আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
45 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকা তুহ।

আশাকরি নিচের প্রেক্ষাপটটা একটু মনোযোগ দিয়ে পড়বেন ও প্রশ্নগুলোর উত্তর দিবেন।

স্বামী স্ত্রী বিগত ৮ মাস যাবত যৌথ পরিবারে বসবাস করছে। এখানে মাঝের একটা বড় রুমের এক পাশে উত্তর দক্ষিন বরাবর পর্দা টাঙ্গিয়ে সেপারেট করা, যেখান দিয়ে রান্না ঘরে ও শ্বশুর শাশুড়ির রুমে যেতে হয়।

তবে আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে ছেলের বড় ভাই নতুন সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে চলে গেলে তারা তাদের সেপারেট রুমটাতে শিফট হওয়ার সুযোগ পেতো।

এদিকে দেড় মাস পর ছেলে মেয়ে দুজনেরই পোস্ট গ্র‍্যাজুয়েশন এর ভর্তি পরীক্ষা। এই প্রস্তুতির জন্য বর্তমানে ছেলেটা চাকরি ছেড়ে সম্পূর্ণ সময় পড়াশোনায় দিতে চাচ্ছি। যার ফলে এই মুহূর্তে নতুন করে আলাদা বাসা ভাড়া নেওয়া বা আর্থিক ঝুঁকি নেওয়া কোনটাই সম্ভব হচ্ছে না।

রিসেন্টলি এক বিয়ের দাওয়াতে মেয়েটা তার স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষে একা তার বাবার বাড়ি গিয়ে গত ১৮ দিন ধরে সেখানেই আছেন।

মেয়েটা প্রথমে শ্বশুর বাড়িতে ফিরে আসতে রাজী হলেও গত এক সপ্তাহ ধরে হুট করে সিদ্ধান্ত পাল্টায়। সে পর্দার সমস্যার কথা উল্লেখ করে কোনভাবেই ছেলের বাড়ি আসতে রাজী হচ্ছে না।

ছেলেটা অনেক রিকুয়েস্ট করেছে, এই কয়দিন তার পরীক্ষা ও আর্থিক সমস্যাটা একটু বিবেচনা করে শ্বশুর বাড়িতে এসে কষ্ট করে থাকতে।

কিন্তু মেয়েটা কোনভাবেই রাজী হচ্ছেনা।

""বিঃদ্রঃ গত ৮ মাসের মধ্যে ৩/৪ বার এরকম হয়েছে যে ছেলের বাবা/মা কখনো কখনো মনের ভুলে পর্দা সরিয়ে ভেতরে ঢুকে গেছে কোন প্রয়োজনীয় জিনিস নিতে। সেজন্য ছেলের পক্ষ থেকে তাদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছিলো।""

এসব টেনশনে কারোরই পড়াশোনাও ঠিকমতো হচ্ছেনা।

সমস্যা দিন দিন আরো "জটিলতর" হচ্ছে।

প্রশ্নঃ ১

★ স্ত্রী যদি পুনরায় পূর্বের ন্যায় এক্সিডেন্টালি পর্দার লঙ্ঘন হতে পারে এই আশঙ্কায় স্বামীর অমতে বাবার বাড়িতেই থাকতে চায় সেক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান কী?

★ স্ত্রী যেহেতু ৮ মাস কষ্ট করে থেকেছেই,

স্বামী যদি স্ত্রীকে আর দেড়টা মাস অর্থাৎ এক্সামের এই সময়টা কষ্ট করে থাকতে ভীষণভাবে অনুরোধ করে এবং "ইংশাআল্লহ পূর্বের ন্যায় এক্সিডেন্টালি হুট করে কেউ ঢুকবেনা" এরূপ আশ্বাস দেয় তাহলে শান্তি রক্ষার্থে স্ত্রীর কী শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসা উচিত হবে কি-না?

★ স্ত্রী যেহেতু একা একাই বাবার বাড়িতে গিয়েছিলো, বাই এনি চান্স স্ত্রী ফিরে আসতে রাজী হলে স্বামীর জন্য কি স্ত্রীকে তার বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে আসা বাধ্যতামূলক?

