব পায়খানা,ওজু ফরয গোসল ইত্যাদির জন্য।তবে শীতিলতা অর্জনের নিমিত্তে উনি গোসলে যেতে পারবেন না। বিস্তারিত জানতে
ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/1275


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন!
(১)কারো যদি পিরিয়ড বা মাসিকের সম্ভাব্য  তারিখ রমজানের ২৮/২৯ তারিখে থাকে, একদিন আগেও হতে পারে একদিন পরেও হতে পারে। এরকম হলে রমজানের শেষ দশদিনের ইতিকাফের জন্য উনি বসতে পারেন।কেননা তিনিতো অধিকাংশ বেজোড় রাত্রিতে ইবাদতের সুযোগ পাবেন।

(২)দশ দিনের ইতিকাফের নিয়তে বসলে শেষের দিকে অর্থাৎ ৭/৮ দিনের মাথায় পিরিয়ড হলে ইতিকাফ তো ভেঙে যাবে। সে ক্ষেত্রে পরবর্তীতে কমপক্ষে একদিন রোযা সহ এ'তেক্বাফকে কাযা করে নেবেন। সম্ভব হলে অবশিষ্ট সকল দিনের এ'তেক্বাফকে রোযাসহ কাযা করে নিতেও পারেন।


(৩) সিজদাতে রব্বানা... দিয়ে যে দোআ গুলো শুরু হয় ওগুলো পড়া যাবে।কিংবা ইস্তেগফারও পড়া যাবে।বিস্তারিত জানতে
ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/185

(৪)
নামায ব্যতীত সেজদা করা ও সেজদায় দু'আ করা, বাহ্যিক দৃষ্টিতে এতে কোনো সমস্যা মনে হচ্ছে না। তবে নিয়মিত না করাই উত্তম।এবং সুন্নাত মনে না করাই উচিৎ।(এমদাদুল ফাতাওয়া, ১/৬৪০)
বিস্তারিত জানতে
ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/7843


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (203,080 points)
সংশোধন ও সংযোজন করা হয়েছে

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...