আমার মাজায় (পিঠের নিচের অংশে) গুরুতর সমস্যা রয়েছে এবং অনেক সময় প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করি। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পর জানতে পারি যে আমার হাইপারলর্ডোসিস (Hyperlordosis) হয়েছে। হাইপারলর্ডোসিস বলতে বোঝায়;মাজার হাড় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ভেতরের দিকে বাঁকা হয়ে যাওয়া। এর ফলে মাজায় অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ব্যথা, অস্বস্তি ও চলাফেরায় সমস্যা হয়।
ডাক্তার আমাকে জানিয়েছেন যে এই সমস্যাটি পুরোপুরি সারানো কঠিন, তবে নিয়মিত ব্যায়াম, গরম সেক দেওয়া এবং কিছু নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আমি যদি দীর্ঘদিন ধরে ঠিকভাবে ব্যায়াম করি, তাহলে ইনশাআল্লাহ অবস্থার উন্নতি হতে পারে।
আমার পরিবারেও (আম্মু ও আপুদের মধ্যে) এই ধরনের মাজার সমস্যা রয়েছে। একবার আমার অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছিল যে আমি বিছানা থেকে উঠতেই পারছিলাম না। সেদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আমি বিছানায় পড়ে ছিলাম। পরে অনেক কষ্টে ওষুধ খেয়ে, গরম সেক দিয়ে এবং হালকা ব্যায়াম করে কিছুটা সুস্থ হতে পেরেছিলাম।
বর্তমানে আলহামদুলিল্লাহ, আগের মতো অবস্থা খুব খারাপ নয়। তবে এখনও যখন আমি নামাজে রুকু ও সিজদা করতে যাই, তখন মাজার ব্যথা অনেক বেড়ে যায় এবং কষ্ট অনুভব কর, যখনই আমি নামাজের রুকু-সেজদার অবস্থায় যাই, তখন আমার মাজার ব্যথা অনেক বেড়ে যায়,। কিন্তু যখন আমি চেয়ারে বসে রুকু-সেজদা করি, তখন আমার ব্যথা বাড়ে না। আমি সাধারণত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ি, কিন্তু রুকু ও সেজদা চেয়ারে বসে করি।
আমি মাটিতে বসে (নামাজের স্বাভাবিক বসার পজিশনে) অথবা অন্যভাবে বসে নামাজ পড়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তাতে আমার ব্যথা কমে না—বরং অস্বস্তি থেকেই যায়।
অন্যদিকে, যখন আমি আংশিক চেয়ারে বসে নামাজ পড়ি (বিশেষ করে রুকু-সেজদা), তখন আমার ব্যথা তুলনামূলকভাবে অনেক কম থাকে এবং নিয়ন্ত্রণে থাকে।
এখানে একটি বিষয় স্বীকার করছি যে, আমি প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারি না এবং গরম সেকও প্রতিদিন দেওয়া হয় না।
এই অবস্থায় আমার প্রশ্ন হলো—
আমার জন্য সঠিক করণীয় কী? আমি কি চেয়ারে বসে সালাত আদায় করতে পারবো, যেহেতু এতে আমার ব্যথা কম থাকে? আর দাঁড়িয়ে রুকু-সেজদা করলে যেহেতু ব্যথা বেড়ে যায়, সে ক্ষেত্রে শরীয়তের দৃষ্টিতে আমার জন্য কোন পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করা উত্তম হবে?