আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
206 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (8 points)
১.জানা মতে,নামাযের মাঝে কোন কারনে(সাদা স্রাব/বায়ু ত্যাগ) নামায ভেঙে গেলে কোন রকম কথা না বলে ওযু করে এসে আগের স্থান থেকেই নামায শুরু করা যায়।

প্রশ্ন হচ্ছেঃ নামায ভেঙে গেলে কাপড় নাপাক হলে পরিবর্তন / স্থান পরিস্কার করে তারপর ওযু করে নামাজ শুর করা যাবে?

বাথরুমের দুয়া/ওযুর শেষের দুয়া পড়া যাবে?

২.কোনো কাজের নিয়্যাত আগে করতে মনে না থাকলে কাজটা সেরে ফেলার পর যদি নিয়্যাত করি এবং আল্লাহকে বলি, "আল্লাহ আমি অমুক কাজের জন্য এই এই নিয়্যাত এখন করছি, আগে করতে মনে ছিল না।" তাহলে কি সওয়াব হাসিল হবে?
৩.কোনো ফজিলতপূর্ণ সময়ে/বিশেষ মুহূর্তে কিছু কাজ করলে হয়তো অনেক সওয়ার হাসিল হতো। কিন্তু ওইসময় কাজটা করার কথা ভুলে গেলে পরবর্তীতে কাজ টা সেরে আল্লাহর কাছে যদি দুআ করি, আল্লাহ যেন কাজটা ফজিলতপূর্ণ সময়ের অন্তর্ভুক্ত করে দেন, তাহলে একই পরিমাণ সওয়াব পাওয়া যাবে?

৪.নফল সালাতে সিজদাহ্ তে দুয়া করা যায়।অনেক সময় সিজদাহ্তে দুয়া করার সময় সিজদাহ্ তাসবীহ পড়েছি কিনা ভুলে গেলে এক্ষেত্রে করনীয় কি? আবার তাসবীহ পড়লে কি ভুল হবে?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
শরীয়তের বিধান হলো যদি কাহারো নামাজের মধ্যে অজু ভেঙে যায়,তাহলে সে সাথে সাথে অজু করার জন্য যাবে,

(জামাআতের সাথে নামাজ আদায় করলে কাতার ভেঙ্গে দিয়ে সে পিছনের কাতার ফাকা করে মসজিদ থেকে বের হবে,চাইলে নাকের উপর হাত রেখেও বের হতে পারে।) 

এক্ষেত্রে নামাজ ভঙ্গকারী কোনো কাজ যেনো তার থেকে প্রকাশ না পায়, (যেমন কাহারো সাথে কথা বলা,ইত্যাদি)   অজু করে এসে তার ছুটে যাওয়া আগে আদায় করবে,এক্ষেত্রে তাকে কিরাআত পড়তে হবেনা,  তারপর ইমামের সাথে শরীক হয়ে তার সাথেই সালাম ফিরাইবে,আর যদি ইতিমধ্যে ইমাম সালাম ফিরিয়ে দেয়,তাহলে তার নামাজ পুরো করে সে নিজেই সালাম ফিরিয়ে দিয়ে নামাজ শেষ করবে।

★ উল্লেখ্য যে কাতার ফাকা করে অজু করতে যাওয়ার সময় সে যদি চায়,নাকে হাত দিতে পারে। যাতে করে মুছল্লিরা বুঝে নিবে যে তার অজু ভেঙ্গে গিয়েছে,তাতে সকলেই দ্রুত তার  যাওয়ার জন্য  জায়গা ফাকা করে দিবে। 

সুনানে ইবনে মাজা তে আছেঃ

عن عائشۃ رضي اللّٰہ عنہا قالت: قال رسول اللّٰہ صلی اللّٰہ علیہ وسلم: من أصابہ قيء أو رعاف
أو قلس أو مذي، فلنصرف فلیتوضأ، ثم لیبن علی صلاتہ وہو في ذٰلک لایتکلم۔ (سنن ابن ماجۃ ۱؍۸۵ رقم: ۱۲۲۱)
যার নামাজের মধ্যে বমি ইত্যাদি আসে,তাহলে সে সেখান থেকে চলে যাবে। অজু করবে,এই অবস্থায় সে কোনো ভাবেই কথা বলবেনা। তারপর তার বাকি নামাজ আদায় করে নিবে।
,
আরো জানুনঃ 

