আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
25 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (7 points)
আমি একজন প্র্যাকটিসিং মুসলিম। আমার বয়স ২৬। বর্তমানে আমি আমার ভাইয়ার সাথে ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে কাজ শিখছি এবং কাজ করছি।

আমি পরিবারকে আকার-ইঙ্গিতে বিয়ের প্রয়োজনীয়তা বোঝানোর চেষ্টা করি। কিন্তু ভাইয়া মনে করেন এখনো আমরা স্টেবল অবস্থায় নেই, তাই আরও ১ ১.৫ বছর পরে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো হবে। তার পরিকল্পনা হলো বিয়ের পর আমরা আলাদা থাকব, তবে একই সাথে আমরা এজেন্সি করার পরিকল্পনাও করছি এবং আয়ের দিকেও এগোবো।

আমার বাবা আমি ছোট থাকতেই মারা গিয়েছেন। আমার ভাইয়া বিবাহিত এবং তিনিই আমার অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেন।

এই বয়সে নিজের নফসকে কন্ট্রোল করা আমার জন্য অনেক কষ্টের বিষয়। আমি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি, তাহাজ্জুদ ও হাজতের নামাজ পড়ি, কুরআন তেলাওয়াত করি, হাদিস ও ইসলামিক বই পড়ি। এত কিছু করার পরও আমি পর্ন আসক্তি এবং মাস্টারবেশন থেকে পুরোপুরি বের হতে পারছি না। বারবার তওবা ও ইস্তিগফার করি, কিন্তু আবারও সেই গুনাহে ফিরে যাচ্ছি।

আমি শহরে ব্যাচেলর বাসায় থাকি এবং কাজ শিখি ও করি। পারিবারিক কিছু সমস্যার কারণে এখন শহরে থাকা আমার জন্য বাধ্যতামূলক হয়েছে।

কিছুদিন আগে আমার একটি ঘটনা ঘটে। এক সকালে ফজরের জন্য উঠার পর আমার রুমমেট আমাকে বলে যে আমি নাকি তার সাথে খারাপ কিছু করার চেষ্টা করেছি, অথচ আমি এমন চিন্তাকেও ঘৃণা করি। ওই রাতে আমি দেরিতে ঘুমিয়েছিলাম, সকালে শরীর ব্যথা ও ভারী লাগছিল। সাধারণত আমি ঘুমানোর আগে অজু করি, কিন্তু সেদিন অজু করা হয়নি, যদিও ঘুমের দোয়া পড়েছিলাম। পরে বিষয়টি ফতোয়া সাইটে জেনে সমাধান করেছি এবং এখন আমি বিছানা আলাদা করেছি।

কিছুদিন আগে আমি একটি বায়োডাটা কিনে ছিলাম, তবে পরিবারকে জানাইনি। আমার উদ্দেশ্য ছিল পছন্দ হলে আগে আকদ করে রাখা, তারপর ১ ১.৫ বছর পরে বউ নিয়ে আসা। মেয়েটির মন-মানসিকতা ও ছবি আমার ভালো লেগেছিল। এমনকি আমি তাকে ছবি ডিলিট করতেও বলেছিলাম, যেন ফেতনায় না পড়ি।

ইস্তেখারা করার পরও মনে হচ্ছিল আমি তার দিকেই ঝুঁকছি। পরে বিষয়টি আমার আপুর সাথে শেয়ার করি। আপুও বায়োডাটা দেখে পছন্দ করে, কিন্তু পারিবারিক কিছু সমস্যার কারণে বিষয়টি এগোয়নি। পরে জানতে পারি তার নতুন প্রস্তাব এসেছে এবং কথাবার্তাও চলছে। তখন আমাকে বলা হয় অন্য দিকে দেখার জন্য। আমি আল্লাহর ফয়সালা মেনে নিয়ে আপাতত বিয়ের বিষয়টি বাদ দিই।

এখন মূল সমস্যা হলো আমার পর্ন আসক্তি ও মাস্টারবেশন।

আমি মোবাইলে শক্তিশালী ব্লকার ব্যবহার করছি, তাই সেখানে সমস্যা নেই। কিন্তু যেহেতু আমি সারাদিন পিসিতে কাজ করি, সেখানেও ব্লকার ব্যবহার করছি। তবে ইউটিউব আমার কাজের জন্য প্রয়োজন, কিন্তু সেটাই আমার জন্য বড় ট্রিগার হয়ে যাচ্ছে।

আমি একটি এক্সটেনশন বানিয়েছি যেখানে জাহান্নাম, আল্লাহর ভয়, আয়াত ও হাদিস দেওয়া আছে। যখন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, তখন সেটি অন করি। কিন্তু অনেক সময় সেটি বন্ধ করে আবার গুনাহে লিপ্ত হয়ে যাই।

