আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
115 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (2 points)
আস সালামু আলাইকুম,


আমি একটা ফিৎনায় বার বার সংপৃক্ত হয়ে যাচ্ছি। আমার এক আত্মীয় আমাকে পছন্দ করেন। যখন তিনি এই প্রসঙ্গে জানায় তখন আমি তাকে এভয়েড করা শুরু করি। যদিও তখন দ্বীন থেকে বহু দূরে ছিলাম, কিন্তু নিজেদের আত্মীয়ের মধ্যে আগ্রহী ছিলাম না।
যেহুতু পারিবারিক উঠাবসা ছিলো এবং আগে দ্বীন মেনে চলা হতো না তাই ফ্রী মিক্সিং হতো, সেই সুবাদে আমাদের প্রচুর কথা হতো, একসাথে পারিবারিক ভাবে অনেক জায়গায় ঘুরতে যাওয়া হতো। এইভাবে আসতে আসতে আমিও তার প্রতি দুর্বল হয়ে পরি। কিন্তু আমরা কেউই রিলেশনশিপে যেতে আগ্রহী ছিলাম না, তাই শুধু খোঁজ খবর রাখা হতো।
ঠিক তার কয় এক মাস পরেই আমার ফুপা মারা যান। আমি তার মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে অনুভব করেছি, নিজের জীবনে নানান বিপদ অপদ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। তখন এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। সেই সূত্র ধরেই দ্বীন সম্পর্কে জানার ও মানার চেষ্টা শুরু হয়। আমি সকল নন মাহরামদের সাথেই যোগাযোগ বন্ধ করে দেই। তাকে ব্লক করে দেই, সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হই। তিনি বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করতেন, এখনও করেন কিন্তু আমি তা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করছি।
অনেক বছর পর তিনি আমার গার্ডিয়ান কে জানান যে সে আমাকে বিয়ে করতে চায় কিন্তু আমি কিছু তেই চাই না। কেনো জানো মনে হয় তাকে বিয়ে করলে আমি দ্বীনের দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবো। নিজের পরিবর্তনের পরে জানতে পেরেছি সেও কিনা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন, কিছু পরিবর্তন দৃশ্যমান ও।


আমার চিন্তা হয়, যেই জিনিসের সূত্রপাত হয়েছে হারাম থেকে, যা আমাকে বার বার জুলুমের দিকে ধাবিত করে সেটা কিভাবে নিজের জন্য উত্তম হতে পারে? আমার কেন জানো মনে হয় তার এই পরিবর্তনের বিষয়টা আমার জন্য নেক সুরাতের ধোঁকা!
কিছু মাস ধরে তিনি আবারও যোগাযোগের চেষ্টা করেন, প্রায় চার বছর পর তার সাথে আবার কথা হয় বিয়েকে কেন্দ্র করে, তিনি আমাকে অনেক ভাবে বুঝিয়ে রাজি করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সব শেষে আমি পারিবারিক ভাবে না জানিয়ে দেই। আমার জন্য অন্যথায় পাত্র দেখা হচ্ছে, বিয়ের জন্য চেষ্টা করছি, কিন্তু পরিবার থেকে দ্বীনদার ছেলে দেখছে না! আমি আমার পিতার সাথে নিজে কথা বলেছি, আমার পিতার মতে আমি যেমন দ্বীনদার ছেলে চাই তা কিনা হাজারে ১ মিলে! সব মিলিয়ে আমি হতাশ হয়ে পড়ছি, বিশেষ করে সেই (আত্মীয়র) বিষয় গুলো যখন বার বার সামনে আসে তখন আসওয়াসা অনুভব করি, আগের মতো তাঁকে কেন্দ্র করে বাজে চিন্তা মন-মস্তিষ্কে জাগ্রত হচ্ছে, ভুলে থাকার চেষ্টা করি কিন্তু দেখা যায় আমার নিকটবর্তী মানুষরাই তাকে নিয়ে আলাপ শুরু করে, আমি সব সময় এড়িয়ে চলতে পারছি না। নিকটবর্তী আত্মীয় হওয়ায় পরস্পরের বাসায় যাতায়েত ও হয়।(গার্ডিয়ানরা গেলে আমাকে নিবেই, একা বাসায় রাখবে না)


উল্লেখ্য বিষয়ের ভিত্তিতে নিচের প্রশ্ন: ---


১) দ্বীনদার পাত্রের সাথে দ্রুত বিয়ের জন্য কী কী আমল/কাজ করতে পারি?


