আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
9 views
ago in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (21 points)
ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ ٱللَّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ

আমার হাজব্যান্ড দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন। আমি আমার হাজব্যান্ডের সঙ্গে সৌদিতে থাকি। আমার ভাসুর ও তার স্ত্রী(রাশিয়া চলে গেছে) আলাদা থাকেন(তাদের সেপারেশন হয়ে গেছে সম্ভবত)। আমার শাশুড়ি অসুস্থ; তিনি সিজোফ্রেনিয়া রোগী।আমার শ্বশুর তার সঙ্গে থাকেন।

আমার হাজব্যান্ড তাদের সেবা-যত্নের জন্য একজন কাজের মহিলা/কেয়ারগিভার রেখেছেন, যিনি ২৪ ঘণ্টা তাদের সঙ্গে থাকেন এবং শাশুড়ীর স্পেশাল ভাবে দেখাশোনা, রান্নাবান্না ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজ করেন।

সম্প্রতি আমার ভাসুর ও তাদের খালার সঙ্গে আমার হাজব্যান্ডের তর্ক হয়। তখন তারা বলেন যে, আমার হাজব্যান্ড বিদেশে বউ বাচ্চা নিয়ে থাকে মায়ের সেবা-যত্ন করছেন না।তিনি আমাকে নিয়ে বিদেশে কেন থাকে,আমাকে পাঠাই দিয়ে মায়ের সেবা কেন করায় না।

আমার বিয়ের পর থেকেই আমার ভাসুর,তার বউ আর তাদের ছোট খালা জেলাস ফিল করে আমাকে আমার হাজবেন্ড কেন উনার কাছে নিয়ে রাখেন।ভাসুর বক্তব্য হচ্ছে তার বউ তিন বছর তার মায়ের সেবা করছে আমি কেন করি না ইত্যাদি। আমরা খারাপ, ইসলাম দেখাই কিন্তু মায়ের সেবা করি নাই।এই ভাসুরই কিন্তু এক পয়সাও সংসারে দেয় না বা বাবা-মায়ের জন্য খরচ দেন না ২০২১ সাল থেকেই(তার ইনকাম কম সেজন্য দিতে পারবেনা বলে দিছে)।আর আমার ঝা আমার শুশুড় বাড়ি থেকে চলে যায় এবং তার হাজবেন্ডকে তালাকনামা পাঠাই দেয়।সে এখন রাশিয়া থাকে একা।আর সে সব সময়েই বলছে তার সংসারে অশান্তি করছে তার শাশুড়ী আর খালা শাশুড়ী। আমার ভাসুর এখনও তাদের কথাই শুনে এবং আমাদের সাথেও অশান্তি করতেছে।ভাসুরের কথা হচ্ছে আমার হাজবেন্ড কেন তার কাছে আমাকে রাখে,মায়ের সেবা করায় না,আমার হাজবেন্ড দেশে গিয়ে শুশুড় বাড়িতে কয়েকদিন ছিল কিভাবে যেখানে সে থাকে নাই শুশুড় বাড়ি তার মা অসুস্থ ছিল দেখে।

এখন আমি হাদিস ও ইসলামের দৃষ্টিতে জানতে চাই:

আমি আর আমার সন্তান যেহেতু আমার হাজব্যান্ডের সঙ্গে থাকি, চাইলেও আমার হাজবেন্ডের বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়া সম্ভব নয়, কারণ আমার হাজব্যান্ডই পুরো সংসার চালান এবং শ্বশুর-শাশুড়ির যাবতীয় খরচ, দেখাশোনা ও চিকিৎসার দায়িত্ব বহন করেন। সৌদি ছেড়ে বাংলাদেশে চলে গেলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে আসলে।

আর আমি মাঝে মাঝে দেশে গিয়ে ৩ মাস, ৬ মাস, কখনো ১ বছর পর্যন্ত থেকেও আসি, আবার আমার হাজব্যান্ডের কাছে ফিরে যাইস্বাভাবিকভাবেই আমি যতটা সম্ভব আমার হাজব্যান্ডের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করি।কারন আমি দুরে থাকলে অসুস্থ হয়ে পড়ি মানসিক ভাবে।আর বাসায় যেহেতু শুশুড় শাশুড়ী থাকে।আমার উওম মাহরাম একমাত্র আমার হাজবেন্ডই।উনি যেভাবে সবকিছুর খেয়াল রাখে উনার সাথে থাকলে,দেশে থাকলে আমার তখন সবকিছুতেই অসহায় ফিল হয়।একাকী লাগে অনেক।আর আমার শশুড় সবকিছুই ফ্রী ভাবে বলতে সম্ভবত পছন্দ করেন। হায়া রেখে কথা বলে না দেখে আমার ভালো লাগেনা,আনইজি ফিল হয়। (মুখ দিয়ে যা আসে তাই বলে যেমন হায়েজ,নারীদের ব্যাক্তিগত কথাবার্তা বলে ফেলে আমার সাথে গল্প করাকালীন)।সেজন্য দেশেও মন টিকে না হাজবেন্ড না থাকলে।আরও অনেক ব্যপার আছে।

