السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
আমার কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে দাঁড়ানো অবস্থাতে কখনো কখনো মগজে অক্সিজেন না পৌঁছার কারণে চোখমুখ অন্ধকার হয়ে আসে, ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। বিশেষত নামাজের প্রথম ও তৃতীয় রাকাআতে সিজদাহ থেকে সরাসরি উঠে দাঁড়ানোর পর খারাপ লাগাটা বেড়ে যায়। চোখ খুললেই মনে হয় পড়ে যাব। এবং আসলেই ব্যালেন্স রাখতে পারি না। তখন একদিকে হেলে পড়ে যাওয়ার অবস্থা হয়।
এটা না খাওয়া কিংবা দুশ্চিন্তা করার সাথে সম্পর্কিত নয়। কখন কী হয় তা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। কখনো কখনো দাঁড়ানোর একটু পরেই সব ঠিক হয়ে যায়, কখনো কখনো যতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি ততক্ষণই এই অবস্থা থাকে। তখন ঘণ্টাখানেক পার হয়ে গেলেও স্বাভাবিক হই না।
১. এক্ষেত্রে আমি যদি উঠে দাঁড়িয়ে দুই পা আগপিছ করে দাঁড়িয়ে ভারসাম্য রক্ষা করি, সেটা কি আমলে কাসীর হবে? কারণ এভাবে দাঁড়ালে হঠাৎ করে কেউই মনে করবে না সালাতে আছি (যেহেতু হাত হিজাবের নিচে বাঁধি)।
২. তা না হলে আমি কি কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ রাখতে পারব? এই সময়ে আমার হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। একটু স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলে সেটা ওজরের মধ্যে গণ্য হবে, নাকি তিন তাসবীহ সময় পার হয়ে যাওয়ার কারণে সাহু সিজদাহ ওয়াজিব হয়ে যাবে?
৩. নামাজে তিলাওয়াত করার সময় যত আস্তেধীরেই করি না কেন, একটা সময় শ্বাসকষ্ট আরম্ভ হয়ে যায়। এই অবস্থায় তিলাওয়াত চালিয়ে আয়াত শেষ করে নিলে দেখা যায় কিছুক্ষণ বড় বড় শ্বাস না নিলে আগাতে পারছি না। এভাবে তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় পার হয়ে গেলে কি নামাজ ফাসিদ হবে অথবা সাহু সিজদাহ ওয়াজিব হবে?
এই পরিমাণ সময় পার হয়ে যাবে ভয়ে সহজে শ্বাস নিতেও পারি না।
৪. মেয়েরা যদি যাহেরী তিলাওয়াত করে, তাহলে তার তিলাওয়াত কোনো মাহরাম শুনে ফেললে কি নামাজে ক্ষতি হবে?
আওয়াজ আস্তেই করি। এত আস্তে যে রুমে থাকা অপরজনও সবসময় শুনতে পায় না। কিন্তু একদম নীরবে পড়লে খুশু-খুযু ছুটে যায়। একটু আওয়াজ করলে মনে হয় আল্লাহ তা‘আলা সামনে থেকে তিলাওয়াত শুনছেন। আর ফিসফিস করে পড়লে শ্বাসকষ্টও বেশি হয়। এভাবে আওয়াজের বৈধতা না থাকলে দয়া করে জানিয়ে দিয়েন।
جزاكم الله خيرا في الدنيا والآخرة