0 votes
5 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম,

আমি একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত স্কলারশিপ নিয়ে ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করতে এসেছি।  দেশে থাকা অবস্থায় আমাকে জানানো হয়েছিল যে স্কলারশিপ বাবদ প্রতিমাসে এত টাকা করে দেওয়া হবে। পরিস্থিতিভেদে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত বদল করতে পারে বা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত-এই টাইপের কোনো শর্ত দেওয়া হয়নি, অর্থাৎ যা বুঝেছি যে মিনিমাম এই সুবিধাটুকু আমি যেকোনো পরিস্থিতিতেই পাব। আমি ২০১৯ সালে যখন স্কলারশিপের আবেদন করি তখন করোনা ছিল না, কিন্তু গতবছর যখন আমার ক্লাস শুরু হয়, তখন পৃথিবীব্যাপী করোনার তান্ডব চলছিল। তাই অনেকের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইংল্যান্ডে পৌঁছতে বিলম্ব ঘটে, আমারও একমাস দেরি হয়েছিল (অনলাইনে ক্লাস করতাম)। তো ওরা আমাকে জানিয়েছিল যে যতদিন আমি বাংলাদেশে থাকব, আমাকে স্কলারশিপের অর্ধেক টাকা দেওয়া হবে (যদিও আমি মনে করি, এটা অন্যায়। কারণ, আমি যখন আবেদন করি তখন এমন কোনো কথা বলা ছিল না যে পরিস্থিতিভেদে আমার স্কলারশিপের টাকার কমবেশি হতে পারে। এবং আমার মতো বাংলাদেশের আরো যারা অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে স্কলারশিপ নিয়ে এই ভার্সিটিতে পড়তে এসেছে তাদেরকে তাদের প্রতিষ্ঠান দেশে থাকার সময়ও ফুল পেমেন্টই করেছে)। যাই হোক, দেশে থাকলে লস বুঝতে পেরে আমি লকডাউনের পর যখনই কয়েকটা এয়ারলাইন্স ওপেন করে দিল, দ্রুত দেশ ছাড়লাম। ইংল্যান্ডে আমাকে ১৫ দিনের জন্য একটা হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হল। হোটেলে থাকা-খাওয়ার খরচ আমার স্কলারশিপদাতা প্রতিষ্ঠান বহন করতে চেয়ে মেইল দিল (যারা দেশে থাকলেও ফুল পেমেন্ট পেয়েছিল তা্রাও কিন্তু হোটেল খরচ পাচ্ছিল)। হোটেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আমি যখন হোস্টেলে উঠলাম তখন আমাকে নতুন করে জানানো হলো যে আমার হোটেলে থাকা-খাওয়া বাবদ তারা খরচ করেছে বিধায় এই মাসেও আমাকে অর্ধেক টাকা দেওয়া হবে (অর্থাৎ, আমাকে ফ্রি থাকতে-খেতে দিল না। কিন্তু অন্যান্য বাংলাদেশীগুলো হোটেলে খরচও পেল, আবার ফুল স্কলারশিপের টাকাও পেল)। তাহলে দেখা গেল, আমাকে বাংলাদেশে থা্কার সময় একমাসের জন্য অর্ধেক টাকা দিল, এরপর ইংল্যান্ডে আসার পরও ট্রিক্স করে অর্ধেক দিল (যদিও কথা ছিল যে এখানে আসলে ফুল দেওয়া হবে, কিন্তু অন্যান্য বাংলাদেশীরা যে প্রতিষ্ঠান থেকে স্কলারশিপ পেয়েছিল তারা বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড সব যায়গাতেই ফুল টাকা দিল, আর করোনা নামে যে একটা মহামারী আসবে তা যেহেতু আগে থেকে কেউ জানত না তাই কোয়ারেন্টাইনের খরচ এর কথা স্কলারশিপের আবেদনের সময় উল্লেখ না থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাদের প্রতিষ্ঠান হোটেল খরচটি একটি 