আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
19 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (34 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ
মুফতী সাহেবের আমাদের প্রতিষ্ঠানের বোর্ডিং সম্পর্কে প্রশ্ন।
আমাদের প্রতিষ্ঠানে ৫০ জন ছাত্র আছেন। যার মধ্যে ২৫ জন ধনী ছাত্র আছেন অর্থাৎ তারা প্রত্যেক মাসে খাবার বাবদ ৩ হাজার টাকা করে দিয়ে থাকেন। আর ২৫ জন গরিব ছাত্র আছেন। যাদের টাকা প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষকের মাধ্যমে এক ধনী ব্যক্তি যাকাত ফান্ড থেকে দিয়ে থাকেন। উক্ত ধনী ব্যক্তি গরিব ছাত্রদেরকে উক্ত যাকাতের টাকা না দিয়ে সরাসরি প্রতিষ্ঠানের ঐ শিক্ষকের হাতে প্রত্যেক মাসে বুঝিয়ে দিন।
অতঃপর উক্ত শিক্ষক উক্ত যাকাতের টাকা প্রতিষ্ঠানের বোর্ডিং ফান্ডে জমা করে দেন।
উল্লেখ্য যে ঐ ২৫ জন গরিব ছাত্র উক্ত শিক্ষককে লিখিত বা মৌখিকভাবে যাকাত গ্রহণের উকিল বানাননি। তবে তিনি যে যাকাত ফান্ড থেকে তাদের খাবারের খরচ দেন এটা সকল ছাত্র জানেন।

আবার উক্ত প্রতিষ্ঠানে ১০ জন শিক্ষক আছেন। যাদের মধ্যে কয়েকজন ধনী শিক্ষক ও কয়েকজন গরিব শিক্ষক আছেন। যারা প্রত্যেকেই প্রতিষ্ঠানের বোর্ডিং থেকে ফ্রি খাবার গ্রহণ করে থাকেন। আবার মাঝে মধ্যে ৫/১০ জন বাইরের মেহমানও মাদ্রাসার বোর্ডিং থেকে খাবার (ফ্রি) খেয়ে থাকেন।
আর প্রতিষ্ঠানে খাবার গ্রহণের পদ্ধতি হলো সবাই একসাথে বড় প্লেটে করে খাবার খান। অর্থাৎ প্রত্যেক প্লেটে ৩/৪ জন করে বসে একসাথে খাবার খেয়ে থাকেন। স্বাভাবিকভাবে কাউকে পৃথকভাবে খাবার দেয়া হয় না। তবে কখনো কখনো হয়তো কোন শিক্ষার্থী বা শিক্ষক নিয়ে থাকেন। আবার মাঝে মধ্যে হয়তো কোন শিক্ষার্থী ১/২ বেলা খাবার গ্রহণ করেন না।

নিম্নে আমার কয়েকটি প্রশ্ন।
১. প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত ধনী ব্যক্তির যাকাত আদায় হচ্ছে কি না? এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানালে ভালো হয়।

২. প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত ১০ জন শিক্ষকের জন্য বোর্ডিং থেকে ফ্রি খাবার গ্রহণ করার শরয়ী হুকুম কি?

৩. বাইরের মেহমানদের জন্য ফ্রি খাবার গ্রহণ করার হুকুম কি?

উল্লেখ্য যে, ২ ও ৩ নং ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া আছে।

1 Answer

0 votes
ago by (765,960 points)
জবাবঃ- 
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 
 
https://ifatwa.info/3492/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
শরীয়তের বিধান অনুযায়ী যাকাত আদায়ের খাত সর্বমোট ৮ টি।
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ 
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۖ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ [٩:٦٠]

যাকাত হল কেবল ফকির, মিসকীন, যাকাত আদায় কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদে হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্যে-ঋণ গ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে, এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। {সূরা তাওবা-৬০}

মোট ৮ ধরণের ব্যক্তিকে যাকাত ও ফিতরা দেয়ার কথা কুরআনে বর্ণিত। যথা-

১- গরীব। যার সম্পদ আছে কিন্তু নেসাব পরিমাণ মালের মালিক নয়।

২- মিসকিন। যার একদমই কোন সম্পদ নেই।

৩- ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কোষাগারের জন্য শরীয়ত নির্দিষ্ট যাকাত আদায়কারী আমেল। এটা ইসলামী রাষ্ট্রপ্রধান দ্বারা নিযুক্ত হতে হবে। নিজে নিজে মনে করে নিলে হবে না। {জাওয়াহিরুল ফিক্বহ-৬/৬৯}

৪- নব মুসলিমদের ইসলামের প্রতি মোহাব্বত বাড়ানোর জন্য উৎসাহমূলক যাকাত প্রদান।

এ বিধানটি রহিত হয়ে গেছে। তাই বর্তমানে কোন ধনী নওমুসলিমকে যাকাত প্রদান জায়েজ নয়। {হিদায়া-১/১৮৪, মাআরিফুল কুরআন-৪/১৭১, তাফসীরে মাযহারী-৪/২৩৫}