1 Answer

0 votes
by (90,930 points)

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

https://ifatwa.info/52876/ নং ফাতাওয়াতে আমরা বলেছি যে,

স্ত্রীর ভরণ-পোষণ স্বামীর উপর সর্বাবস্থায় ফরয, স্ত্রীর নিজের সম্পদ থাকুক বা না থাকুক।

■ আল্লাহ তাআলা বলেন-

الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ ۚ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ ۚ

পুরুষেরা নারীদের অভিভাবক, ঐ (বিশেষত্বের) কারণে, যার দ্বারা আল্লাহ তাদের কাউকে কারো উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং ঐ সম্পদের কারণে, যা তারা ব্যয় করেছে। সুতরাং সৎ নারীরা হল অনুগত, (স্বামীর) অবর্তমানে (নিজের সতিত্ব ও স্বামীর সম্পদ) রক্ষাকারী, আল্লাহ রক্ষা করার কারণে ... -সূরা নিসা : ৩৪

,

এই আয়াতে স্ত্রীর উপর স্বামীর অভিভাবকত্বের দুটো কারণ বলা হয়েছে : প্রথমত দৈহিক শক্তি-সামর্থ্য ও বিচার-বিচক্ষণতার মতো গুণাবলি, দ্বিতীয়ত মোহরানা ও ভরণ-পোষণের জন্য ব্যয়বহন।

এই আয়াতে ‘পুরুষের ব্যয়কৃত সম্পদ’ মানে স্ত্রীর মোহরানা, খোরপোষ ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ, কুরআন ও সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী যা বহন করা অবশ্যকর্তব্য। এ আয়াত প্রমাণ করে, স্ত্রীর নাফাকা ও খোরপোষ স্বামীর উপর ফরয। -তাফসীর ইবনে কাছীর ১/৪৯২; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/১৮৮

■ হাদীস শরীফে এসেছে-

عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الأَحْوَصِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ، شَهِدَ حَجَّةَ الْوَدَاعِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَذَكَّرَ وَوَعَظَ فَذَكَرَ فِي الْحَدِيثِ قِصَّةً فَقَالَ " أَلاَ وَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا… أَلاَ وَحَقُّهُنَّ عَلَيْكُمْ أَنْ تُحْسِنُوا إِلَيْهِنَّ فِي كِسْوَتِهِنَّ وَطَعَامِهِنَّ " .

সুলাইমান ইবনু আমর ইবনুল আহওয়াস (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র থেকে বর্ণিতঃ বিদায় হজ্জের সময় তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। তিনি আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং ওয়াজ-নাসীহাত করলেন। এ হাদীসের মধ্যে বর্ণনাকারী একটি ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ স্ত্রীদের সাথে ভালো আচরণের উপদেশ নাও। ... জেনে রাখ! তোমাদের প্রতি তাদের অধিকার এই যে, তোমরা তাদের উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করবে। (সুনানে তিরমিযী ১১৬৩)

,

স্বামীর জন্য জরুরি হলো স্ত্রীর অধিকার রক্ষা করা, তার সাথে সদব্যবহার করা।


নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন

ألا واستوصوا بالنساء خيرا، فإنما هن عوان عندكم ليس تملكون منهن شيئا غير ذلك

শোন হে! তোমরা আমার পক্ষ হতে নারীদের প্রতি সদাচরণের উপদেশ গ্রহণ কর। তারা তো তোমাদের কাছে আটকে আছে। তোমরা তাদের কাছ থেকে এছাড়া আর কিছুর অধিকার রাখো না। (জামে তিরমিযী, হাদীস: ১০৮৩

,

সুতরাং স্ত্রীর উপর স্বামীর খেদমত আবশ্যক,শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা স্ত্রীর জন্য একটি অতিরিক্ত কাজ। এটা তার দায়িত্ব নয়, আবশ্যক নয়, । কিন্তু বর্তমান সমাজে মনে করা হয়, এটা তার অপরিহার্য দায়িত্ব বরং এটিই যেন তার প্রধান দায়িত্ব। আমাদের সমাজের আবহমান কালের চলমান রীতি হলো, যৌথ পরিবারগুলোতে পুত্রবধূরা শ্বশুর-শাশুড়ির সেবাযত্ন করে থাকেন। এটাকে পারিবারিক দায়িত্ব হিসেবে মনে করা হয়ে থাকে।

,

ছেলের জন্য বউ আনাই হয় শ্বশুর-শাশুড়ির সেবার জন্য। এ সবই পরিমিতিবোধের চরম লঙ্ঘন। মা-বাবার সেবা করা সন্তানের দায়িত্ব, পুত্রবধূর নয়। (আল-বাহরুর রায়েক ৪/১৯৩, কিফায়াতুল মুফতি ৫/২৩০)

