আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
77 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (2 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম। আমাকে কাজি ১৮ নং কলামে আমার হাসবেন্ড কে জিজ্ঞেস না করেই অধিকার দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমার হাসবেন্ড বিয়ের পরে বলেছে কোনো অধিকার দিবে না। দেয় নাই। তো আমি বার বার জিজ্ঞেস করার কারনে সে এক সময় ভুল করে বলে ফেলে " আমি তোমাকে অধিকার দিছি". আমি তখন সাথে সাথে বললাম যে, কি বললা তুমি এটা?  আমাকে অধিকার দিছো? পরে সে বলে যে, কই আমি তো এমন কিছু বলি নাই৷ পরে সে বলতেছে না আমি এটা বলি নাই। তোমাকে অধিকার দেই নাই৷ আমার হাসবেন্ড এর মনেই পড়তেছে না সে এমন কিছু বলছে।

 কয়েকদিন পরে আবার জিজ্ঞেস করি- তুমি কি সেদিন আমাকে অধিকার দিছো এটা বলছিলা? তখন সে বলে তার মনে কোনো সময়ই আমাকে অধিকার দেয়ার নিয়ত ছিল না। কথার ছলে হয়তো ভুলে এমন বলে ফেলছে। আমাকে নাকি জিজ্ঞেস করেছে যে "আমি তোমাকে অধিকার দিছি"। আমার হাসবেন্ড এখন এটা বলতেছে। আমাকে নাকি এটা বলে প্রশ্ন করেছিল। কিন্তু হুজুর প্রথম দিন যেদিন বলেছিল সে, সে তাড়াতাড়ি করে বলে ফেলেছিল। আর সেটা প্রশ্ন করার মত ছিল না। " আমি তোমাকে অধিকার দিছি " এই কথা টা।

১) এখন সে " আমি তোমাকে অধিকার দিছি" এই  কথা  ভুল করে বলুক আর যেভাবেই বলুক তার এই কথার জন্য কি আমি অধিকার পাবো? সে আমাকে বিয়ের পরেই বলেছিল কোনো অধিকার দিবে না। এখন আমি কি কোনো সাময়িক অধিকার পাবো?

২) সে যে বিয়ের পরে বলেছিল অধিকার দিবে না। এই অধিকার না দেয়া কি সারাজীবন এর জন্য?  নাকি এটা পরিবর্তন করে আবার অধিকার দিতে পারবে?

৩) আমি যখন তাকে জিজ্ঞেস করি বার বার যে অধিকার দিয়েছে কিনা তখন সে আমাকে বলে যে, " অধিকার দেয়ার ইচ্ছা থাকলে তো আমি বলতাম ই, আগে তো কোনোদিন ই বলি নাই, অধিকার দেয়ার কথা একদিন ও তো বলি নাই, সব সময় বলছি অধিকার দিব না "।
এসব কথার কারনে কি আমি কোনো অধিকার পাবো?

৪) আমার হাসবেন্ড আমাকে বলতেছে,  " অধিকার দিবো নাকি দিবো না, এটা বিয়ের আগে থেকেই আমি জানি"। এটার জন্য আমি কোনো অধিকার পাবো?

৫) তারপর আমাকে একদিন ম্যাসেজ এ লিখে যে, " আমি তোমাকে অধিকার দিছি নাকি দেই নাই। অধিকার দিছি?" "আমি তোমাকে অধিকার দিছি"?
হুজুর এসব কথার কারনে কি আমি কোনো অধিকার পাবো?
by (2 points)
আসসালামু আলাইকুম হুজুর। পয়েন্ট ভুলে যাওয়ার কারনে একটু এডিট করেছি। দয়া করে ক্ষমা করে দিয়েন। 

