আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
18 views
ago in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (11 points)
edited ago by

আস্সালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।


শ্রদ্ধেয় মুফতি সাহেব,


আশা করি আল্লাহর রহমতে আপনারা ভালো আছেন। আমি ইলমে ফারায়েজ বিষয়ক একটা সমাধান জানাতে চাচ্ছিলাম। নিচে তা উল্লেখ করছি ইনশাআল্লাহ।


আমার নানা ১৯৯৬ সালে ইন্তেকাল করেন। নানার দুই বিয়ে ছিলো। প্রথম নানি, যার গর্ভের একমাত্র মেয়ে সন্তান হলো আমার আম্মা।

দ্বিতীয় নানির গর্ভের একমাত্র ছেলে সন্তান হলো আমার মামা।


সুতরাং নানার ইন্তেকালের পরে তার পরিবারের সদস্যগণ যারা জীবিত ছিলেন তারা হলেন, আমার দুই নানি, মামা ও আম্মা (আম্মার বিয়ে হয় ১৯৯২ সালে)


নানার সর্বমোট জমি বা সম্পদ ছিলো ৪ বিঘা (কিছু কম বেশি হতে পারে, হিসাবের সুবিধার্থে ধরি ৪ বিঘা)


নানা ইন্তেকালের পরে নানিদের পরিবারে অনেক অভাব অনটন আসে পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় (নানার ইন্তেকালের সময় মামার বয়স মাত্র ৬ বছর) তাই কিছু কর্য/ঋণ হয়ে যায় পরিবার ভরণ পোষনের জন্য। তখন পরিবারের সবার সম্মতিতে নানার জমি (৪ বিঘা থেকে) থেকে কিছু অংশ (১০ কাঠা, ১ কাঠা = ২.৫ শতক) বিক্রি করে সেই ঋণ পরিশোধ করা হয়।


এবং এর পরবর্তী সময়ে যখন মামা বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষে পরিণত হয় তখন তিনি নিজের প্রোয়োজনে ১ বিঘা জমি বিক্রি করেন।

এখন আমার প্রশ্ন হলো নানার মোট সম্পত্তি/জমি থেকে আমার দুই নানি, মামা ও আম্মা কতো টুকু করে অংশ পাবেন ইলমে ফারায়েজ অনুযায়ী?


যেমনটা প্রথমে উল্লেখ করেছি যে আমার নানা ১৯৯৬ সালে ইন্তেকাল করেন। এবং আমার প্রথম নানি যিনি আমার নিজের/আপন তিনি ২০০৬ সালে ইন্তেকাল করেন।


এবং আমার শ্রদ্ধেয় আম্মাজান ও ২০২৪ সালে ইন্তেকাল করেন।


আম্মা ইন্তেকালের আগেই মামা আম্মাকে নানার সম্পদ থেকে ১২.৫ শতক জমি দেয় রাস্তার পাশে যেটার তৎকালীন মুল্য ছিলো ১ লাখ ২০ হাজারের মতো প্রতি শতক। এখন বর্তমান মুল্য ধরলে ২ লাখ হবে প্রতি শতকে।


আম্মাকে এই জমি দেয়ার পরে মামা আম্মাকে প্রস্তাব দেয় যে "তোকে যেহেতু দামি বা রাস্তার পাশের জমি দিলাম তাই বাবার সম্পদ থেকে তুই আর চাইস না আমার থেকে এটাতেই খুশি থাক" তখন আম্মা লজ্জা পেয়ে যান। পরে কোনো এক সময় লজ্জা মাথায় নিয়ে সাহস করে মামা কে বলেন "তুই আমাকে আরো ১২.৫ শতক জমি দে যেটা খাল বা আবাদি জমি দিলেও হবে"