এ অবস্থায় আমি আমার হাজবেন্ডের কাছে যে এতে করে কি আমি আর আমার হাজবেন্ড কি গুনাহগার হচ্ছি?আমার হাজব্যান্ড কি কোনোভাবে গুনাহগার হচ্ছেন দেশে অসুস্থ মা আছে দেখে?

হাদিস ও ইসলামের আলোকে বিষয়টি জানতে চাই।

1 Answer

0 votes
ago by (765,780 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/6334/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
স্বামীর জন্য জরুরি হলো স্ত্রীর অধিকার রক্ষা করা,তার সাথে সদব্যবহার করা।
  
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন
ألا واستوصوا بالنساء خيرا، فإنما هن عوان عندكم ليس تملكون منهن شيئا غير ذلك
শোন হে! তোমরা আমার পক্ষ হতে নারীদের প্রতি সদাচরণের উপদেশ গ্রহণ কর। তারা তো তোমাদের কাছে আটকে আছে। তোমরা তাদের কাছ থেকে এছাড়া আর কিছুর অধিকার রাখো না। (জামে তিরমিযী, হাদীস: ১০৮৩

কুরআন মাজীদের ভাষ্য অনুযায়ী বিবাহের অন্যতম প্রধান লক্ষ হলো
لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا
যাতে তোমরা স্ত্রীদের সান্নিধ্যে পৌঁছে (দেহমনের) প্রশান্তি লাভ করতে পার (রূম : ২১)। 

হাদীসে আছে,
إذا دعا الرجل زوجته لحاجته فالتأته، وإن  كانت على التنور
স্বামী যখন নিজ প্রয়োজনে স্ত্রীকে ডাকবে তখন সে যেন তাতে সাড়া দেয়, যদিও সে চুলায় (রান্নার কাজে) থাকে (জামে তিরমিযী, হাদীস : ১১৬০; সুনানে নাসাঈ, হাদীস : ৮৯৭১)।
সুতরাং স্ত্রীর উপর স্বামীর খেদমত আবশ্যক,  

শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা স্ত্রীর জন্য একটি অতিরিক্ত কাজ। এটা তার দায়িত্ব নয়,আবশ্যক নয়, । কিন্তু বর্তমান সমাজে মনে করা হয়, এটা তার অপরিহার্য দায়িত্ব বরং এটিই যেন তার প্রধান দায়িত্ব। 
আমাদের সমাজের আবহমান কালের চলমান রীতি হলো, যৌথ পরিবারগুলোতে পুত্রবধূরা শ্বশুর-শাশুড়ির সেবাযত্ন করে থাকেন। এটাকে পারিবারিক দায়িত্ব হিসেবে মনে করা হয়ে থাকে।
ছেলের জন্য বউ আনাই হয় শ্বশুর-শাশুড়ির সেবার জন্য। এ সবই পরিমিতিবোধের চরম লঙ্ঘন। মা-বাবার সেবা করা সন্তানের দায়িত্ব, পুত্রবধূর নয়। (আল-বাহরুর রায়েক ৪/১৯৩, কিফায়াতুল মুফতি ৫/২৩০)

যদি স্বামীর মা-বাবার খেদমতের প্রয়োজন হয়, তাহলে স্বামীর কর্তব্য হলো তাঁদের সেবা-যত্ন করা। তবে কোনো স্ত্রী যদি সন্তুষ্টচিত্তে স্বামীর মা-বাবার সেবা করেন, এটা তাঁর পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার। এর বিনিময়ে তিনি অনেক সওয়াব পাবেন। তবে এসব করতে আইনত তিনি বাধ্য নন। যদিও কাম্য এটাই যে স্বামীর মা-বাবাকে নিজের মা-বাবার মতো সম্মান ও সমীহের চোখে দেখবেন। তাঁদের মনেপ্রাণে ভালোবাসবেন এবং তাঁদের সেবা করতে পারাকে নিজের জন্য পরম সৌভাগ্য মনে করবেন। অনুরূপ শ্বশুর-শাশুড়িও পুত্রবধূকে নিজের মেয়ের মতো আদর ও খাতির করবেন। তার সুখ-সুবিধার প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখবেন।

শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করার এ রীতি সাহাবায়ে কেরামের জীবনেও দেখা যায়। হজরত কাবশা বিনতে কা’ব বিন মালেক (রা.) ছিলেন হজরত আবু কাতাদা (রা.)-এর পুত্রবধূ। কাবশা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আবু কাতাদা (রা.) [কাবশা (রা.)-এর শ্বশুর] ঘরে প্রবেশ করেন। ঘরে প্রবেশ করে তিনি অজুর পানি খোঁজ করেন। তখন কাবশা (রা.) শ্বশুরকে নিজ হাতে পানি ঢেলে দেন....। (আবু দাউদ, হাদিস : ৭৫)

 মধ্যপন্থা ও পরিমিতিবোধের দাবি হল স্ত্রীর উপর যতটুকু হক আছে সকলের কর্তব্য তাতেই সন্তুষ্ট থাকা। এর অতিরিক্ত ব্যাপারগুলো তার উপর চাপানো ঠিক নয়। হাঁ সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তা করলে ভিন্ন কথা। সে ক্ষেত্রে স্ত্রীর কর্তব্য নৈতিকতাবোধ দ্বারা চালিত হওয়া। 

স্ত্রী তার নৈতিকতার ভিত্তিতে যা করবে তা রান্নাবান্না হোক, শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা হোক বা অন্যকিছু, তা সে যতটুকুই করবে তাকে স্বতন্ত্র মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখতে হবে এবং তাতে তার খুঁত না ধরে বরং তা কৃতজ্ঞতার সাথে নিতে হবে ও সেজন্য তাকে প্রশংসার দাবিদার মনে করতে হবে।

★ইসলামের দিক-নিদের্শনা হচ্ছে বিবাহের পরে স্বামীর প্রথম কতর্ব্য হলো স্ত্রীর জন্য এমন একটি বাসস্থানের ব্যবস্থা করা যেখানে স্ত্রী মানুষের দৃষ্টি থেকে নিরাপদ থাকবে। কেননা পর্দা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান। আর এই বিধান পালন করার জন্য স্বামীর কতর্ব্য স্ত্রীকে সাহায্য করা। সেই সাথে অন্যান্য সকল কষ্ট থেকে স্ত্রীর আরামের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে স্ত্রীকে শ্বশুর ও শাশুড়ির সাথেই থাকতে হবে এমন বাধ্যও করা যাবে না। কেননা এমন কোন অধিকার স্বামীর নেই। তবে এই ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রী উভয়কে সামাজিক অবস্থার উপর বিবেচনা করেও কিছু কাজ করতে হবে।
যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীকে স্বামীর পরিবারের সাথে অথবা অন্য আত্মীয়ের সাথে থাকার কথা বলে কিন্তু স্ত্রী কারো সাথে থাকার কথা রাজি না হয় তাহলে স্ত্রীকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা স্বামীর কতর্ব্য। কেননা স্ত্রীর সকল কিছু রক্ষা করা ও নিরাপদে বসবাস করার দায়িত্ব স্বামীর।

আল্লাহ তাআলা বলেন-

الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ ۚ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ ۚ

পুরুষেরা নারীদের অভিভাবক, ঐ (বিশেষত্বের) কারণে, যার দ্বারা আল্লাহ তাদের কাউকে কারো উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং ঐ সম্পদের কারণে, যা তারা ব্যয় করেছে। সুতরাং সৎ নারীরা হল অনুগত, (স্বামীর) অবর্তমানে (নিজের সতিত্ব ও স্বামীর সম্পদ) রক্ষাকারী, আল্লাহ রক্ষা করার কারণে ... -সূরা নিসা : ৩৪

এখানে  قَوَّامُونَ  -এর তরজমা করা হয়েছে ‘অভিভাবক’। মুফাসসিরীনের ব্যাখ্যামতে তা হচ্ছে, শাসন ও ব্যবস্থায়ন এবং রক্ষা ও নিরাপত্তাবিধানের মাধ্যমে নারীর দেখভাল করা এবং আদেশ ও নিষেধের মাধ্যমে তার অবস্থার সংশোধন করা, যেমন শাসকগণ প্রজাসাধারণের দেখভাল করে। তো পুরুষ হচ্ছে নারীর প্রধান ও উপরস্থ;নারীর শাসক ও সংশোধক, যদি সে বেঁকে যায়।-আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/১৮৮; আহকামুল কুরআন ইবনুল আরাবী ২/৪১৬; তাফসীরে কাশশাফ ১/৫০৫; তাফসীরে ইবনে কাছীর ১/৪৯১