মাঝে মাঝে মনে হয় আমার এমন অবস্থার কারণে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন না। কিন্তু আবার শয়তানের ধোঁকা পাশ কাটিয়ে মনে করি। আল্লাহ তো সবচেয়ে বড় ক্ষমাশীল। তিনি যদি ১০০ খুনকারী ব্যক্তিকে তওবা করার কারণে ক্ষমা করতে পারেন, তবে আমাকে কেন করবেন না? এই ভরসা নিয়ে আবার ফিরে আসি।

আমি নামাজ কখনো বাদ দিই না, আলহামদুলিল্লাহ।

উস্তাদ, এমন অবস্থায় আমার জন্য যদি কিছু পরামর্শ দিতেন, আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ থাকতাম।

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/9968/ ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ
নিয়মিত নামায আদায় করতে হবে এবং আল্লাহর কাছে মুনাজাত করে, তাঁকে স্মরণ করে, তাঁর কিতাব তেলাওয়াত করে স্বাদ অনুভব করতে হবে। 

আল্লাহ্ তাআলা বলেন,

اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاء وَالْمُنكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ

আপনি আপনার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট কিতাব পাঠ করুন এবং নামায কায়েম করুন। নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে। আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর। (সূরা আনকাবুত ৪৫)

একবার সাহাবারা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলল, অমুক সাহাবী বিভিন্ন ধরনের খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, সে কি এখনো নামাজ পড়ে? সবাই বলল, হ্যাঁ, পড়ে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, সে যদি নামাজ পড়তে থাকে তাহলে নামাজ তাকে অবশ্যই একদিন খারাপ কাজ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে। (মুসনাদে আহমাদ ২/৪৪৭)
,
★বেশি বেশি যিকির করতে হবে।
★মাঝে মাঝেই দাওয়াত ও তাবলিগের মেহনতে সময় লাগাতে পারেন।
★বেশির ভাগ সময় মসজিদে কাটানোর চেষ্টা করুন।
★নিজের ভিতর থেকে হতাশা সম্পূর্ন ভাবে দূর করে দিন। আলোর পথে আসুন।
★নিজ মহল্লার মসজিদের ইমাম সাহেব,মুয়াজ্জিন সাহেব থেকে সাজেশন নেওয়ার চেষ্টা করুন।
তাদের সাথে ফ্রি হয়ে কিভাবে আমলের পথে চলা যায়,সেটা জানুন।
,
তাদেত সাথেই বেশিরভাগ সময় কাটানোর চেষ্টা করুন।   
★অসৎ সাথীদেত সাথে ঘুরাফেরা বন্ধ করুন।
,
★যেই জায়গা,যেই কাজ করলেই ঐ বিষয় গুলো মাথায় আসে,সেই জায়গায় যাওয়া সেই কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।
,   
★হক্কানী শায়েখদের কাছে যান,তাদের দেওয়া সবক আদায় করতে পারেন।

★মাঝে মাঝে কবর যিয়ারত করবেন।

★কোনোভাবেই একাকী থাকা যাবেনা।
কিভাবে কাহারো সাথে থাকা যায়,সেই ব্যবস্থা করুন।
 
বিশেষ করে একাকী রাত কোনোভাবেই কাটানো যাবেনা। 
আপনার রুমে অন্য কাহারো থাকা নিশ্চিত করুন।
প্রয়োজন মেসে থাকতে পারেন।  
হাদিসে এসেছে নবী ﷺ কোন পুরুষকে একাকী রাত কাটাতে নিষেধ করেছেন। (মুসনাদে আহমাদ ২/৯১)

ঘুমানোর সময় ইসলামী আদবগুলো মেনে চলতে হবে। যেমন ঘুমানোর দোয়াগুলো পড়া, ডান পার্শ্বে কাত হয়ে শোয়া, পেটের উপর ভর দিয়ে না-ঘুমানো; যেহেতু এ সম্পর্কে নবী ﷺ-এর নিষেধ আছে।

★কাছে মোবাইল বা কম্পিউটার  রাখা যাবেনা,সেটি অন্য ঘরে রেখে আসতে হবে।

যথাসম্ভব মাগরিবের পর থেকেই মোবাইল থেকে দূরে থাকতে হবে।
,
★রাতে খাবার খাওয়ার কমপক্ষে  এক দেড় ঘন্টা পর বিছানায় যাবেন।
,
★অনৈসলামিক কোনো কিছুই মোবাইল,কম্পিউটারে রাখা যাবেনা।
,
★নেটে এজাতীয় সাইটে কোনোভাবেই যাওয়া যাবেনা।   
সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি উপরে উল্লেখিত পরামর্শ গুলো মেনে চলবেন।
পরিবারকে বুঝিযয়ে দ্রুত বিবাহের চেষ্টা করবেন।

একাকিত্ব পরিহার করে চলবেন।
প্রয়োজনে স্মার্ট ফোন ব্যবহার ছেড়ে দিয়ে সাধারণ সেট ব্যবহার করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...