আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
162 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (37 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম (মাফ করবেন উস্তায, লেখাটা একটু বড় হয়ে গিয়েছে।)

উস্তায, ভার্সিটিতে নিজ উদ্যোগে ফারজে 'আইন কোর্স করানো এবং পাশাপাশি দাওয়াতী কাজের সাথে সংযুক্ত থাকায় অনেক সময় অনেক বোনেরাই আমার 'ইলম এবং আমলের প্রশংসা করেন। কয়েকজন সরাসরি বলে ফেলেন ' জেনারেল হয়ে এতো সংশ্লিষ্ট আয়াত, হাদীস তুমি কিভাবে মনে রাখো?' আমার তিলাওয়াতেরও প্রশংসা করেন। উদাহরণস্বরূপ, ভার্সিটির নামাজ রুমে অনেকে আবদার করেন - তুমি তিলাওয়াত করলে আমি একটু শুনতাম। আমার তিলাওয়াত তাদের হিদায়াতের ওসিলা হতে পারে সে-টা ভেবে শুনাতাম। আল্লাহ তা'য়ালা জানেন নিজেকে জাহির করার উদ্দেশ্যে কখনোই কিছু প্রকাশ করিনি। ওয়াল্লহি, তাদের এহেন প্রশংসায় আমার তিলাওয়াতের জবান বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো, আমি বেশ কয়েকদিন তিলাওয়াতে ২/৩ টা শব্দের বেশি একত্রে পড়তে পারতাম না। রবের নিকট অনেক কান্নাকাটি করেছিলাম, না জানি আমার কোন গুনাহের শাস্তির কারনে এমন হলো, কেন এমন হচ্ছে! আলহামদুলিল্লাহ্ আমার তিলাওয়াত মোটামুটি সহীহ এবং বেশ ভালো ফ্লো-তে তিলাওয়াত করতে পারি। অনলাইনে মাদ্রাসার খাদিমাহ হিসেবেও আছি। অবশেষে তিনি রহম করেছেন। এখন কিছুটা স্টেবল হয়েছে, তবে পুরোপুরি আগেরমতো না।

আরো ভয়ংকর বিষয় হয়েছে উস্তায, যেখানে আমি ফরজ আদায় করে নফলের দিকে ঝুকে পড়তাম, গত ২ মাস ধরে  আমার ফরজ আমলে (নামাজে) অনিহা চলে আসছে। আমার ভয় লাগছে উস্তায। একটা রাতেও তাহাজ্জুদ মিস না দেয়া বান্দার এখন ফরজ নামাজ পড়তে ভালো লাগেনা, তাহাজ্জুদ তো কপালেই জুটছেনা। আল্লহুম্মাগফিরলী। নিজের এহেন নাজুক অবস্থা দেখে এখন আর আমি তালিমে নেয়ার আগ্রহ পাইনা, ভয় লাগে। হয়তো আবার আমার ফরজ আমল ছুটে যাবে, অনীহা চলে আসবে। তিলাওয়াতের জবার বন্ধ হয়ে যাবে। হিফজ করা আয়াতগুলো আমি ভুলে যাবো।
১. এটা কি বদনজরের আলামত? নাকি ওয়াসওয়াসা?

(আমি কোনোরকম অসৎ সঙ্গের সাথে নেই উস্তায, বরং আলহামদুলিল্লাহ্ পূর্বের তুলনায় নেককারদের সোহবতে থাকার সৌভাগ্য লাভ করেছি। তালিম নেয়া, দাওয়াতী কাজ আমি আগ্রহ নিয়ে করতাম এটা ভেবে যে- মানুষকে নাসীহাহ দিতে গেলে হয়তো আমার নফস্ ঐ কাজটা করবেনা। অন্যকে নাসীহাহ করার সময় সে নিজের ব্যাপারে ভীত থাকবো। আজ আমার এ কি হালত হয়ে গেলো? আমার অন্তরটা এতো কঠিন হয়ে গেলো! )
২. বক্তাদের কি বদনজর লাগতে পারে? বড় বড় 'আলেম/উলামা যাদের জবানের পবিত্র কালিমা প্রতিনিয়ত শত শত মানুষের হিদায়াতের ওসিলা হচ্ছে। তাদের কি বদনজর লাগে?

