আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
24 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (2 points)
আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহ্। মেয়েদের ইউনিভার্সিটির হলের নামাজ রুমে হায়েজরত অবস্হায় কোরআন শিখতে যাওয়া যাবে কিনা। অনেক জায়গায় অনুত্তম বলা হয়েছে।  কিন্তু আমাদের আর বিকল্প রুম নাই। আর ২/৩ জন একসাথে পড়লে একেকজনের একেক সময় হায়েজ হবে। এতে দেখা যাবে মিস দিলে আর আসতে চাইবে না। এমনিতেই বোনেরা সপ্তাহে ২ দিনের বেশি সময় দিতে পারেন না। হায়েজরত অবস্থায় না আসা গেলে দেখা যাবে কোরআন শিখাই বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়া এ সময় নামাজ রুমের দ্বীনি হালাকাহ গুলোতে অংশ নেওয়া যাবে কিনা।

1 Answer

0 votes
by (90,930 points)

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

https://ifatwa.info/7218/ নং ফাতওয়ায় উল্লেখ রয়েছে যে,

হায়েয অবস্থায় কুরআন তেলাওয়াত করা যাবে কি না? এ সম্পর্কে উলামাদের মধ্যে মতবেদ রয়েছে। জুমহুর ফুকাহায়ে কেরাম বলেন,

,

হায়েয অবস্থায় কুরআন তেলাওয়াত মহিলাদের জন্য হারাম, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হবে। তবে দু'আ  যিকিরের নিয়তে কুরানের আয়াত পড়া যাবে।তেলাওয়াতের নিয়তে পড়া যাবে না। যেমন,বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। রাব্বানা আ'তিনা ফিদ-দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ। এ জাতীয় কুরআনের আরো অন্যান্য আয়াত।

,

তারা দলীল হিসেবে উপস্থাপন করেন, হায়েয অবস্থায় কুরআনকে স্পর্শ করা যাবে না।

হায়েয অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত সম্পর্কে স্পষ্টকরে কিছু আসেনি।তবে হাদীসে স্পষ্টভাবে কুরআন তিলাওয়াত নিয়ে বর্ণিত হয়েছে,

হায়েযা মহিলা জুনুবী মহিলার মতই। যেহেতু উভয়ই গোসলের মাধ্যমে পবিত্র হন।হযরত আলী রাযি থেকে বর্ণিত রয়েছে,

 عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم  كان يعلمهم القرآن وكان لا يحجزه عن القرآن إلا الجنابة "

রাসূলুল্লাহ সা. লোকদিগকে কুরআন শিক্ষা দিতেন।জানাবত তথা সহবাস ও স্বপ্নদোষ পরবর্তী অপবিত্রতা ব্যতীত অন্যকোনো জিনিষ কুরআন শিক্ষা থেকে বাধা দিত না। (সুনানু আবি-দাউদ-১/২৮১,সুনানু তিরমিযি-১৪৬,সুনানু নাসাঈ-১/১৪৪,সুনানু ইবনি মা'জা-১/২০৭মসনদে আহমদ-১/৮৪,সহীহ ইবনে খুযাইমাহ-১/১০৪)

,

হযরত ইবনে উমর রাযি থেকে বর্ণিত

عن ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم  قال : " لا تقرأ الحائض ولا الجنب شيئاً من القرآن

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন, হায়েযা এবং জুনবী ব্যক্তি কুরআন থেকে কিছুই পড়তে পারবে না। (সুনানু তিরমিযি-১৩১)বিস্তারিত জানুন- 389

,

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী বোন!

,

১. যেহেতু এটা মসজিদ না বরং শুধুমাত্র নামাজের রুম। তাই উক্ত নামাজের রুমে হায়েজ অবস্থায় অবস্থান করে দ্বীনি আলোচনা শোনা বা দ্বীনি হালকায় অংশগ্রহণ করা যাবে ইনশাআল্লাহ।

২. ফিক্বহে হানাফী অনুযায়ী মহিলাদের জন্য হায়েজ অবস্থায় কুরআন তেলাওয়াত করা জায়েজ নয়। উপরে তার প্রমাণ ও দলীল উল্লেখ করা হয়েছে। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কুরআন পড়া শিখতে হলে বা পড়তে হলে ভেঙ্গে ভেঙ্গে কুরআন পড়তে পারবেন।

 

তবে আয়াতুল কুরসী, তিনকুল ও হেফাজতের আয়াত তেলাওয়াত করে পড়তে পারবেন। দুআ সম্বলিত আয়াতগুলো দুআ হিসাবে তেলাওয়াত করে পড়তে পারবেন। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...