0 votes
16 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (3 points)
আমরা এক বছর আগে পরিবারের মত ছাড়াই বিয়ে করেছিলাম দ্বীনের জন্য, ( আসলে আমরা হারাম সম্পর্কে ছিলাম এবং প্রথম দিকে ঈমান অতটা মজবুত না থাকায় সেই সম্পর্ক ত্যাগ করার চেয়ে বিয়ে করাটা আমাদের জন্য সহজ হয়, এবং উনিও মোটামুটি দ্বীনের পথেই চলছিলেন তখন) কিন্তু রিসেন্টলি আমি কূফু নিয়ে একটু কনফিউজড, কুফু বিষয়ে অনেক পড়েছি কিন্তু তবুও বুঝতে পারছিনা।

একটু বিবরন দেই -

১. শ্বশুর ( ছেলের বাবা) একজন মুহুরী( জমি জমা সংক্রান্ত দলিল করে থাকেন), পারিবারিক সম্পত্তির ব্যাপারে তেমন বিস্তারিত কিছু জানিনা, তবে অন্যান্য মধ্যবিত্ত পরিবারের মতোই। অতটা দীনদার নন।

২.আমার বাবা ( মেয়ের বাবা ) বিমান বাহিনীতে চাকরি করেন ( সেনা বাহিনীতে সেটা সৈনিক পর্যায়ের) এবং আমাদের এখন দুইটা ফ্ল্যাট আছে, এবং বাবার উপর এখনো ঋণ আছে, আমার বাবা তেমন দীনদার নন, এবং দিনের ক্ষেত্রে মোটামুটি সমস্যায় পড়তে হয় বাবার বাসায়।

৩. কিন্তু বিয়ের ছয়মাসের মাথায় একটা সমস্যা হয়। আমার স্বামী আমার সাথে প্রচুর রাগ করে, অনেকটা আমার কারণেই আমাকে তালাক ( একবারই) বলে বসে। ( তখনও আমাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়নি বা সেরকম পরিবেশেও যাইনি) আমরা ভেবেছিলাম এটা রাজআত এর মাধ্যমে ঠিক করা যাবে। (কিন্তু কয়েকদিন আগে জানতে পারলাম নতুন করে বিয়ে করতে হবে। তখন এই ব্যাপারে জানতাম না)

৪.বিয়ের প্রায় আটমাস পর প্রচুর ঝামেলা শুরু করি বাসায় ( অভিভাবক এর অনুমতি বিষয়ে মনে অনেক খটকা ছিল বিয়ে নিয়ে তাই), এবং একটা পর্যায়ে উভয় বাবা মা ই মোটামুটি রাজি হয়ে যান । বলেন আরো কয়েক বছর পর ভালো করে বিয়ের কথা ভেবে দেখবে।

বি দ্রঃ অভিভাবকের অনুমতি এবং কুফু বিষয়ক মাসয়ালা গুলো পড়েছি।

প্রশ্ন - . এখন আমরা জানতে পেরেছি আমাদের আবার বিয়ে পড়াতে হবে। কিন্তু বাসায় এসব বললে বিয়ে পড়াতে দেবে না। আমরা চাচ্ছি নিজেরাই বিয়েটা নবায়ন করতে। এক্ষেত্রে কি আবার আমার বাবাকে জিজ্ঞেস করতে হবে ? ( বাবা আগের বিয়ের কথা জানেন এবং সেই ঝামেলার পর মেনে নিয়েছিলেন ) আর আমাদের আগের বিয়েটা কি কুফু হিসেবে শুদ্ধ হয়েছিল ?
by (3 points)
আর নতুন করে বিয়ের ব্যাপারে কি করতে হবে?

1 Answer

+1 vote
by (102,720 points)
edited by
জবাব
بسم الله الرحمن الرحيم 

,
ইসলামী শরীয়তে বিবাহ শুদ্ধ হবার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে। যথা-
বর ও কনেকে কিংবা তাদের প্রতিনিধিকে ইজাব তথা প্রস্তাবনা ও কবুল বলতে হয়।

উক্ত ইজাব ও কবুলটি বলতে হয় দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক মসলিম পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলার সামনে।

قوله صلى الله عليه وسلم : ( لا نكاح إلا بولي وشاهدي عدل ) رواه البيهقي من حديث عمران وعائشة ، وصححه الألباني في صحيح الجامع (7557) 
বিয়ের আকদের সময় সাক্ষী রাখতে হবে। রাসুলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “অভিভাবক ও দুইজন সাক্ষী ছাড়া কোন বিবাহ নেই।” [তাবারানী কর্তৃক সংকলিত, সহীহ জামে (৭৫৫৮)]।

 নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী- “তোমরা বিয়ের বিষয়টি ঘোষণা কর।”[মুসনাদে আহমাদ এবং সহীহ জামে গ্রন্থে হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলা হয়েছে (১০৭২)]
۔
ইজাব ও কবুলটি উভয় সাক্ষ্যি স্বকর্ণে শুনতে হবে।


فى الدر المختار- ( و ) شرط ( حضور ) شاهدين ( حرين ) أو حر وحرتين ( مكلفين سامعين قولهما معا ) (الدر المختار ، كتاب النكاح،-3/9)

অনুবাদ-বিবাহ সহীহ হওয়ার শর্ত হল শরীয়তের মুকাল্লাফ [যাদের উপর শরীয়তের বিধান আরোপিত হয়] এমন দুইজন আযাদ পুরুষ সাক্ষি বা একজন আযাদ পুরুষ ও দুইজন মহিলা সাক্ষি হতে হবে, যারা প্রস্তাবনা ও কবুল  বলার উভয় বক্তব্য স্বকর্ণে উপস্থিত থেকে শুনতে পায়। {আদ দুররুল মুখতার-৩/৯, ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/২৬৮}

উক্ত তিনটির কোন একটি শর্ত না পাওয়া গেলে ইসলামী শরীয়তে বিবাহ শুদ্ধ হয় না।

উপরোক্ত তিনটি শর্ত  পাওয়া গেলে বিবাহ হবে,অন্যথায় বিবাহ হবেনা।
,
★★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই বোন,    
বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হল দু’জন আযাদ প্রাপ্ত বয়স্ক বিবেকবান দুই জন মুসলিম স্বাক্ষের সামনে পাত্র/পাত্রি প্রস্তাব দিবে আর অপরপক্ষে পাত্র/পাত্রি তা কবুল করবে। আর সাক্ষিগণ উভয়ের কথা সুষ্পষ্টভাবে শুনবে। 
আপনাদের বিবাহ যদি এই শর্ত মেনেই হয়ে থাকে,আর বিবাহের  সময় যদি আপনারা উভয়েই বালেগ বালেগাহ হোন,তাহলে আপনাদের বিবাহ শুদ্ধ হয়ে গিয়েছে।
নতুন করে আর বিবাহ পড়াতে হবেনা। 
,

শরীয়তের বিধান হলো যদি দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক সমঝদার সাক্ষ্যির সামনে প্রাপ্ত বয়স্ক পাত্র ও পাত্রি যদি প্রস্তাব দেয় এবং অপরপক্ষ তা গ্রহণ করে নেয়, তাহলে ইসলামী শরীয়াহ মুতাবিক বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যায়। অভিভাবকের সম্মতি থাকুক বা না থাকুক। অভিভাবক জানুক বা না জানুক।

তবে যদি গায়রে কুফুতে বিবাহ করে,তথা এমন পাত্রীকে বিবাহ করে, যার কারণে ছেলে বা মেয়ের পারিবারিক সম্মান বিনষ্ট হয়, 

সেই ছুরতেও বিবাহ হয় যায় তবে পিতা সে বিয়ে আদালতের মাধ্যমে ভেঙ্গে দিতে পারে। যদি কুফুতে বিবাহ করে, তাহলে পিতা এ অধিকারও পাবে না।
,
অর্থাৎ কুফু না মিললে অভিভাবক  আদালতের মাধ্যমে ভেঙ্গে দেওয়ার অধিকার পাবে,কুফু মিললে সেই অধিকার পাবেনা।
তবে বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যাবে।
,
আপনাদের বিবাহ যেহেতু আপনাদের অভিভাবক মেনে নিয়েছেন,তাই কুফুর কোনো সমস্যা নেই।
,
এখন যেহেতু আপনার স্বামী আপনাকে তালাক দিয়েছিলো,তাই এখানে তালাকের মাসয়ালা ধর্তব্য হবে।
,
যদি স্পষ্ট তালাক শব্দ বলে তালাক দেয়,তাহলে এক তালাকে রজয়ী পতিত হয়েছে।
এক্ষেত্রে বিধান হলো ইদ্দতের মধ্যেই স্ত্রীর সাথে স্বামী  সুলভ আচরন বা কথা বলার মাধ্যমে ফিরিয়ে নেওয়া।
,
যদি ইদ্দতের মধ্যে ফিরিয়ে না নেয়,তাহলে নতুন করে বিবাহ পড়িয়ে নিতে হবে।
,
সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে যদি স্পষ্ট "" তালাক"" শব্দ ব্যবহার করে আপনাকে তালাক দেয়,আর আপনার ইদ্দতের মধ্যে আপনাকে ফিরিয়ে না নেয়,তাহলে নতুন করে আবার বিবাহ পড়িয়ে নিতে হবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...