(আমার কাছে তো মাত্র ১০০-১৫০ মেয়ে ফারজে 'আইন কোর্স করে। তালিমে ২৫০/৩০০ মেয়ে বসে।)

৩. নিজের ন্যাক্কারজনক হালতের কথা চিন্তা করে মাস দুয়েক আমি বোনদের থেকে দুরে আছি৷ তাদের দারস্ কিংবা ইসলাহী বৈঠকে বসিনা। নিজেকে অযোগ্য মনে হচ্ছে। লজ্জা লাগছে। অন্য খাদিমাহ দিয়ে কাজগুলো চালিয়ে নিচ্ছি। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? আমার আখিরাতের কি হবে? আমি কি পূনরায় দারস্ এবং তালিমী বৈঠকগুলোতে বসবো?
(মেয়েদের মাঝে দাওয়াতী কাজ করার লোকের খুব অভাব, সেজন্য হিদায়াতের পর থেকে মনেপ্রাণে আমি দায়ী ইলাল্লাহ্ হতে চেয়েছি, আমি এখনো ঝড়ে পড়তে চাইনা। দিনশেষে আমাকে আমার রবের নিকট ফিরে যেতে হবে৷ জবাবদিহি করতে হবে। আমাকে নিজের অবনতির কারনটা খুঁজে পেতে সাহায্য করুন উস্তায, আমাকে নিজের মেয়ে মনে করে কিছু নাসীহাহা করুন, মিন ফাদ্বলিক।)

1 Answer

+1 vote
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، قَالَ مَرَّ عَامِرُ بْنُ رَبِيعَةَ بِسَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ وَهُوَ يَغْتَسِلُ فَقَالَ لَمْ أَرَ كَالْيَوْمِ وَلاَ جِلْدَ مُخَبَّأَةٍ . فَمَا لَبِثَ أَنْ لُبِطَ بِهِ فَأُتِيَ بِهِ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقِيلَ لَهُ أَدْرِكْ سَهْلاً صَرِيعًا . قَالَ " مَنْ تَتَّهِمُونَ بِهِ " . قَالُوا عَامِرَ بْنَ رَبِيعَةَ . قَالَ " عَلاَمَ يَقْتُلُ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ إِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ مِنْ أَخِيهِ مَا يُعْجِبُهُ فَلْيَدْعُ لَهُ بِالْبَرَكَةِ " . ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ فَأَمَرَ عَامِرًا أَنْ يَتَوَضَّأَ فَيَغْسِلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ وَرُكْبَتَيْهِ وَدَاخِلَةَ إِزَارِهِ وَأَمَرَهُ أَنْ يَصُبَّ عَلَيْهِ . قَالَ سُفْيَانُ قَالَ مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَأَمَرَهُ أَنْ يَكْفَأَ الإِنَاءَ مِنْ خَلْفِهِ .

আবূ উমামা ইবনে হুনাইফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমের ইবনে রবীআ (রাঃ) সাহল ইবনে হুনাইফ (রাঃ)-র নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তখন গোসল করছিলেন। আমের (রাঃ) বলেন, আমি এমন খুবসুরত সুপুরুষ দেখিনি, এমনকি পর্দানশীন নারীকেও এরূপ সুন্দর দেখিনি, যেমন আজ দেখলাম। অতঃপর কিছুক্ষণের মধ্যেই সাহল (রাঃ) বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন। তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট নিয়ে যাওয়া হলো এবং তাঁকে বলা হলো, ধরাশায়ী সাহলকে রক্ষা করুন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কাকে অভিযুক্ত করছো? তারা বললো, আমের ইবনে রবীআকে। তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ বদনজর লাগিয়ে তার ভাইকে কেন হত্যা করতে চায়? তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের মনোমুগ্ধকর কিছু দেখলে যেন তার জন্য বরকতের দোয়া করে। অতঃপর তিনি পানি নিয়ে ডাকলেন, অতঃপর আমেরকে উযু করতে নির্দেশ দিলেন। তিনি তার মুখমন্ডল, দু’ হাত কনুই পর্যন্ত, দু’ পা গোছা পর্যন্ত এবং লজ্জাস্থান ধৌত করলেন। তিনি আমেরকে পাত্রের (অবশিষ্ট) পানি সকলের উপর ঢেলে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি সাহলের পেছন দিক থেকে পানি ঢেলে দেয়ার জন্য আমেরকে নির্দেশ দেন।
(ইবনে মাজাহ ৩৫০৯.আহমাদ ১৫৫৫০, মুয়াত্তা মালেক ১৭৪৭, মিশকাত ৪৫৬২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ مُضَارِبِ بْنِ حَزْنٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " الْعَيْنُ حَقٌّ " .