এই আয়াতে স্ত্রীর উপর স্বামীর অভিভাবকত্বের দুটো কারণ বলা হয়েছে : প্রথমত দৈহিক শক্তি-সামর্থ্য ও বিচার-বিচক্ষণতার মতো গুণাবলি, দ্বিতীয়ত মোহরানা ও ভরণ-পোষণের জন্য ব্যয়বহন।

এই আয়াতে ‘পুরুষের ব্যয়কৃত সম্পদ’ মানে স্ত্রীর মোহরানা, খোরপোষ ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ, কুরআন ও সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী যা বহন করা অবশ্যকর্তব্য। এ আয়াত প্রমাণ করে, স্ত্রীর নাফাকা ও খোরপোষ স্বামীর উপর ফরয। -তাফসীর ইবনে কাছীর ১/৪৯২; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/১৮৮

হাদীস শরীফে এসেছে-

عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الأَحْوَصِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ، شَهِدَ حَجَّةَ الْوَدَاعِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَذَكَّرَ وَوَعَظَ فَذَكَرَ فِي الْحَدِيثِ قِصَّةً فَقَالَ " أَلاَ وَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا… أَلاَ وَحَقُّهُنَّ عَلَيْكُمْ أَنْ تُحْسِنُوا إِلَيْهِنَّ فِي كِسْوَتِهِنَّ وَطَعَامِهِنَّ " .

সুলাইমান ইবনু আমর ইবনুল আহওয়াস (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র থেকে বর্ণিতঃ

বিদায় হজ্জের সময় তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। তিনি আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং ওয়াজ-নাসীহাত করলেন। এ হাদীসের মধ্যে বর্ণনাকারী একটি ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ স্ত্রীদের সাথে ভালো আচরণের উপদেশ নাও। ... জেনে রাখ! তোমাদের প্রতি তাদের অধিকার এই যে, তোমরা তাদের উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করবে। (সুনানে তিরমিযী ১১৬৩)

ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াতে রয়েছে-

تجب السكني لها عليه في بيت خال

মর্থার্থ: স্ত্রীর জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা স্বামীর উপর আবশ্যক। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াত, ১/৬০৪)

قَوْلُهُ خَالٍ عَنْ أَهْلِهِ إلَخْ) ؛ لِأَنَّهَا تَتَضَرَّرُ بِمُشَارَكَةِ غَيْرِهَا فِيهِ؛؛ لِأَنَّهَا لَا تَأْمَنُ عَلَى مَتَاعِهَا وَيَمْنَعُهَاذَلِكَ مِنْ الْمُعَاشَرَةِ مَعَ زَوْجِهَا وَمِنْ الِاسْتِمْتَاعِ إلَّا أَنْ تَخْتَارَ ذَلِكَ؛ لِأَنَّهَا رَضِيَتْ بِانْتِقَاصِ حَقِّهَا هِدَايَةٌ )

স্ত্রীকে এমন একটি বাসস্থান দান করা স্বামীর জন্য ওয়াজিব,যা স্বামীর পরিবার থেকে খালি থাকবে,কেননা সে অন্যর উপস্থিতির ধরুণ কষ্ট উপভোগ করবে,এবং তার মাল সামানা পুরোপুরি সংরক্ষিত থাকবে না।তৃতীয় কারো উপস্থিতি স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক জীবন ও একান্ত সময় অতিবাহিত করতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে। এ জন্য একটি পৃথক বাসস্থান স্ত্রীর মৌলিক অধিকার।তবে যদি সে তার নিজ অধিকার বিসর্জন দিতে রাজি হয় যায় তাহলে তার জন্য অনুমিত রয়েছে (যদি এক্ষেত্রে গোনাহের কোনো সম্ভাবনা না থাকে)

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/430
,
ছেলের বউয়ের উপর শশুর শাশুড়ীর হক সংক্রান্ত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরণ মতে আপনি আর আপনার হাজবেন্ড শরীয়াহ দৃষ্টিকোণ হতে গুনাহগার হচ্ছেননা।

আপনার শাশুড়ী যদিও অসুস্থ, কিন্তু এক্ষেত্রে  আপনার হাজব্যান্ড যেহেতু তাদের সেবা-যত্নের জন্য একজন কাজের মহিলা/কেয়ারগিভার রেখেছেন, যিনি ২৪ ঘণ্টা তাদের সঙ্গে থাকেন এবং শাশুড়ীর স্পেশাল ভাবে দেখাশোনা, রান্নাবান্না ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজ করেন।

পাশাপাশি আপনার হাজব্যান্ডই পুরো সংসার চালান এবং শ্বশুর-শাশুড়ির যাবতীয় খরচ, দেখাশোনা ও চিকিৎসার দায়িত্ব বহন করেন।

সুতরাং আপনার হাজব্যান্ড কোনোভাবেই গুনাহগার হচ্ছেননা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...