আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
98 views
in সালাত(Prayer) by (3 points)
reshown by
ইশরাকের সালাতের ওয়াক্ত হয় 5টা 50 এর পর। যদি আমি ৫;১০ এ ফজর নামাজ আদায় করে ফেলি৷ বাকি যিকির আযকার যদি খাটে বসে, টেবিলে বসে কুরআন তিলাওয়াত করি তারপর ইশরাকের ওয়াক্ত হলে নামাজ পড়লে তাহলে কি ইশরাকের সালাত আদায় হবে আমার? নাকি ফজর এর সালাত আদায় এর পর সবকিছু জায়নামাজ এ করতে হবে? টেবিলে বসে কুরআন আর যিকির করলে কি গুনাহ হবে?

1 Answer

0 votes
by (632,880 points)


ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
ইশরাকের নামায হল সেই নামায যা সূর্যোদয়ের পর পড়া হয়ে থাকে।
ইশরাকের নামাযই কি দোহার নামায?এ সম্পর্কে মতবেদ রয়েছে। এ সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন-১৯২৯https://www.ifatwa.info/1929

হযরত আনাস রাযি,থেকে বর্ণিত
(مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللَّهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ، كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ ، وَعُمْرَةٍ ، تَامَّةٍ ، تَامَّةٍ ، تَامَّةٍ)
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের নামায পড়বে,অতঃপর সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহর যিকিরে লিপ্ত থাকবে,তারপর দু'রাকাত নামায পড়বে,তাহলে সে একটি হজ্ব ও একটি উমরার সওয়াব পাবে।এরপর তিনি তাকিদ করে বলেন,হ্যা পূর্ণ হজ্ব ও উমরার সওয়াব সে পাবে।(সুনানু তিরমিযি-৫৮৬)

এই হাদীস সম্পর্কে মতবেদ রয়েছে।কেউ কেউ দুর্বল বলেছেন।আবার কেউ কেউ হাসান বলেছেন।
আলবানি রাহ এ হাদীসকে হাসান বলেছেন।

( أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا صَلَّى الْفَجْرَ جَلَسَ فِي مُصَلَّاهُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ حَسَنًا )
রাসূলুল্লাহ সাঃ ফযরের নামাযের পর পপরিপূর্ণ সূর্যোদয়ের পর্যন্ত মুসল্লায় বসে থাকতেন।(সহীহ মুসলিম-৬৭০)উক্ত হাদীসে নামায পড়ার কথা বর্ণিত হয়নি।

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
হাদীসের ভাষ্যমতে উক্ত ফযিলত ঐ ব্যক্তির সাথেই খাস মনে হচ্ছে, যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামাতের সাথে পরে মসজিদে বসে থেকে সূর্যোদয়ের পর ইশরাকের নামায পড়বে। মোটকথা, ফজর ও ইশরাকের সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে জায়নামাযে বসে যিকিরের আ’মলই করতে হবে। এটাই সওয়াব পাওয়ার জন্য জরুরী। (ফজরের সালাত যে স্থানে আদায় করা হবে সে স্থান পরিবর্তন না করাই উত্তম। তবে মসজিদের ভিতর হলে স্থান পরিবর্তন করা যাবে। পুরুষের জন্য এটা জামাতের সাথে নির্দিষ্ট। জামাত চায় মসজিদে হোক বা বাড়িতে হোক। আর নারীরা ফজরের নামায পরবর্তী যদি ঘরোয়া কোনো কাজে লিপ্ত না হয়, বরং ঘরের ভিতরই যিকির আযকারে লিপ্ত থাকে, তাহলে জায়নামাযে থেকে উঠে গিয়ে অন্যত্র বসে যিকির করার পর আবার এসে ইশরাক পড়লেও হাদীসে বর্ণিত ইশরাকের সওয়াব পাবে। তবে এক জায়গায় বসে থাকাটাই উত্তম।

كنز العمال في سنن الأقوال والأفعال(2/ 152):
"من صلى الفجر فقعد في مقعده، فلم يلغ بشيء من أمر الدنيا يذكر الله عز وجل، حتى يصلي الضحى أربع ركعات، خرج من ذنوبه كيوم ولدته أمه".

جامع الأصول في أحاديث الرسول (9/ 401):
"قال رسولُ الله صلى الله عليه وسلم: مَنْ صَلَّى الفجر في جماعة ، ثم قَعَدَ يذكرُ الله ، حتى تطلُع الشمس ، ثم صلى ركعتين ، كانت له كأجر حجة وعمرة ، قال : قال رسولُ الله صلى الله عليه وسلم : «تامة تامة تامة» أخرجه الترمذي."

سنن الترمذي ت بشار (1/ 727):
"عن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من صلى الغداة في جماعة ثم قعد يذكر الله حتى تطلع الشمس، ثم صلى ركعتين كانت له كأجر حجة وعمرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: تامة تامة تامة".

مرقاة المفاتيح(3/982):
"(وعن معاذ بن أنس الجهني) : منسوب إلى قبيلة جهينة مصغرًا. (قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " من قعد) ، أي: استمر (في مصلاه) : من المسجد أو البيت مشتغلًا بالذكر أو الفكر، أو مفيدًا للعلم، أو مستفيدًا، أو طائفًا بالبيت (حين ينصرف) ، أي: يسلم (من صلاة الصبح حتى يسبح) ، أي: إلى أن يصلي (ركعتي الضحى)، أي: بعد طلوع الشمس وارتفاعها (لا يقول) ، أي: فيما بينهما (إلا خيرًا) : وهو ما يترتب عليه الثواب، واكتفى بالقول عن الفعل. (غفر له خطاياه) ، أي: الصغائر، ويحتمل الكبائر (وإن كانت أكثر من زبد البحر ". رواه أبو داود)."(مرقاة المفاتيح 3 / 982 ط: دار الفكر)

الفتوحات الربانية علي الاذكار النواوية (3/64):
"قال في الحرز: (قوله: قعد) أي استمر على حال ذكره سواء كان قائما او قاعدا أو مضطجعا، والجلوس أفضل الا اذا عارضه أمر كالقيام لطواف أو صلاة جنازة أو لحضور  درس  ونحوها."

আরো জানতে ভিজিট করুন- https://www.ifatwa.info/4006


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 336 views
...