আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
104 views
in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (1 point)
closed by
আমি এবং আমার এক ভাই মিলে আমরা ফুটপাতে ফলের ব্যবসা করতে চাচ্ছি। তো ফুটপাতে ব্যবসা করলে রাজনৈতিক দলের লোকদের প্রতিদিন চাদা দেওয়া লাগে, নয়তো ওখানে করা সম্ভব না। তো প্রতিদিন এই ৳ দেওয়া কি হালাল হবে? কারন এই ৳ তো সরকার পাচ্ছে না, ম্যাজিস্ট্রেট আসলে উঠে যেতে হয় আবার রাজনৈতিক দলকে ৳ না দিলে সেখানে দোকান দিতেও দিবে না। এমতাবস্থায় উনাদের ৳ দেওয়া কি হালাল হবে নাকি এভাবে ব্যবসা না করাই ভালো?

আমার আরেকটি প্রশ্ন হলোঃ এই ব্যবসায় মূলধন আমি দিচ্ছি এবং আমার ভাই পরিশ্রম। আমার পক্ষে দোকানের কোনো কাজ করা সম্ভব না। কারন আমি অন্য জেলায় থাকি।  আমার মূলধন ৫০ হাজার টাকা, মানে এই টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু হচ্ছে। তো খরচের কথা বলতে প্রতিদিন ফল ক্রয় করা, একজন শ্রমিক রাখা লাগবে, তো তার খরচ, যাতায়াত খরচ, খাবার খরচ, রাজনৈতিক দলকে ৳ দেওয়া এবং মাসিক খরচ হিসেবে কারেন্ট বিল।  নিচের কোন প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ব্যবসা করলে হালাল হবে?

প্রেক্ষাপট ১ => ৫০ হাজার টাকার অর্থাৎ সম্পূর্ণ টাকার ফল ক্রয় করা। দিন শেষে সকল ফল ৬০ হাজার টাকার বিক্রি হলো। তার মানে ১০ হাজার টাকা লাভ হলো। এখন এই ১০ হাজার টাকা থেকে শ্রমিকের পারিশ্রমিক, যাতায়াত, রাজনৈতিক দলকে ৳ অর্থাৎ সকল খরচ এখান থেকে করা হলো। খরচ শেষে দেখা গেলো ৫হাজার টাকা লাভ হয়েছে। এখন চুক্তি অনুযায়ী ৫হাজার টাকা উভয়ের মাঝে চুক্তি অনুযায়ী ভাগ হবে। আর যদি ফল ক্রয় ব্যতিত অন্য খরচের টাকার পরিমান লাভ না হয়, তাহলে সেটা আমাদের মধ্য হতে যেকোনো একজন দিবে এবং তারপর  পরের দিনের লভ্যাংশ থেকে আগের দিনের টাকা পরিশোধ করা হবে

প্রেক্ষাপট ২=> ৪০ হাজার টাকার অর্থাৎ কিছু টাকা হাতে রেখে ফল ক্রয় করা হবে। বাকি ১০ হাজার টাকা দিয়ে অন্যান্য খরচ(যাযতায়াত, খাবার ইত্যাদি) করা হবে। ধরি ৫হাজার টাকা অন্যান্য খরচ হয়েছে। তার মানে মোট খরচ হলো ৪৫হাজার টাকা। আর ধরেন ফল বিক্রি হয়েছে ৬০হাজার টাকার। এখন ৬০হাজার টাকা থেকে ৪৫হাজার টাকা বাদ দিয়ে যেই ১৫হাজার টাকা থাকলো, সেটা উভয়ের মাঝে চুক্তি অনুযায়ী বন্টন হবে। আর যদি ফল বিক্রি ৪২হাজার টাকার ফল বিক্রি হয়, তাহলে ৩হাজার টাকা যেই লস হবে, সেটা আমার। পরের দিন আমি আবার প্রয়োজন অনুযায়ী ৳ দিবো, অর্থাৎ লসের অংশীদার সে থাকছে না

উপরের ২ প্রেক্ষাপটের কোন ভাবে ব্যবসা করলে সেটা হালাল হবে? যদি ২টাই হালাল না হয়, তাহলে কিভাবে করলে সেটা হালাল হবে, সেই সম্পর্কে বিস্তারিত জানিইয়েন যাতে আমরা ব্যবসা করতে পারি ইন শা আল্লাহ
closed

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
selected by
 
Best answer
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

শরীয়তের বিধান হলো কাহারো সম্পদ তার সন্তুষ্টি ব্যাতিত ব্যবহার করা জায়েজ হবেনা। 

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ 

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَاۡکُلُوۡۤا اَمۡوَالَکُمۡ بَیۡنَکُمۡ بِالۡبَاطِلِ اِلَّاۤ اَنۡ تَکُوۡنَ تِجَارَۃً عَنۡ تَرَاضٍ مِّنۡکُمۡ ۟ وَ لَا تَقۡتُلُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِکُمۡ رَحِیۡمًا ﴿۲۹﴾ 
হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না; কিন্তু তোমরা পরস্পর রাযী হয়ে ব্যবসা করা বৈধ এবং নিজেদেরকে হত্যা করো না; নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।
(সুরা নিসা ২৯)

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 
عَنْ أَبِىْ حُرَّةَ الرَّقَّاشِىِّ عَنْ عَمِّه قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : «أَلَا لَا تَظْلِمُوا أَلَا لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ». رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيْمَانِ وَالدَّارَقُطْنِىِّ فِى الْمُجْتَبٰى

আবূ হুররাহ্ আর্ রক্কাশী (রহঃ) তাঁর চাচা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! কারো ওপর জুলুম করবে না। সাবধান! কারো মাল তার মনোতুষ্টি ছাড়া কারো জন্য হালাল নয়।
আহমাদ ২০৬৯৫, শু‘আবুল ঈমান ৫১০৫, ইরওয়া ১৪৫৯, সহীহ আল জামি‘ ৭৬৬২।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
(০১)
প্রশ্ন উল্লেখিত ছুরতে যারা আপনাদের থেকে এভাবে জুলুম করে টাকা নিবে, তাদের জন্য এ টাকা নেওয়া হারাম হবে।

তবে আপনাদের ব্যবসা ও উপার্জন সম্পূর্ণ হালাল হবে।

(০২)
১ম প্রেক্ষাপট সহীহ।
তবে এক্ষেত্রে লভ্যাংশ উভয়ের মাঝে শতকরা হারে নির্ধারণ করতে হবে।

বিস্তারিত জানুনঃ-  https://www.ifatwa.info/61392/


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...