আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
85 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ শায়খ। একটা জটিল এবং বিব্রতকর পরিস্থিতিতে থাকা এক বোনের হয়ে প্রশ্নটি করা।

স্বামী আপাদমস্তক একজন ভদ্র লোক। সমাজে প্রতিষ্ঠিত, উচ্চপদস্থ। পারিবারিক বোঝাপড়াতেই বিবাহ। পাত্র আগ্রহের সাথেই বিবাহ করে। স্ত্রী দেখতে শুনতে ভালো, শিক্ষিত, দ্বীনদার, এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের।
কিন্তু প্রথম রাত থেকেই স্বামীর আচরণ ও আগ্রহ অস্বাভাবিক। কান্নাকাটি করে ঘুমিয়ে পড়ে। স্ত্রীর কাছে আসতে চাইতো না। স্ত্রী কথা বলে বুঝানোর চেষ্টা করে এবং একবছর পর একবার মেলামেশা করে, গর্ভবতী হয় এবং প্রথম কন্যাসন্তান হয়। এর মাঝে আবার স্বামী আগের মত। আগ্রহী নয়, কালেভদ্রে সহবাস করতে বাধ্য হওয়া। মোট সাত বছরে সর্বোচ্চ ১০ বার। এরপর পুত্রসন্তানের জন্ম। কিন্তু স্ত্রীর এক ধরনের ইনফেকশন (এইডস না) হয়, যা স্ত্রীর পীড়াপীড়ির কারনে স্বামী স্বীকার করে যে স্বামী সমকামী। মহিলাদের প্রতি তার আসক্তি নেই।

এমনিতে সব স্বাভাবিক। আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব সবার কাছেই ভালো। কিন্তু বিগত তিন বছর ধরে একই ছাদের নিচে বসবাস, আলাদা কক্ষে এবং সে স্ত্রীর কাছে আসে না। আর স্ত্রীও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। স্ত্রী ডিভোর্স চায়, কিন্তু স্বামী দিবে না। ডিভোর্স নিতে হলে বাচ্চাদের ছেড়ে যেতে হবে। স্ত্রীর নামে কু্ৎসা রটাবে।
সে এখন বলে যে পুরুষ মহিলা কারো প্রতি আর আকর্ষণ অনুভব করে না। সে পিছনের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত। সে আর আগের গুনাহে লিপ্ত না।
কিন্তু সে স্ত্রীর কাছে যাবে না। বাচ্চারা ১০ ও ৪ বছরের। তারা আরো বড় না হওয়া পর্যন্ত ডিভোর্স নিতে হলে বাচ্চাদের ছেড়ে যেতে হবে।
স্ত্রী অত্যন্ত ভদ্র এবং মার্জিত স্বভাবের। ঝগড়াঝাঁটি রাগারাগি করতে পারে না বিধায় স্বামী তাকে পেয়ে বসেছে। কিন্তু এমতাবস্থায় স্ত্রী গুনাহে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করে। পারিবারিক ও সামাজিক সম্মানের কথা ভেবে আইন আদালতের দ্বারস্থ হতে পারছে না। সন্তানদের মহব্বত ও ভবিষ্যতের কথা ভেবেও কিছু করতে পারছে না।
যেহেতু স্বামী বলেছে যে, সে তার কাছে আসবে না, এক্ষেত্রে কি এটা ইলা তালাকের আওতায় আসবে এবং চার মাস পর সে স্বামীর থেকে মুক্তি পেতে পারে? যদি মুক্তি মেলে, তাহলে কি অন্যত্র গোপনে বিবাহ সম্পাদন করতে পারবে?
এক্ষেত্রে আপনার শরীয়াহভিত্তিক সুচিন্তিত ফতোয়া প্রত্যাশা করছি। জাযাকাল্লহু খয়রান শায়খ।

1 Answer

0 votes
by (807,900 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
তালাক প্রদান করা সম্পূর্ণ স্বামীর অধীকার।হ্যা শরীয়ত কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্ত্রীকে নিজের উপর তালাক প্রদানের অনুমোদন দিয়েছে।যেমন,স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক প্রদানের অনুমতি প্রদান করলে,স্ত্রী নিজেকে তালাক দিতে পারবে।তাছাড়া স্বামী খোরপোষ না দিলে,স্ত্রী কাযী সাহেবের নিকট অভিযোগ দায়ের করতে পারবে।কিংবা স্বামী নিখোঁজ হলে বা ধ্বজভঙ্গ হলে কোর্ট বিবাহ ভঙ্গের রায় দিতে পারবে।

স্বামীর খোঁজখবর না থাকলে স্ত্রী চার বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।চার বছর অপেক্ষার পরও যদি স্বামীর কোনো খোঁজখবর না মিলে,কোর্ট স্বামীর পক্ষ্য থেকে বিবাহ ভঙ্গ করে দিবে।স্ত্রী তালাক দিতে পারবে না।তালাক দেয়ার অধীকার স্ত্রীর নেই।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/4506

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
যেহেতু ঈ'লা হয়নি, তাই আপনার জন্য সংসার করার রুখসত রয়েছে। কিন্তু যেহেতু ভবিষ্যতে ফিতনার আশংকা রয়েছে, তাই আপনি পারিবারিকভাবে বিষয়টিকে উত্তাপন করতে পারেন। অথবা কাজী কিংবা কোর্টে তালাকের আবেদন করতে পারেন। আর যদি আপনার তালাকের অধিকার থাকে, তাহলে নিজের উপর তালাক গ্রহণ করতে পারবেন। 

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
প্রশ্নের বিবরণমতে ঈ'লা হবে না।কেননা এখানে তো স্বামী সহবাস না করান কসম করেনি। কসম করলেও কেবল ঈলা হয়ে থাকে। যা পরবর্তীতে তালাকের রূপ গ্রহণ করে।
’’ إذا قال الرجل لامرأتہ واللّٰہ لا أقربک أو قال واللّٰہ لا أقربک أربعۃ أشھر فھو مول ۔۔۔  فإن وطئھا فی الأربعۃ الأ شھر حنث فی یمینہ وفي ذمتہ الکفارۃ ‘‘ (الہدایۃ : ۴۰۱ ، باب الإیلاء)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...