তখন মামা রাজি হন এবং সেটা সহ মোট ২৫ শতক জমি(১২.৫ শতকের দাম তৎকালিন মানে প্রায় ১০ বছর আগে ছিলো প্রতি শতক ১ লাখ ২০ হাজার করে, এখন প্রতি শতক ২ লাখ করে। দ্বিতীয় ১২.৫ শতক তৎকালীন মুল্য ছিলো ৫০-৬০ হাজার কাঠা, এখন মুল্য ১ লাখ প্রতি শতক) আম্মাকে দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন বা ইত্যাদি কাজ সম্পন্ন করেন।


এখন প্রশ্ন হল উল্লেখিত এই হালত পর্যালোচনা করলে ইলমে ফারায়েজ অনুযায়ী এটা কি ইনসাফ পুর্ণ বা শুদ্ধ হয়েছে? যদি না হয় তাহলে কি আমরা মামা কে বিনয় ও হেকমতের সাথে কোরআন হাদিসের আলোকে এটা অবহিত করতে পারি?

আমার নানা ইন্তেকাল করেছেন (১৯৯৬ সালে)। এবং প্রথম বা আপন নানিও ইন্তেকাল করেছেন (২০০৬ সালে)। আমার আম্মা ইন্তেকাল করেছেন ২০২৪ সালে (তার সন্তান আমরা তিন ভাই ও আমাদের বাবা বেঁচে আছি)। এখন বেঁচে আছেন দিতীয় নানি ও তারই গর্ভের একমাত্র সন্তান মামা।

দয়া করে এটার বিস্তারিত সমাধান জানালে অনেক উপকৃত হবো ইনশাআল্লাহ।

1 Answer

0 votes
ago by (807,660 points)


ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি থেকে বর্ণিত,
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ فَرَّ مِنْ مِيرَاثِ وَارِثِهِ، قَطَعَ اللَّه ُمِيرَاثَهُ مِنَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেনঃ যে ব্যক্তি তার ওয়ারিছদেরকে মিরাছ প্রদান থেকে পলায়ন করবে (তথা-ওয়ারিছদেরকে মিরাছ থেকে বঞ্চিত করবে) আল্লাহ তা'আলা ক্বিয়ামতের দিন তাকে জান্নাতের মিরাছ থেকে বঞ্চিত করবেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ-২৭০৩)

মৃত্যু পরবর্তী সম্পদকে  আল্লাহ তা'আলা নিজেই বন্টন করে দিয়েছেন।তাই কারো মৃত্যুর পর আল্লাহ তা'আলা প্রদত্ত বিধি-বিধানের আলোকেই তার সম্পদ বন্টন করতে হবে।এক্ষেত্রে কোনো ওয়ারিছকে তার নির্ধারিত অংশ ব্যতীত অতিরিক্ত কিছু দেয়া যাবে না বা তার ওসিয়ত করা যাবে না। জায়েয হবে না।তবে বাকী সমস্ত ওয়ারিছদের সম্মতিতে কোনো এক ওয়ারিছকে সমস্ত সম্পত্তি বা তার নির্ধারিত অংশের চেয়ে বেশী দেয়া যাবে। মৃত্যুর সময় এক তৃতীয়াংশ সম্পত্তিকে ওয়ারিছ ব্যতীত অন্য যে কারো জন্য ওসিয়ত করা জায়েয আছে।সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/343

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
পূর্ণ সম্পত্তির ৮ ভাগের এক ভাগ আপনার দুই নানি পেয়ে যাবেন। অতঃপর অবশিষ্ট সম্পত্তিকে তিনভাগ করে দুই ভাগ আপনার মামা এবং একভাগ আপনার মা পেয়ে যাবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ago by (11 points)
শুকরিয়া উস্তাদ। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুক দুনিয়া এবং আখেরাতে। 

আমার আপন নানির সম্পদের অংশ কি সৎ মামা পাবে? নাকি সম্পুর্নটাই আম্মা নানির সন্তান হওয়ার কারণে পেয়ে যাবে?

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...