আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
6 views
ago in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ উস্তায
প্রশ্ন :০১ -হায়েজ অবস্থায় কি মৃত মহিলা গোসল দেওয়া যাবে? গোসল দেওয়ার মতো আরও অনেক মহিলারা উপস্থিত থাকার পরেও?যদি হায়েজ অবস্থায় মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া হয় এতে কি মৃত ব্যক্তির আজাব হবে এবং যে গোসল দিবে তার কি কোনো আজাব হবে?মৃত ব্যক্তিকে যদি গোসল দেওয়ার সময় পেটে কোনো প্রকার চাপ না দিয়ে ময়লা বের করা নাহয় তাহলে কি গোসল সহীহ হবে?মহিলাদের তো কাফনের ৫কাপড় এখন ৬ কাপড়ে কাফন পড়ালে কি সহীহ হবে?মৃত ব্যক্তির গোসলে যদি ভুল হয় এতে কি মৃত ব্যক্তির আজাব হবে?

প্রশ্ন :০২-সন্তান যদি দুনিয়ায় পাপ করে তাহলে তার জন্য কি মৃত বাবা মায়ের কবরে আজাব হবে?

1 Answer

0 votes
ago by (764,640 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
জাসরাহ বিনতু দিজাজাহ সূত্রে বর্ণিত।

قَالَ: حَدَّثَتْنِي جَسْرَةُ بِنْتُ دَجَاجَةَ قَالَتْ: سَمِعْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا تَقُولُ: جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَوُجُوهُ بُيُوتِ أَصْحَابِهِ شَارِعَةٌ فِي الْمَسْجِدِ، فَقَالَ: «وَجِّهُوا هَذِهِ الْبُيُوتَ عَنِ الْمَسْجِدِ». ثُمَّ دَخَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَمْ يَصْنَعِ الْقَوْمُ شَيْئًا رَجَاءَ أَنْ تَنْزِلَ فِيهِمْ رُخْصَةٌ، فَخَرَجَ إِلَيْهِمْ بَعْدُ فَقَالَ: «وَجِّهُوا هَذِهِ الْبُيُوتَ عَنِ الْمَسْجِدِ، فَإِنِّي لَا أُحِلُّ الْمَسْجِدَ لِحَائِضٍ وَلَا جُنُبٍ» 

 তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে দেখলেন, সহাবাদের ঘরের দরজা মসজিদের দিকে ফেরানো। (কেননা তারা মসজিদের ভিতর দিয়েই যাতায়াত করতেন)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এসব ঘরের দরজা মাসজিদ হতে অন্যদিকে ফিরিয়ে নাও। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় এসে দেখলেন, লোকেরা কিছুই করেননি, এ প্রত্যাশায় যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ব্যাপারে কোন অনুমতি নাযিল হয় কিনা। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে তাদের আবারো বললেনঃ এসব ঘরের দরজা মাসজিদ হতে অন্যদিকে ফিরিয়ে নাও। কারণ ঋতুবতী মহিলা ও নাপাক ব্যক্তির জন্য মসজিদে যাতায়াত আমি হালাল মনে করি না।(সুনানে আবি-দাউদ-২৩২)

فتاویٰ ہندیہ:

"وينبغي أن يكون غاسل الميت على الطهارة كذا في فتاوى قاضي خان، ولو كان الغاسل جنبا أو حائضا أو كافرا جاز ويكره، كذا في معراج الدراية. ولو كان محدثا لا يكره اتفاقا هكذا في القنية."

(كتاب الصلاة،الباب الحادي والعشرون في الجنائز، الفصل الثاني في غسل الميت،1/ 159،ط:دار الفكر)

فتاویٰ شامی:

"(وإذا مات تشد لحياه وتغمض عيناه) ... ويخرج من عنده الحائض والنفساء والجنب.

(قوله ويخرج من عنده إلخ) في النهر وينبغي إخراج الحائض إلخ وفي نور الإيضاح واختلف في إخراج الحائض إلخ"

(كتاب الصلاة،باب صلاة الجنازة،2/ 193،ط:سعید)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
হায়েজ ও নেফাস গ্রস্থ কোনো মহিলার জন্য মৃতদেহকে গোসল করানো মাকরুহ। সুতরাং, যদি মৃতদেহকে গোসল করানোآর জন্য কোনো পবিত্র মহিলা উপস্থিত থাকেন, তবে হায়েজ ও নেফাস গ্রস্থ মহিলার মৃতদেহকে গোসল করানো উচিত নয়। তবে, হায়েজ ও নেফাস গ্রস্থ মহিলা ব্যতীত মৃতদেহকে গোসল করানোর জন্য অন্য কোনো মহিলা উপস্থিত না থাকলে, তিনিও মৃতদেহকে গোসল করাতে পারেন।

যদি হায়েজ অবস্থায় মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া হয় এতে মৃত ব্যক্তির আজাব হবেনা এবং যে গোসল দিবে তার কোনো আজাব হবেনা।

মৃত ব্যক্তিকে যদি গোসল দেওয়ার সময় পেটে কোনো প্রকার চাপ না দিয়ে ময়লা বের করা না হয়,এতে তার শরীরের বাহ্যিক অংশে কোনো নাপাকি দেখা না যায়, তাহলেও গোসল সহীহ হবে।

মহিলাদের তো কাফনের ৬ কাপড়ে কাফন পড়ালেও তাহা নাজায়েজ হবেনা।

মৃত ব্যক্তির গোসলে যদি ভুল হয় এতে মৃত ব্যক্তির আজাব হবেনা।

(০২)
সন্তানদেরকে ইসলামী সভ্যতা  (তাহযীব) শেখানো, দ্বীন ও শরীয়তের মৌলিক বিষয়াদি শেখানো এবং একজন দ্বীনদার-নামাযী ও প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাও মা-বাবার দায়িত্ব ও কর্তব্য। 

হাদীস শরীফে এসেছে- ‘জেনে রেখ, তোমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। পুরুষ তার পরিবারবর্গের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। তাদের ব্যাপারে তাকে জবাবদিহি করতে হবে।’ -সহীহ বুখারী ১/২২২ হাদীস ৮৯৩

সুসন্তান যেমন মা-বাবার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের বড় সম্পদ এবং সদকা জারিয়া তেমনি সন্তান যদি দ্বীন ও শরীয়তের অনুগত না থাকে, দুর্নীতি ও গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায় তাহলে সে উভয় জগতেই মা-বাবার জন্য বিপদ। দুনিয়াতে লাঞ্ছনা, বঞ্চনা ও পেরেশানির কারণ। আর কবরে থেকেও মা-বাবা তার গুনাহর ফল ভোগ করতে থাকবে। আখিরাতে এই  আদরের দুলালই আল্লাহ তাআলার দরবারে মা-বাবার বিরুদ্ধে আপিল করবে যে, তারা আমাকে দ্বীন শেখায়নি। তাদের দায়িত্ব পালন করেনি। তাই এই আমানতের হক আদায়ের প্রতি খুবই যত্নবান হতে হবে।

সুতরাং আপনি যদি আপ্রান চেষ্টা করেন দ্বীনের পথা চলানোর জন্য,তারপরেও সন্তা না শোনে,তাহলে পিতামাতার কোনো গুনাহ হবেনা
কবরে গিয়ে তারা গুনাহের ভাগিদার হবেনা।  

কুরআন শরীফে এসেছেঃ  

وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ ۚ 

আল্লাহ তায়ালা  কাহারো গুনাহের বোঝা অন্যের উপর চাপিয়ে দিবেননা।
(সুরা ফাতির ১৮)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...