আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
96 views
in সালাত(Prayer) by (3 points)

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته

আমার কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে দাঁড়ানো অবস্থাতে কখনো কখনো মগজে অক্সিজেন না পৌঁছার কারণে চোখমুখ অন্ধকার হয়ে আসে, ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। বিশেষত নামাজের প্রথম ও তৃতীয় রাকাআতে সিজদাহ থেকে সরাসরি উঠে দাঁড়ানোর পর খারাপ লাগাটা বেড়ে যায়। চোখ খুললেই মনে হয় পড়ে যাব। এবং আসলেই ব্যালেন্স রাখতে পারি না। তখন একদিকে হেলে পড়ে যাওয়ার অবস্থা হয়।

এটা না খাওয়া কিংবা দুশ্চিন্তা করার সাথে সম্পর্কিত নয়। কখন কী হয় তা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। কখনো কখনো দাঁড়ানোর একটু পরেই সব ঠিক হয়ে যায়, কখনো কখনো যতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি ততক্ষণই এই অবস্থা থাকে। তখন ঘণ্টাখানেক পার হয়ে গেলেও স্বাভাবিক হই না।

১. এক্ষেত্রে আমি যদি উঠে দাঁড়িয়ে দুই পা আগপিছ করে দাঁড়িয়ে ভারসাম্য রক্ষা করি, সেটা কি আমলে কাসীর হবে? কারণ এভাবে দাঁড়ালে হঠাৎ করে কেউই মনে করবে না সালাতে আছি (যেহেতু হাত হিজাবের নিচে বাঁধি)।

২. তা না হলে আমি কি কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ রাখতে পারব? এই সময়ে আমার হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। একটু স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলে সেটা ওজরের মধ্যে গণ্য হবে, নাকি তিন তাসবীহ সময় পার হয়ে যাওয়ার কারণে সাহু সিজদাহ ওয়াজিব হয়ে যাবে?

৩. নামাজে তিলাওয়াত করার সময় যত আস্তেধীরেই করি না কেন, একটা সময় শ্বাসকষ্ট আরম্ভ হয়ে যায়। এই অবস্থায় তিলাওয়াত চালিয়ে আয়াত শেষ করে নিলে দেখা যায় কিছুক্ষণ বড় বড় শ্বাস না নিলে আগাতে পারছি না। এভাবে তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় পার হয়ে গেলে কি নামাজ ফাসিদ হবে অথবা সাহু সিজদাহ ওয়াজিব হবে?

এই পরিমাণ সময় পার হয়ে যাবে ভয়ে সহজে শ্বাস নিতেও পারি না।

৪. মেয়েরা যদি যাহেরী তিলাওয়াত করে, তাহলে তার তিলাওয়াত কোনো মাহরাম শুনে ফেললে কি নামাজে ক্ষতি হবে?

আওয়াজ আস্তেই করি। এত আস্তে যে রুমে থাকা অপরজনও সবসময় শুনতে পায় না। কিন্তু একদম নীরবে পড়লে খুশু-খুযু ছুটে যায়। একটু আওয়াজ করলে মনে হয় আল্লাহ তা‘আলা সামনে থেকে তিলাওয়াত শুনছেন। আর ফিসফিস করে পড়লে শ্বাসকষ্টও বেশি হয়। এভাবে আওয়াজের বৈধতা না থাকলে দয়া করে জানিয়ে দিয়েন।

جزاكم الله خيرا في الدنيا والآخرة

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
https://ifatwa.info/44884/ ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ 
হাদীস শরীফে এসেছেঃ 
হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: كَانَتْ بِي بَوَاسِيرُ، فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الصَّلاَةِ، فَقَالَ: «صَلِّ قَائِمًا، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا، فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَعَلَى جَنْبٍ»
আমার একবার অর্শগেজ হয়ে গেলো।আমি এমন অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নিকট নামায পড়ার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে জিজ্ঞাসা করলাম।তখন তিনি প্রতিউত্তরে বললেন,তুমি দাড়িয়ে নামায পড়বে,তারপর দাড়ানো সম্ভব না হলে বসে বসে নামায পড়বে।যদি বসেও সম্ভব না হয় তাহলে হেলান দিয়ে নামায আদায় করবে।(সহীহ বোখারী-১১১৭)

ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় বর্ণিত রয়েছে,
ولو كان قادرا على بعض القيام دون تمامه يؤمر بأن يقوم قدر ما يقدر 
যদি কেউ নামাযে কিছু সময় কিয়াম করার পর  অক্ষম হয়ে যায়,এবং এরপর আর দাড়াতে সক্ষম না হয়,তাহলে তার জন্য হুকুম হল যে, সে নামাযে ততটুকুই দাড়াবে যতটুকু তার জন্য সম্ভব হবে।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/১৩৬)

