আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
122 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (1 point)
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ
গত একমাস আগে আমার একজন খুব নিকট আত্মীয় মারা গিয়েছেন, তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন, বাজারে তার নিজের ২টা দোকান আছে যা জীবিত অবস্থায় তিনি নিজেই চালাতেন। মারা যাওয়ার পর জানা যায় তার ব্যবসায়িক  প্রায় ৬ লক্ষ টাকা ঋণ আছে, এখন তার কোনো ছেলেমেয়ের এ টাকা পরিশোধের সামর্থ্য নেই। তাই তার বড় মেয়ে মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া ২ টা দোকানের উপর একজন থেকে ৬ লক্ষ টাকা  ঋন নিয়ে মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ করতে চাচ্ছে,  যার কাছ থেকে টাকা টা আনবেন ওই ব্যক্তির দাবি প্রতিমাসে দুইদোকানের যত টাকা ভাড়া আসে সে টাকা ঋণদাতা ব্যক্তিকে দিতে হবে, মানে যতদিন টাকা ফিরিয়ে না দেওয়া হয় ততদিন দোকান ভাড়া ওই ব্যক্তি নিবে । (যেহেতু অনেক গুলো টাকা তাই এমনি এমনি টাকা দিতে চাচ্ছে না দোকান গুলোর মাধ্যমে ব্যবসা হিসেবে ঋণ দিতে রাজি হয়েছে)

এখন আমার প্রশ্ন হলো দোকানের মাধ্যমে এ ঋণ করা টা কি জায়েয হবে, ৬ লক্ষ টাকা ঋণের বিনিময়ে প্রতিমাসের দোকান ভাড়া ওই ব্যক্তিকে দিয়ে দেওয়া কি কোনো প্রকার সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে .? নাকি ব্যবসা হিসেবে দোকান ভাড়া টা ঋণদাতা ব্যক্তিকে দেওয়া যাবে .? এই পুরো প্রক্রিয়ায় কি কোন গুনাহ হবে.?
যদি গুনাহ হয় তাহলে এখন কি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে যদি একটা ফয়সালা দিতেন তাহলে পরিবারের সদস্যদের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে ।
দ্রুত সময়ে উওর দিলে খুব উপকার হয় ।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান মতে সুদ গ্রহণ, সুদ প্রদান উভয়ই লানতপ্রাপ্ত গোনাহ। তাই এ ভিত্তিতে লোন নেওয়া,তা দিয়ে কোনো কিছু করা,অন্যকে এ থেকে লোন দেওয়া জায়েজ নয়। হারাম। 

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন  

الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا ۗ وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا ۚ فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَىٰ فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ ۖ وَمَنْ عَادَ فَأُولَٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ [٢:٢٧٥

যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে দন্ডায়মান হবে, যেভাবে দন্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছেঃ ক্রয়-বিক্রয় ও তো সুদ নেয়ারই মত! অথচ আল্লাহ তা’আলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অতঃপর যার কাছে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, পূর্বে যা হয়ে গেছে, তা তার। তার ব্যাপার আল্লাহর উপর নির্ভরশীল। আর যারা পুনরায় সুদ নেয়, তারাই দোযখে যাবে। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। {সূরা বাকারা-২৭৫}

হাদীস শরীফে এসেছে  
عبد الله بن مسعود عن أبيه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال لعن الله آكل الربا وموكله وشاهديه وكاتبه

হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ এর পিতা থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-“যে সুদ খায়, যে সুদ খাওয়ায়, তার সাক্ষী যে হয়, আর দলিল যে লিখে তাদের সকলেরই উপর আল্লাহ তায়ালা অভিশাপ করেছেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং-৩৮০৯, মুসনাদে আবি ইয়ালা, হাদিস নং-৪৯৮১)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নের বিবরন মতে এক্ষেত্রে ৬ লক্ষ টাকা ঋণের বিনিময়ে প্রতিমাসের দোকান ভাড়া ওই ব্যক্তিকে দিয়ে দেওয়া স্পষ্ট সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে। ব্যবসা হিসেবে দোকান ভাড়া টা ঋণদাতা ব্যক্তিকে দেওয়াও সুদ।

এই পুরো প্রক্রিয়া কোনো ভাবেই জায়েজ নয়,স্পষ্ট হারাম।

এক্ষেত্রে ও মৃত ব্যক্তির সন্তানদের জন্য উচিত মৃত ব্যক্তির দোকান বা বাড়ি যেটাই হোক তার সম্পদ বিক্রয় করে হলেও দ্রুত তার ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া।

মৃত ব্যক্তির সব সম্পত্তিও যদি ঋণ পরিশোধ করতে ব্যয় হয়ে যায়, তবুও সম্পত্তিগুলো বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
এক্ষেত্রে ওয়ারিশরা যদিও কোন অংশ না পায়। 

আরো জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...