'অতিরিক্ত সুবিধা' হিসেবে প্রদান করেছে, যা আমার প্রতিষ্ঠান করেনি)। আমার কথা হলো, আমার স্কলারশিপদাতা প্রতিষ্ঠান এর নিয়মে  যেহেতু লেখা ছিল না যে পরিস্থিতিভেদে তাদের সিদ্ধান্ত চেঞ্জ হতে পারে, কাজেই আমি নূন্যতম যে সুবিধাগুলো দেখে স্কলারশিপটার জন্য আবেদন করেছি, তা থেকে কি তারা কাটছাঁট করতে পারে? অর্থাৎ, পরিস্থিতি ভিন্ন হলে বেনিফিট অভ সিচুয়েশন পেতে হলে সেটা গ্রাহক হিসেবে আমারই পাওয়ার কথা নয় কি, যেমনটা অন্যান্য বাঙালিরা পেল? তবু নাহয় দেশে থাকা অবস্থায় আমাকে অর্ধেক দেওয়ার ব্যাপারটা মেনে নিলাম। কারণ , ক্লাস শুরুর আগেই তারা আমাকে এই নতুন শর্ত জানিয়েছিল, আমি তখন চাইলে রাজি নাও হতে পারতাম, কিন্তু তা মেনে নিয়েই ক্লাসে যোগদান করেছি। কিন্তু আমাকে ইংল্যান্ডে নিয়ে আসার পর অর্ধেক টাকা দেওয়ার ব্যাপারটি তো পুরোটাই বেইনসাফি মনে হয় আমার কাছে। কারণ, এটা কেন দেশে থাকার সময়ই বলে দিল না? তাহলে আমি এই কোর্স করব কি করব না এই সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম। অর্থাৎ, আমার মূল আপত্তির যায়গাটা হলো, আমাকে একটা ভিন্ন দেশে উড়িয়ে নিয়ে আসার পর একের পর এক নতুন নতুন শর্ত চাপিয়ে দেওয়াটা কি আইনসঙ্গত হচ্ছে? এখন তাদের শর্ত মেনে না নিয়েও তো আমার উপায় নেই, কারণ আমি দেশে যেখানে চাকরি করি ওখান থেকে ছুটি নিয়ে চলে এসেছি, এখন কোর্স সমাপ্ত না করে ফিরেও যেতে পারছি না, নানা জটিলতা তৈরি হবে তাই।
এমতাবস্থায়,এগুলো বরদাশত করে এখানে পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছি। কিন্তু কিছুদিন আগে আমাকে যখন জানানো হলো যে দেশে আমার কর্মস্থল থেকে ঢাকা এয়ারপোর্টে আসার খরচটা তারা দেবে তখন আমি একটা কাজ করলাম। আমার কর্মস্থল থেকে ঢাকা আসতে আমার  যাতায়াত ভাড়া+ ট্রাকে করে আমার সব মালামাল বাসায় এনে রাখতে যে ট্রাকভাড়া খরচ হয়েছে দুটোই তুলে নেওয়ার প্ল্যান করলাম। উপরন্তু আরেকটু বেশি তুলে নেওয়ার জন্য বেশি বিল দেখালাম। অর্থাৎ, আমার বাসভাড়া ও ট্রাকভাড়া মিলে ১৫ হাজারের মত খরচ হয়েছিল, আমি দেখালাম ২০ হাজার। এবং এই ২০ হাজার আমার যাতায়াত খরচ হিসেবেই দেখালাম (কারণ তারা নাকি মালামাল পরিবহণের খরচ দেবে না, অর্থাৎ, শুধু আমার যাতায়াত খরচ দেবে যা মাত্র ৩/৪ হাজারের মত)। হিসেব করে দেখলাম, ওরা আমার স্কলারশিপের টাকা থেকে অবৈধ শর্ত প্রয়োগ করে দেড় লক্ষ টাকার মত কম দিয়েছে, যার মধ্যে আমি ১৫-১৬ হাজার টাকা উসুল করতে পারলাম। অর্থাৎ, কৌশল করে আমার ক্ষতির সামান্য অংশ পুষিয়ে নিলাম। এর অর্থ, আমি এখনও তাদের কাছে অনেক টাকা পাই। এখন আমার প্রশ্ন হলো, আমি যা করেছি তা কি জায়েজ হয়েছে? অর্থাৎ, আমার জানামতে আমি জুলুমের শিকার হয়েছি, আমাকে পরিস্থিতিতে ফেলে অনেক টাকা ঠকানো হয়েছে, আমিও তাদেরকে সুযোগ বুঝে ঠকিয়ে নিজের প্রাপ্য টাকার সামান্য একটা অংশ উসুল করেছি বা তাদের ঠকানোর পরিমাণটা কমিয়ে এনেছি। আমার এভাবে নেওয়া টাকাটুকু জায়েজ হয়েছে কিনা জানিয়ে বাধিত করবেন।