1 Answer

0 votes
by (807,660 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
كُلُّ كِتَابٍ لَمْ يَكْتُبْهُ بِخَطِّهِ وَلَمْ يُمِلَّهُ بِنَفْسِهِ لَا يَقَعُ بِهِ الطَّلَاقُ إذَا لَمْ يُقِرَّ أَنَّهُ كِتَابُهُ كَذَا فِي الْمُحِيطِ (الفتاوى الهندية،1/379, المحيط البرهانى،-4/486، تاتارخانية، -3/380)
ভাবার্থ- প্রত্যেক ঐ তালাকনামা যা স্বামী লিখেনি,স্বামী অস্বীকার করলে কোনো তালাকই পতিত হবে না।

সারমর্মঃ- স্বামীর স্বতঃস্ফূর্ত অনুমোদন ব্যতিত স্ত্রী কখনো তালাকের অধিকার পাবে না। স্বামীকে সরাসরি জিজ্ঞাসা না করে কাজী নিজ পক্ষ্য থেকে যদি ১৮ নং কলামে স্ত্রীকে অধিকার দিয়ে দেয়, তাহলে স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে না। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1752


لو كرر مسائل الطلاق بحضرة زوجته ويقول: أنت طالق ولا ينوى طلاقا لا تطلق، (فتح القدير، كتاب الطلاق، باب ايقاع الطلاق-4/4)
যদি স্ত্রীর উপস্থিতিতে তালাকের মাস'আলা মাসাঈলকে বারংবার বলা হয়, যেমন স্বামী বলল, তুমি তালাক,এবং এমতাবস্থায় স্ত্রীকে তালাকের উদ্দেশ্য নেই, তাহলে স্ত্রী তালাক হবে না।(ফাতহুল কাদির-৪/৪)
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/835


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
তালাক প্রদান একমাত্র স্বামীর অধিকার। স্বামীর স্বতঃস্ফূর্ত অনুমোদন ব্যতিত স্ত্রী কখনো তালাক দিতে পারেনা।স্বামী যদি তার স্ত্রীকে তালাকের অধিকার না দিয়ে থাকে, কাবিন নামায় এমনি এমনি লিখা থাকলে স্ত্রী কখনো (দিয়ানাতান) তালাকের অধিকার পাবে না। এমতাবস্থায় স্ত্রী নিজের উপর তালাক দিলে সেই তালাক কার্যকর হবে না। সুতরাং প্রশ্নের বিবরণমতে স্ত্রী কখনো তালাকের অধিকার প্রাপ্ত হবে না। যেহেতু স্ত্রী তালাকের অধিকার প্রাপ্ত হবে না তাই আপনি যত শাখা প্রশাখাগত প্রশ্ন করেছেন, কোনোটাতেই স্ত্রী তালাকের অধিকার প্রাপ্ত হবে না এবং স্ত্রী তালাক গ্রহণ করলে তালাক হবে না।


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) যদি সে অনিচ্ছায় বলে" আমি তোমাকে অধিকার দিছি" এই কথার দ্বারা আপনি তালাকের অধিকার পাবেন না। সুতরাং প্রশ্নের বিবরণমতে সে তালাকের অধিকার পাবে না।

(২) সে বিয়ের পরে বলেছে, অধিকার দিবে না। এই অধিকার না দেয়া সারা জীবনের জন্য নয়। বরং এটা পরিবর্তন করে আবার অধিকার দেয়া যাবে।

(৩) প্রশ্নে উল্লেখিত এইসব কথার কারনে আপনি কোনো অধিকার পাবেন না।

(৪) আপনার স্বামী আপনাকে বলেছে,  " অধিকার দিবো নাকি দিবো না, এটা বিয়ের আগে থেকেই আমি জানি"। এই কথার জন্য আপনি কোনো অধিকার পাবেন না।

(৫) তারপর আপনাকে একদিন ম্যাসেজে লিখেছে যে, " আমি তোমাকে অধিকার দিছি নাকি দেই নাই। অধিকার দিছি?" "আমি তোমাকে অধিকার দিছি"?
হুজুর এসব কথার কারনেও আপনি কোনো অধিকার পান নাই।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...