তারপর উল্লেখ করা হয়,
وإن عجز عن القيام والركوع والسجود وقدر على القعود يصلي قاعدا بإيماء ويجعل السجود أخفض من الركوع، كذا في فتاوى قاضي خان حتى لو سوى لم يصح، كذا في البحر الرائق.
যদি কেউ নামাযে কিয়াম,রুকু,সিজদা করতে অক্ষম থাকে,কিন্তু সে আবার বসে বসে পড়তে সক্ষম হয়,তাহলে তার জন্য হুকুম হল যে,;সে বসে বসে ইশারায় নামায পড়বে।এবং সেজদার সময় মাথাকে রুকু থেকে একটু বেশী নিচু করবে।(ফাতাওয়ায়ে কাযীখান)তবে যদি কেউ রুকু এবং সেজদার সময়ে মাথাকে সমান করে রাখে তাহলে তার নামাযই বিশুদ্ধ হবে না।(বাহরুর রায়েক্ব)

বিস্তারিত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ওযর বশত এমনটি হওয়ায় আপনার নামাজ আদায় হয়ে যাবে। 

(০২)
হ্যাঁ, আপনি চোখ বন্ধ করতে পারবেন।
ওযর বশত হওয়ায় সমস্যা হবে না।

এভাবে তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় চুপ অবস্থায় পার হয়ে গেলে সাহু সিজদাহ আদায় করবেন।

(০৩)
এভাবে তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় চুপ অবস্থায় পার হয়ে গেলে সাহু সিজদাহ আদায় করবেন।

(০৪)
কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে,আল্লাহ তা'আলা বলেন,

ﻳَﺎ ﻧِﺴَﺎﺀ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﻟَﺴْﺘُﻦَّ ﻛَﺄَﺣَﺪٍ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀ ﺇِﻥِ ﺍﺗَّﻘَﻴْﺘُﻦَّ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﺨْﻀَﻌْﻦَ ﺑِﺎﻟْﻘَﻮْﻝِ ﻓَﻴَﻄْﻤَﻊَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻓِﻲ ﻗَﻠْﺒِﻪِ ﻣَﺮَﺽٌ ﻭَﻗُﻠْﻦَ ﻗَﻮْﻟًﺎ ﻣَّﻌْﺮُﻭﻓًﺎ

(তরজমা) তোমরা (পর পুরুষের সাথে) বাক্যালাপে কোমলতা অবলম্বন কর না। যাতে এরূপ লোকের অন্তরে আকাঙ্ক্ষা (সঞ্চার) হয়, যার অন্তরে কুপ্রবৃত্তি রয়েছে। (সূরা আহযাব : ৩২)

নারীদের তেলাওয়াত পর-পুরুষের জন্য শ্রবণ করা জায়েয নয়।(আহসানুল ফাতাওয়া-৪/২০০)

মহিলারা সব নামাজেই এতটুকু আওয়াজে কিরাআত পড়বে,যাতে আওয়াজ নিজ কান পর্যন্ত পৌছতে পারে।
,
মহিলারা সব নামাজেই আস্তে কেরাত পড়বে।
তারা জন্য জোড়ে আওয়াজে কিরাআত পড়া নিষেধ।
কেহ যদি পড়ে,আর তার আওয়াজ গায়রে মাহরাম পুরুষ পর্যন্ত পৌছে,তাহলে সে গুনাহগার হবে।
তবে তারা নামাজ আদায় হয়ে যাবে।
কোনো সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবেনা।
(ফাতাওয়ায়ে শামী ১/৫০৪)
,
বিস্তারিত জানুনঃ- 

ইমাম সাহেব যদি জাহরী (উচ্চস্বরে কেরাত বিশিষ্ট) নামাযে বড় এক আয়াত বা ছোট তিন আয়াত পরিমাণ আস্তে পড়েন তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে। অনুরূপভাবে সিররী ( নিন্মস্বরে কেরাত বিশিষ্ট) নামাযে বড় এক আয়াত বা ছোট তিন আয়াত পরিমাণ কেরাত যদি এতটা উঁচু আওয়াজে পড়েন যে, পিছনে দাঁড়ানো লোকজনও শুনতে পায় তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে।
(রদ্দুল মুহতার ১/৫৩৫)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার নামাজ হবে।

এখন লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো,যদি জোহর আছর বা দিনের বেলার কোনো নামাজের কিরাআতে এভাবে উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করেন,সেক্ষেত্রে এর পরিমান বড় এক আয়াত বা ছোট তিন আয়াত পরিমাণ হলে নামাজের শেষে সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 135 views
0 votes
1 answer 608 views
...