আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
82 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (4 points)
আমার স্ত্রী এর কাছে ৩ ভরি সোনার গহনা আছে। সাথে কিছু টাকা ১ বছর ধরে থাকার কারনে গতবছর যাকাত দিয়েছে। যাকাত দেয়ার সময় সব টাকা খরচ করে ফেলে শুধু ৩ ভরি সোনার গহনা অবশিষ্ট থাকে।
এখন মাঝে মাঝে আমি অথবা অন্য কেউ হাদিয়া হিসেবে কিছু টাকা দেয়া হয়। সেইটা প্রয়োজনে সব টাকা খরচ করে ফেলে। মাঝে মধ্যে ২-৩ হাজার টাকা ৩-৪ মাস কাছে থাকে তারপর সব টাকা খরচ হয়ে যায়, তারপর আবার হাদিয়া হিসেবে টাকা পাইলে কাছে টাকা থাকে।  এক কথায় সারা বছর কাছে টাকা থাকে না, মাঝে মধ্যে থাকে, শুধু সোনা সারাবছর থাকে।
(বর্তমানে সোনার দাম হিসেব করলে ৩ ভরি সোনার সাথে ৫  টাকাও থাকলে সেইটা রুপার নিসাব সমপরিমাণ হয়ে যায়।)

প্রশ্ন:
১. এইবছর নিসাব পুর্তির দিন যদি ৩ ভরি সোনার গহনার পাশাপাশি ১-২ হাজার টাকা কাছে থাকে তাহলে কি যাকাত ফরজ হবে?
২. নিসাব পুর্তির কয়েকদিন আগে সব টাকা ইচ্ছাকৃত ভাবে খরচ করে ফেলে অথবা আমাকে দিয়ে দেয় তাহলে তো শুধু সোনার উপর তার নিসাব আসবে না। যাকাত ও ফরজ হবে না। এইভাবে ইচ্ছাকৃত ভাবে টাকা খরচ করে / দিয়ে নিসাব এর কম পরিমান সম্পদ বানানো কি জায়েজ হবে?
৩. কোরবানির ইদের দিন যদি ৩ ভরি গহনার পাশাপাশি ইদের হাদিয়া ১-২ হাজার টাকা থাকে, সাথে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পোশাক মিলিয়ে যদি নিসাব পরিমান হয়৷ তাহলে কি কুরবানি ওয়াজিব হবে?
৪. এর আগে কুরবানী ওয়াজিব হয়েছিলো কিন্তু কুরবানী দেয়া হয় নাই। এখন কাফফারা দেয়ার বিধান কি? শুধু কি কুরবানির ইদের সময়ই দিতে হবে নাকি যেকোন সময় দেয়া যাবে। কাফফারার কুরবানীর মাংস বন্টন কিভাবে করতে হবে? আর কোন বিধান আছে কি?জাযাকাল্লাহ খাইরান।

1 Answer

0 votes
by (805,290 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
সোনা, রূপা,টাকা,এবং ব্যবসায়িক মালে যাকাত আসে, যদি তা নেসাব পরিমাণ হয়।
স্বর্ণের নেসাবঃ৭.৫ ভড়ি।
রূপার নেসাবঃ৫২.৫ ভড়ি।
এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, কারো কাছে শুধুমাত্র স্বর্ণ বা শুধুমাত্র রূপা থাকলে সেটার নেসাব পূর্ণ হলেই যাকাত আসবে, অন্যথায় যাকাত আসবে না। তবে হ্যাঁ, যদি কারো নিকট স্বর্ণ এবং রূপা অথবা টাকা এভাবে থাকে যে, কোনোটিরই নেসাব পূর্ণ হয়নি, তাহলে এক্ষেত্রে রূপার নেসাবকেই মানদন্ড ধরে নেয়া হবে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/121

যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্ত হল, নেসাব পরিমাণ মালের মালিক হওয়ার পর বৎসরের শুরু থেকে নিয়ে বৎসরের শেষ পর্যন্ত নেসাব পরিমাণ মালের মালিক থাকা। এবং বৎসরের মধ্যখানে উক্ত মাল সম্পূর্ণরূপে নিঃশেষ না হয়ে যাওয়া। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/70964

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) স্বর্ণের সাথে যৎ সামান্য প্রয়োজন অতিরিক্ত টাকা বৎসরের শুরু এবং শেষে থাকলেও যাকাত ফরয হবে। আপনার স্ত্রীর নিকট যাকাতের বৎসরের সূচনা এবং শেষে যদি প্রয়োজন অতিরিক্ত কিছু টাকা থাকে, এবং স্বর্ণ ও ঐ টাকা মিলে ৫২.৫ ভড়ি রূপার সমপরিমাণ হয়ে যায়, তাহলে যাকাত ফরয হয়ে যাবে। নতুবা যাকাত ফরয হবে না। আপনার বিবরণমতে মাঝেমধ্যে কিছু টাকা থাকলে যাকাত ফরয হবে না 

(২) বৎসর পূর্তির পূর্বে সব টাকা খরচ করে ফেললে বা ইচ্ছাকৃত কাউকে দিয়ে দিলে মূলনীতির আলোকে যাকাত ফরয হবে না। তবে যাকাত থেকে বাচার জন্য ইচ্ছাকৃত এমনটা করা সঠিক হবে না,জায়েয হবে না।বরং যাকাত দিয়ে দেয়াই উচিত।

(৩) কোরবানির ইদের দিন যদি ৩ ভরি গহনার পাশাপাশি ইদের হাদিয়া ১-২ হাজার টাকা থাকে, সাথে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পোশাক মিলিয়ে যদি নিসাব পরিমান হয়ে যায়৷ তাহলে কুরবানি ওয়াজিব হয়ে যাবে।

(৪) কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার পরও কুরবানি না দিলে এজন্য এক বৎসর বয়সের একটি বকরি সদকাহ করতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (4 points)
১.কুরবানির কাফফারার সদকাহ কি কুরবানির ইদের সময়ই দিতে হবে? নাকি যেকোন সময় দিতে হবে?
২.মাংস কি সম্পুর্ন সদকা করে দিতে হবে?
৩. কোন এতিমখানায় / মাদ্রাসা তে কাফফারার কুরবানি দিলে কি আদায় হবে?

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...