২) কিভাবে সকল অশ্লীলতা, যিনা, হতাশা (মনের যিনা, কথার যিনা) থেকে বাঁচতে পারি?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
কোনো মুসলিমের সামনে কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে আল্লাহর কাছে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে নিজ প্রয়োজন চাওয়াকে সলাতুল হাজত বলে।
,
সলাতুল হাজত নামাজের বিশেষ কোনো নিয়ম নেই।

স্বাভাবিক নামাজের মতোই উত্তমভাবে অজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়বেন। 

(চার রাকাতও পড়া যাবে) 
নামাজ শেষে আল্লাহ তাআলার হামদ ও ছানা (প্রসংসা) এবং রাসূল ﷺ এর ওপর দরুদ পাঠ করে নিজের মনের কথা ব্যক্ত করে আল্লাহর নিকট দোয়া করবেন।

এ নামাজ সম্পর্কে এক হাদিসে এভাবে এসেছে–

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَنْ كَانَتْ لَهُ إِلَى اللَّهِ حَاجَةٌ أَوْ إِلَى أَحَدٍ مِنْ بَنِي آدَمَ فَلْيَتَوَضَّأْ وَلْيُحْسِنِ الْوُضُوءَ ثُمَّ لْيُصَلِّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ لْيُثْنِ عَلَى اللَّهِ وَلْيُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ ثُمَّ لْيَقُلْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ أَسْأَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ وَالسَّلاَمَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ لاَ تَدَعْ لِي ذَنْبًا إِلاَّ غَفَرْتَهُ وَلاَ هَمًّا إِلاَّ فَرَّجْتَهُ وَلاَ حَاجَةً هِيَ لَكَ رِضًا إِلاَّ قَضَيْتَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ

অর্থাৎ, আবদুল্লাহ্ ইবনু আবী আওফা থেকে বর্ণিত যে, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন যে, আল্লাহর কাছে বা কোন আদম-সন্তানের কাছে যদি কারো কোন প্রয়োজন হয় তবে সে যেন অজু করে এবং খুব সুন্দরভাবে যেন তা করে। পরে যেন দু’রাকআত নামাজ আদায় করে, এরপর যেন আল্লাহর হামদ করে ও রাসূল ﷺ-এর উপর দরূদ সালামের পর এই দোয়াটি পড়ে:

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ أَسْأَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ وَالسَّلاَمَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ لاَ تَدَعْ لِي ذَنْبًا إِلاَّ غَفَرْتَهُ وَلاَ هَمًّا إِلاَّ فَرَّجْتَهُ وَلاَ حَاجَةً هِيَ لَكَ رِضًا إِلاَّ قَضَيْتَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ

অর্থ- আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি অতি সহিষ্ণু ও দয়ালু, সকল দোষ-ক্রটি থেকে পবিত্র তিনি, মহান আরশের প্রভু। সকল প্রশংসা আল্লাহর, তিনি সারা জাহানের রব। আপনার কাছেই আমরা যাঞ্ছা করি, আপনার রহমত আকর্ষণকারী সকল পূণ্যকর্মের ওয়াসীলায়, আপনার ক্ষমা ও মাগফিরাত আকর্ষণকারী সকল ক্রিয়াকাণ্ডের বরকত, সকল নেক কাজ সাফল্য লাভের এবং সব ধরনের গুনাহ থেকে নিরাপত্তা লাভের। আমার কোন গুনাহ যেন মাফ ছাড়া না থাকে। কোন সমস্যা যেন সমাধান ছাড়া না যায় আর আমার এমন প্রয়োজন যাতে রয়েছে আপনার সন্তুষ্টি তা যেন অপূরণ না থাকে, হে আর রাহমানুর রাহিমীন; হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। (ইবনু মাজাহ ১৩৮৪, তিরমিজী ৪৭৯)

সুতরাং দোয়ার ক্ষেত্রে হাদিস শরিফে বর্ণিত উপরোক্ত দোয়াটি অন্যান্য দোয়ার সাথে নামাজের শেষে বিশেষভাবে পড়া যেতে পারে। তবে পড়তেই হবে–এমন নয়। আপনি আপনার মত করে দোয়া করলেও কোনো অসুবিধা নেই।

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
সালাতুল হাজত আদায় করে আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তিনি যদি কবুল করেন,তাহলে সেক্ষেত্রে সবই সম্ভব।

সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে নিজে পূর্ণ দ্বীন মেনে চলবেন,সালাতুল হাজত আদায় করে আল্লাহর কাছে দোয়া করার পাশাপাশি নিম্নোক্ত লিংক গুলিতে দেয়া  দ্রুত বিবাহের আমল গুলি করার পরামর্শ থাকবে। 

এ সংক্রান্ত জানুনঃ- 

(০২)
দ্রুত বিবাহ করতে হবে।
অন্যথায় লাগাতার রোযা রাখতে হবে। 

আরো করনীয় জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...