আস্সালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
শ্রদ্ধেয় মুফতি সাহেব,
আশা করি আল্লাহর রহমতে আপনারা ভালো আছেন। আমি ইলমে ফারায়েজ বিষয়ক একটা সমাধান জানাতে চাচ্ছিলাম। নিচে তা উল্লেখ করছি ইনশাআল্লাহ।
আমার নানা ১৯৯৬ সালে ইন্তেকাল করেন। নানার দুই বিয়ে ছিলো। প্রথম নানি, যার গর্ভের একমাত্র মেয়ে সন্তান হলো আমার আম্মা।
দ্বিতীয় নানির গর্ভের একমাত্র ছেলে সন্তান হলো আমার মামা।
সুতরাং নানার ইন্তেকালের পরে তার পরিবারের সদস্যগণ যারা জীবিত ছিলেন তারা হলেন, আমার দুই নানি, মামা ও আম্মা (আম্মার বিয়ে হয় ১৯৯২ সালে)
নানার সর্বমোট জমি বা সম্পদ ছিলো ৪ বিঘা (কিছু কম বেশি হতে পারে, হিসাবের সুবিধার্থে ধরি ৪ বিঘা)
নানা ইন্তেকালের পরে নানিদের পরিবারে অনেক অভাব অনটন আসে পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় (নানার ইন্তেকালের সময় মামার বয়স মাত্র ৬ বছর) তাই কিছু কর্য/ঋণ হয়ে যায় পরিবার ভরণ পোষনের জন্য। তখন পরিবারের সবার সম্মতিতে নানার জমি (৪ বিঘা থেকে) থেকে কিছু অংশ (১০ কাঠা, ১ কাঠা = ২.৫ শতক) বিক্রি করে সেই ঋণ পরিশোধ করা হয়।
এবং এর পরবর্তী সময়ে যখন মামা বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষে পরিণত হয় তখন তিনি নিজের প্রোয়োজনে ১ বিঘা জমি বিক্রি করেন।
এখন আমার প্রশ্ন হলো নানার মোট সম্পত্তি/জমি থেকে আমার দুই নানি, মামা ও আম্মা কতো টুকু করে অংশ পাবেন ইলমে ফারায়েজ অনুযায়ী?
যেমনটা প্রথমে উল্লেখ করেছি যে আমার নানা ১৯৯৬ সালে ইন্তেকাল করেন। এবং আমার প্রথম নানি যিনি আমার নিজের/আপন তিনি ২০০৬ সালে ইন্তেকাল করেন।
এবং আমার শ্রদ্ধেয় আম্মাজান ও ২০২৪ সালে ইন্তেকাল করেন।
আম্মা ইন্তেকালের আগেই মামা আম্মাকে নানার সম্পদ থেকে ১২.৫ শতক জমি দেয় রাস্তার পাশে যেটার তৎকালীন মুল্য ছিলো ১ লাখ ২০ হাজারের মতো প্রতি শতক। এখন বর্তমান মুল্য ধরলে ২ লাখ হবে প্রতি শতকে।
আম্মাকে এই জমি দেয়ার পরে মামা আম্মাকে প্রস্তাব দেয় যে "তোকে যেহেতু দামি বা রাস্তার পাশের জমি দিলাম তাই বাবার সম্পদ থেকে তুই আর চাইস না আমার থেকে এটাতেই খুশি থাক" তখন আম্মা লজ্জা পেয়ে যান। পরে কোনো এক সময় লজ্জা মাথায় নিয়ে সাহস করে মামা কে বলেন "তুই আমাকে আরো ১২.৫ শতক জমি দে যেটা খাল বা আবাদি জমি দিলেও হবে"
তখন মামা রাজি হন এবং সেটা সহ মোট ২৫ শতক জমি(১২.৫ শতকের দাম তৎকালিন মানে প্রায় ১০ বছর আগে ছিলো প্রতি শতক ১ লাখ ২০ হাজার করে, এখন প্রতি শতক ২ লাখ করে। দ্বিতীয় ১২.৫ শতক তৎকালীন মুল্য ছিলো ৫০-৬০ হাজার কাঠা, এখন মুল্য ১ লাখ প্রতি শতক) আম্মাকে দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন বা ইত্যাদি কাজ সম্পন্ন করেন।
এখন প্রশ্ন হল উল্লেখিত এই হালত পর্যালোচনা করলে ইলমে ফারায়েজ অনুযায়ী এটা কি ইনসাফ পুর্ণ বা শুদ্ধ হয়েছে? যদি না হয় তাহলে কি আমরা মামা কে বিনয় ও হেকমতের সাথে কোরআন হাদিসের আলোকে এটা অবহিত করতে পারি?
আমার নানা ইন্তেকাল করেছেন (১৯৯৬ সালে)। এবং প্রথম বা আপন নানিও ইন্তেকাল করেছেন (২০০৬ সালে)। আমার আম্মা ইন্তেকাল করেছেন ২০২৪ সালে (তার সন্তান আমরা তিন ভাই ও আমাদের বাবা বেঁচে আছি)। এখন বেঁচে আছেন দিতীয় নানি ও তারই গর্ভের একমাত্র সন্তান মামা।
দয়া করে এটার বিস্তারিত সমাধান জানালে অনেক উপকৃত হবো ইনশাআল্লাহ।