আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
3 views
ago in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (1 point)
আস সালামু আলাইকুম,

আমার ২৩+ বছর চলছে, স্কুল জীবন থেকেই এই পাপচক্রে বার বার আটকে যাচ্ছি। আমি সম্পূর্ণ ভাবে হতাশ হয়ে পড়ছি নিজের উপর, আর পারছি না কিভাবে নিজেকে সর্ব অবস্থায় সম্পূর্ণ ভাবে সংযত রাখবো বুঝছিনা।
আমি কখনোই রিলেশনে জোড়াইনি নিজেকে সংবরণ করার চেষ্টা করে গেছি কিন্তু আফসোস হারাম কল্পনা জল্পনা(চোখের জিনা, মনের জিনায়) জড়িয়ে পড়তাম। আমার কোনো প্রকার পর্ণ এডিকশন নেই, কিন্তু গায়রে মাহরামের দিক তাকিয়ে কুচিন্তায় লিপ্ত হতাম, আগে যেহুতু দ্বীন পালন করার চেষ্টাই করতাম না তাই অনেক গায়রে মাহরামের সাথে খোলা মেলা উঠা বসায় অভ্যস্ত ছিলাম, মানে ফ্রী মিক্সিং এবং অপ্রয়োজনীয় কথা বাত্রা হতো। কিন্তু ৪/৫ বছর যাবত চেষ্টা করে যাচ্ছি এই জুলুম ও ফিৎনা গুলো থেকে বেঁচে চলার, যদি ও আমার চেষ্টায় যথেষ্ট কমতি রয়েছে। বলা চলে একদম কিশোর বয়স থেকেই(প্রাপ্ত বয়সে উপনীত) হওয়ার পর থেকেই প্রচণ্ড রকম যৌনো চাহিদা অনুভব করি। কিন্তু হারামে জড়াতে এক প্রকার ভয়, অন্তরের ভেতর থেকে এক প্রকার দ্বিধা কাজ করে তাই আমি কখনোই হস্তমৈথূন করিনি, কিন্তু কোনো না কোনো উপায় নিজের যৌনও চাহিদা কে নিবারণ করেছি। যেমন, কোলবালিশ বা কোনো কিছুর সাহায্যে ঘোষা ঘোষী, ডলা ডলীর মাধ্যমে যত টুক তৃপ্তি লাভ করা যায়। যখনই এমন টা করতাম প্রচণ্ড করম অস্থিরতা কাজ করত, বুঝতাম ঠিক হচ্ছে না কিন্তু আর পারতাম না নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে। এমনও হয়, আমি আল্লাহর নাম সমূহের মধ্য থেকে (আল বাসীর) নামটা বারণ বার স্মরণ করছি যাতে আমি বিরত থাকতে পারি, আবার যখন যৌন আকাঙ্ক্ষা অনুভব করছি ইচ্ছা করেই রুমের দরজা খুলে রাখছি ও নির্জন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছি কিন্তু ঠিকই মাস খানিক পর, এমন কি ১.৫ বছরের মতো সময় ধরে সংযত থাকার চেষ্টা করেও হারাম উপায় চাহিদা মিটিয়েছি। নফল রোজা রাখার চেষ্টা করি, ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি কিন্তু অধিকাংশ সময়ই সালাতের খুশু কুজু নষ্ট হয়। যখনই আমার দ্বারা এমন কোনো পাপ সমূহ হয়ে যায় আমি ভীষণ রকম মানসিক ভাবে ভেঙে পরি, প্রচুর কান্না করতে থাকি, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। কিন্তু দিন শেষে, মাস খানিক বিরত থাকলেও ঠিকই এই কাজে লিপ্ত হয়ে পরি। নিজেকে মাঝের মধ্যে লেবাসধারি, ভণ্ড মনে হয় আমার। যদি সত্যি আল্লাহ কে ভয় করতে পারতাম তাইলে কিভাবে এমনটা করা সম্ভব! আমি প্রতিবার আল্লাহর নিকট ওয়াদা বদ্ধ হই, অনুশোচনা বোধ করি কিন্তু বছর ঘুরতেই আবার সেই পথে হাঁটা দেই। নেককার মানুষদের সাথে পথ চলার চেষ্টা করছি কিন্তু তারপরও অনেক ভাবেই ফিতনায় পতিত হয়ে যাচ্ছি। কয় এক বছর যাবৎই বিয়ের জন্য চেষ্টা করছি কিন্তু এখনও সম্ভব হয়নি। আর যখন অনেক বেশি উত্তেজনা ও অনুশোচনা আঁকড়ে ধরে, তখন নিজের এই কাজকে সম্পন্ন করার জন্য নিজেকে মিথ্যা শান্তনা দেই, সেই ফতোয়ার ভিত্তিতে যে আলেম গণ বলেন হস্তমৈথূন মাকরু। নিজেকে বুঝাই আমিতো আর হস্তমৈথূন করছি না, শুধু ঘষা ঘোষি পর্যন্তই সীমাবদ্ধ আছি,,, যদি ও আমি ভালো করেই জানি তা হারাম কিন্তু তৎক্ষণাৎ কেমন জানো এড়িয়ে চলতে চাই, নিজের সাথে নিজেই প্রতারণায় লিপ্ত হই মাঝের মধ্যে চিন্তা করি ব্যভিচার থেকে তো অন্তত এটা ভালো।

আমি আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচতে চাই, আমি আল্লাহকে হারাতে ভয় পাই, কিন্তু আমি নিজের উপর একদম হতাশ হয়ে পড়েছি, ভেতরটা আমার একদম শূন্য। ঈমানী দুর্বলতা ও তাকওয়ার ঘাটতি অনুভব করছি। আমি আসলে কিভাবে আল্লাহকে প্রকৃত অর্থে ভয়ের মতো ভয় করবো? যাতে আল্লাহর আনুগত্য করা আমার নফসের জন্য সহজ হয়ে যায়?

Please log in or register to answer this question.

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...