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বদনজর সত্য।
সহীহুল বুখারী ৫৭৪০, ৫৯৪৪, মুসলিম ২১৮৭, আবূ দাউদ ৩৮৭৯, আহমাদ ৭৮২৩, ২৭৪৬৫, ৯১৫৮, ৯৯৪৮।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو هِشَامٍ الْمَخْزُومِيُّ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ أَبِي وَاقِدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " اسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ فَإِنَّ الْعَيْنَ حَقٌّ " .

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। কেননা বদনজর সত্য বা বাস্তব ব্যাপার।
(ইবনে মাজাহ ৩৫০৮)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
বদনজর সত্য।এত্থেকে  বাঁচতে সূরা ফাতেহা, সূরা ফালাক, সূরা নাস ও আয়াতুল কুরসী পড়া যেতে পারে। পাশাপাশি হাদিসে বর্ণিত নিম্নোক্ত দোয়াগুলো পাঠ করা যেতে পারে,

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

‘আঊযু বিকালিমাতিল্লা-হিত্ তা-ম্মাতি মিন শাররি মা খালাক্ব (আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালাম দ্বারা তাঁর কাছে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই)।’ [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৬৩১]

আরেক হাদিসে এসেছে,

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ

‘আঊযু বিকালিমাতিল্লাহিত্ তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি আয়নিন লাম্মাতিন (আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাত দ্বারা প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক কুদৃষ্টির অনিষ্ট হতে পানাহ চাচ্ছি)।’ [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩১৩২]

অপর এক হাদিসে এসেছে,

بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ وَعَيْنِ حَاسِدٍ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ وَاللَّهُ يَشْفِيكَ

‘বিসমিল্লাহি আরকিকা মিন কুল্লি শাইয়িন ইউযিকা মিন শাররি কুল্লি নাফসিন ও আয়নি হাসিদিন বিসমিল্লাহি আরকিকা ওয়াল্লাহু ইয়াশফিকা (আমি আপনাকে আল্লাহ তাআলার নামে ঝাড়ছি এমন সকল কিছু হতে যা আপনাকে কষ্ট দেয় এবং সকল প্রকার অনিষ্টকর প্রাণী ও সকল হিংসুটে দৃষ্টি হতে। আল্লাহ তাআলার নামে আমি আপনাকে ঝাড়ছি, আপনাকে আল্লাহ তাআলা সুস্থতা দান করুন)।’ [সুনানে তিরমিযী, হাদিস: ৯৭২]

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়গুলি বদ নজর এর প্রভাবে হতে পারে। আপনি যদি উপরে উল্লেখিত আমল করতে পারেন, ইনশাআল্লাহ আর কোন সমস্যা হবে না।

(০২)
হ্যাঁ, তাদেরও বদনজর লাগতে পারে।

(০৩)
পরামর্শ থাকবে, আপনি পুনরায় দারস এবং তালিমী বৈঠকগুলোতে বসবেন।
যাবতীয় চিন্তা পরিহার করবেন।

উপরে উল্লেখিত আমল গুলি করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (37 points)
শুকরিয়া, জাযাকাল্লাহু খইর

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...