হযরত আয়েশা রাযি থেকে বর্ণিত
عن عائشة، قالت: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «إذا أحدث أحدكم في صلاته فليأخذ بأنفه، ثم لينصرف»
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,যদি তোমাদের কারো নামাযে অজু চলে যায়,তাহলে সে যেন নিজ নাকে ধরে নামায ভেঙ্গে অজুর জন্য চলে যায়।(সুনানু আবি দাউদ-১১১৪)

নামাযে যদি কারো অজু ভঙ্গ হয়ে যায়,এবং ঐ ব্যক্তি যদি প্রথম কাতারে থাকে,তাহলে তিনি প্রত্যেক দুই ব্যক্তির মধ্যখানে ফাক সৃষ্টি করে তিনি মসজিদ থেকে বের হয়ে অজু করতে চলে যাবেন।কিংবা যদি সামন দিক দিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকে,তাহলে তিনি সামন দিক দিয়ে যাবেন।এক্ষেত্রে অনেককে ডিঙ্গিয়ে যাওয়ার রুখসত রয়েছে।এতে কোনো সমস্যা হবে না।কেননা এগুলো নিজের নামাযকে সংশোধন করার নিমিত্তেই করা হচ্ছে।যদি নামাযের কাতার থেকে বাহির হওয়ার কোনো সুযোগ না থাকে,বা কাতার সংখ্যায় অনেক থাকে,তাহলে এমতাবস্থায় বিধান হল,ঐ ব্যক্তি নামাযকে পরিত্যাগ করে আপন স্থানে বসে থাকবে।
(ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যাহ-৬/৫৭৯)

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
নামাযের অযু ভেঙে গেলে কাপড় নাপাক হলে যদি সেই কাপড় পরিধান করেই নামাজ আদায় করতে হয়,সেক্ষেত্রে দ্রুত সেই কাপড় পরিবর্তন /কাপড়ের সেই স্থান পরিস্কার করে পাক করে তারপর ওযু করে নামাজ শুরু করা যাবে।

বাথরুমের দুয়া/ওযুর শেষের দুয়া পড়া যাবেনা।

(০২)
এক্ষেত্রে আপনি কোন ধরনের কাজের নিয়ত উদ্দেশ্য করছেন, তা কমেন্ট বক্সে উল্লেখ করলে জবাব প্রদানে সুবিধা হতো।

(০৩)
তাহলে একই পরিমাণ সওয়াব পাওয়া যাবেনা।

তবে এ আমলে যদি আপনি অভ্যস্ত হন, নিয়মিত যদি আমলটি করে থাকেন, হঠাৎ করে যদি আপনার এরকম মিস হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে আল্লাহর ভান্ডার যেহেতু অফুরন্ত, তাই আল্লাহ তায়ালা চাইলে আপনাকে একই সওয়াব দিতেও পারে।

(০৪)
আবার তাসবীহ পড়লে সমস্যা হবেনা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ।

ধরুন অভাবী মিসকিনদের অর্থ প্রদানের সময় সাদাকার নিয়ত করতে ভুলে গিয়েছি। গতানুগতিক টাকা দিয়ে চলে গেলাম। পরে মনে পড়লো। অথবা নামাজের স্থান পরিষ্কারের সময় পবিত্রতার নিয়ত করতে ভুলে গেলাম। এমতাবস্থায় পরে নিয়্যাত করলে হবে কিনা?
by (770,460 points)
সেই টাকা ওই মিসকিনের নিকট থাকা অবস্থায় পর্যন্ত আপনি যাকাতের নিয়ত করতে পারবেন।


নামাজের স্থান পবিত্রতার নিয়তের বিষয়ঃ- 

এক্ষেত্রে নিয়ত না করার দরুণ কোন সমস্যা হবে না।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...