৫- দাসমুক্তির জন্য। যেহেতু বর্তমানে দাসপ্রথা নেই। তাই এ খাতটি বাকি নেই।

৬- ঋণগ্রস্তের জন্য।

৭- ফী সাবিলিল্লাহ। তথা আল্লাহর রাস্তায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য। এখন প্রশ্ন হল আল্লাহর রাস্তায় কারা আছে? ফুক্বাহায়ে কেরাম বলেন এতে রয়েছেন-

জিহাদরত মুজাহিদরা। তাদের জিহাদের অস্ত্র ও পাথেয় ক্রয় করার জন্য যাকাতের টাকা গ্রহণ করবে। হজ্বের সফরে থাকা দারিদ্র ব্যক্তির জন্য। ইলমে দ্বীন অর্জনকারী দারিদ্র ব্যক্তির জন্য। {আদ দুররুল মুখতার-৩৪৩, হিদায়া-১/১৮৫, রূহুল মাআনী-৬/৩১৩}

৮- সফর রত ব্যক্তিকে। যার টাকা পয়সা আছে বাড়িতে। কোন সফর অবস্থায় অসহায়। তাকে যাকাতের টাকা দেয়া জায়েজ।
,
★★শরীয়তের বিধান হলো ইমাম মুয়াজ্জিনের বেতন হিসেবে যাকাতের টাকা দেওয়া জায়েয নেই।
হ্যাঁ যদি কোনো ইমাম বা মুয়াজ্জিন গরিব হয়,যাকাত গ্রহনের উপযুক্ত হয়,তাহলে আর্থিক সহযোগিতা স্বরুপ তাকে যাকাতের টাকা দেওয়া যাবে।
(কিতাবুন নাওয়াজেল ৭/১১৬)

★হ্যাঁ যদি ইমামের বেতন আলাদা ফান্ড থেকে প্রয়োজন মোতাবেক দেওয়া হয়,এবং ইমাম যদি যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয়,তাহলে কখনো কখনো যাকাতের টাকা দিয়ে ইমাম কে সহযোগিতা করা যাবে।
তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে যাকাতের টাকা যেনো কোনোভাবেই বেতনের অংশ হিসেবে না দেওয়া হয়।
(ফাতাওয়ায়ে  উসমানী ২/১৮৩)
.
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
১, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত ধনী ব্যক্তির যাকাত পুরোপুরি আদায় হচ্ছেনা।

২. প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত ১০ জন শিক্ষকের জন্য বোর্ডিং থেকে ফ্রি খাবার গ্রহণ করা পুরোপুরি হালাল হবেনা।

৩. বাইরের মেহমানদের জন্য ফ্রি খাবার গ্রহণ করা পুরোপুরি হালাল হবেনা।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় যে আপনারা দুটি ফান্ড আলাদা করবেন। খাবার আলাদা করে রান্না করবেন।

যাকাতের টাকা দিয়ে যে খাবার রান্না হবে, সেটা আলাদাভাবে রান্না করে যাকাত গ্রহনের উপযুক্ত ছাত্রদের মাঝে সম্পূর্ণভাবে  বন্টন করে দিবেন। 

আর যারা টাকা দিয়ে খায় সেসব ছাত্রদের খাবার আলাদাভাবে রান্না করে তাদের মাঝে বন্টন করে দিবেন। 

যাকাতের টাকা হতে খাবার গ্রহন যেহেতু শিক্ষকদের জন্য ও বাইরের লোকদের জন্য বৈধ নয়,সেক্ষেত্রে আপনারা একটি পন্থা অবলম্বন করতে পারেন, তা হল আপনারা প্রত্যেক ছাত্রের মাসিক বেতন নির্ধারণ করতে পারেন।

এক্ষেত্রে যেই শিক্ষক ছাত্রদের পক্ষ হতে যাকাতের টাকা গ্রহণ করছেন, তিনি মূলত ছাত্রদের পক্ষ হতে লিখিতভাবে উকিল হয়ে ছাত্রদের পক্ষ হতে টাকা গ্রহণ করবেন।

এমতাবস্থায় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা খাবার বাবদ গ্রহণ করবেন, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বেতন হিসেবে গ্রহণ করবেন।

এক্ষেত্রে যে টাকা খাবার বাবদ গ্রহণ করলেন, সে টাকা হতে খাবার আলাদাভাবে রান্না করে সম্পূর্ণ খাবার যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ছাত্রদের মাঝে বন্টন করে দিবেন।

আর যে টাকা বেতন হিসেবে গ্রহণ করলেন, এই টাকা হতে শিক্ষক ও বাইরের লোকদের খাবার বাবদ ব্যয় করতে পারবেন।
সেই টাকা হতে ধনী ছাত্রদের খাবারের সাথে উক্ত শিক্ষক ও বাইরের লোকদের খাবার একসাথে রান্না করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...