,

যদি স্বামীর মা-বাবার খেদমতের প্রয়োজন হয়, তাহলে স্বামীর কর্তব্য হলো তাঁদের সেবা-যত্ন করা। তবে কোনো স্ত্রী যদি সন্তুষ্টচিত্তে স্বামীর মা-বাবার সেবা করেন, এটা তাঁর পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার। এর বিনিময়ে তিনি অনেক সওয়াব পাবেন। তবে এসব করতে আইনত তিনি বাধ্য নন। যদিও কাম্য এটাই যে স্বামীর মা-বাবাকে নিজের মা-বাবার মতো সম্মান ও সমীহের চোখে দেখবেন। তাঁদের মনেপ্রাণে ভালোবাসবেন এবং তাঁদের সেবা করতে পারাকে নিজের জন্য পরম সৌভাগ্য মনে করবেন। অনুরূপ শ্বশুর-শাশুড়িও পুত্রবধূকে নিজের মেয়ের মতো আদর ও খাতির করবেন। তার সুখ-সুবিধার প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখবেন।

আরো বিস্তারিত জানুন- https://ifatwa.info/10894/  

,

★ইসলামের দিক-নিদের্শনা হচ্ছে বিবাহের পরে স্বামীর প্রথম কতর্ব্য হলো স্ত্রীর জন্য এমন একটি বাসস্থানের ব্যবস্থা করা যেখানে স্ত্রী মানুষের দৃষ্টি থেকে নিরাপদ থাকবে। কেননা পর্দা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান। আর এই বিধান পালন করার জন্য স্বামীর কতর্ব্য স্ত্রীকে সাহায্য করা। সেই সাথে অন্যান্য সকল কষ্ট থেকে স্ত্রীর আরামের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে স্ত্রীকে শ্বশুর ও শাশুড়ির সাথেই থাকতে হবে এমন বাধ্যও করা যাবে না। কেননা এমন কোন অধিকার স্বামীর নেই। তবে এই ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রী উভয়কে সামাজিক অবস্থার উপর বিবেচনা করেও কিছু কাজ করতে হবে।

যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীকে স্বামীর পরিবারের সাথে অথবা অন্য আত্মীয়ের সাথে থাকার কথা বলে কিন্তু স্ত্রী কারো সাথে থাকার কথা রাজি না হয় তাহলে স্ত্রীকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা স্বামীর কতর্ব্য। কেননা স্ত্রীর সকল কিছু রক্ষা করা ও নিরাপদে বসবাস করার দায়িত্ব স্বামীর।

,

■ ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াতে রয়েছে-

تجب السكني لها عليه في بيت خال

মর্থার্থ: স্ত্রীর জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা স্বামীর উপর আবশ্যক। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াত, ১/৬০৪)

আরো বিস্তারিত জানুন- https://ifatwa.info/46394/   

আরো জানুন-   https://ifatwa.info/26113/  

,

★ সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী বোন!

,

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে স্বামীর সামর্থ্য থাকলে তার স্ত্রীর জন্য আলাদা বাসস্থান ব্যবস্থা করা স্বামীর উপর আবশ্যক। তাই সমাজের লোকেরা কি বলবে বলে স্ত্রীর জন্য আলাদা বাসস্থানের ব্যবস্থা না করে দিলে তিনি গোনাহগার হবেন। প্রয়োজনে পাশা পাশি কোনো বাসাও ভাড়া নিতে পারেন। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আলাদা বাসায় থাকলে দেখেবেন যে, এই সমস্যাগুলো হবে না ইনশাআল্লাহ।

,

স্ত্রী যদি সন্তুষ্টচিত্তে শশুর-শাশুড়ির সেবা করেন এবং এক সাথে থাকেন এটা তাঁর পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার। এর বিনিময়ে তিনি অনেক সওয়াব পাবেন। যদিও কাম্য এটাই যে স্বামীর মা-বাবাকে নিজের মা-বাবার মতো সম্মান ও সমীহের চোখে দেখবেন। তাঁদের মনেপ্রাণে ভালোবাসবেন এবং তাঁদের সেবা করতে পারাকে নিজের জন্য পরম সৌভাগ্য মনে করবেন। অনুরূপ শ্বশুর-শাশুড়িও পুত্রবধূকে নিজের মেয়ের মতো আদর ও খাতির করবেন। তার সুখ-সুবিধার প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখবেন।

.

১. প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে স্ত্রীর জন্য করণীয় হলো যে, স্বামীকে বিষয়টা বুঝিয়ে তারপর বাবার বাড়ি অবস্থান করবে।

২-৩. স্বামীর সাথে পরামর্শ করে দুজন মিলে সিদ্ধান্ত নিবেন। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...