1 Answer

0 votes
by (145,240 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
অন্যর মাল তার অন্তরের সন্তুষ্টি ব্যতীত কারো জন্য হালাল হয় না।বিদায় এসব পরিত্যাজ্য।
কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍْ ﻻَ ﺗَﺄْﻛُﻠُﻮﺍْ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟَﻜُﻢْ ﺑَﻴْﻨَﻜُﻢْ ﺑِﺎﻟْﺒَﺎﻃِﻞِ ﺇِﻻَّ ﺃَﻥ ﺗَﻜُﻮﻥَ ﺗِﺠَﺎﺭَﺓً ﻋَﻦ ﺗَﺮَﺍﺽٍ ﻣِّﻨﻜُﻢْ ﻭَﻻَ ﺗَﻘْﺘُﻠُﻮﺍْ ﺃَﻧﻔُﺴَﻜُﻢْ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠّﻪَ ﻛَﺎﻥَ ﺑِﻜُﻢْ ﺭَﺣِﻴﻤًﺎ
তরজমাঃ-হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ। আর তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি দয়ালু।(সূরা নিসা(২৯)

এবং হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত,
عن ابن عباس قال;قال رسول اللّٰه صلى اللّٰه عليه و سلم 
  " ﻻ ﻳﺤﻞ ﻣﺎﻝ ﺍﻣﺮﺉ ﻣﺴﻠﻢ ﺇﻻ ﺑﻄﻴﺐ ﻧﻔﺲ ﻣﻨﻪ "
নবী কারীম সাঃ বলেনঃ"কোন মুসলমানের জন্য  অন্য কোনো মুসলমানের মাল তার অন্তরের সন্তুষ্টি ব্যতীত হালাল হবে না।(তালখিসুল হাবীর-১২৪৯)
আরো জানুন-https://www.ifatwa.info/3747

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
কনে পক্ষ্য কর্তৃক বরকে যে পোষাক পরিচ্ছদ দেয়া হয়ে থাকে,এরকম কোনো নিয়ম শরীয়তে নেই।কারো মাল তার অস্তরের সন্তুষ্টি ব্যতীত পরিস্কার হারাম।সুতরাং এটা হারামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে নাজায়েয ও হারাম হিসেবে পরিগণিত হবে।

হারাম মাল ভক্ষণ করলে দু'আ কবুল হয় না।
আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا، وَإِنَّ اللهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ، فَقَالَ: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا، إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ} [المؤمنون: ٥١] وَقَالَ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ} [البقرة: ١٧٢] ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ، يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ، يَا رَبِّ، يَا رَبِّ، وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ، وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ، وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ، وَغُذِيَ بِالْحَرَامِ، فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ؟ "
 তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহ তা'আলা পবিত্র, তিনি পবিত্র ও হালাল বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না। আর আল্লাহ তা'আলা তার প্রেরিত রসূলদের যে হুকুম দিয়েছেন মুমিনদেরকেও সে হুকুম দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “হে রসূলগণ! তোমরা পবিত্র ও হালাল জিনিস আহার কর এবং ভাল কাজ কর। আমি তোমাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে জ্ঞাত।" (সূরা আল মু'মিনূন ২৩ঃ ৫১)তিনি (আল্লাহ) আরো বলেছেন, “তোমরা যারা ঈমান এনেছো শোনা আমি তোমাদের যে সব পবিত্র জিনিস রিযক হিসেবে দিয়েছি তা খাও”— (সূরা আল বাকারাহ ২ঃ ১৭২)। অতঃপর তিনি এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত দীর্ঘ সফর করে। ফলে সে ধুলি ধূসরিত রুক্ষ কেশধারী হয়ে পড়ে। অতঃপর সে আকাশের দিকে হাত তুলে বলে, “হে আমার প্রতিপালক! অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পরিধেয় বস্ত্র হারাম এবং আহার্যও হারাম। কাজেই এমন ব্যক্তির দু'আ তিনি কী করে কবুল করতে পারেন?”(সহীহ মুসলিম-১০১৫)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
যেহেতু তারা আপনার টাকা দেয়নি।চলে বলে টাকা কে কেটে কেটে রেখেছে, তাই আপনি তাদের কাছ থেকে আপানার প্রাপ্য বুঝে নিতে পারবেন। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...