আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
26 views
in পবিত্রতা (Purity) by (9 points)
reshown ago by

আমার এই সমস্যার জন্য ইবাদত এবং জীবন এত কষ্টকর হয়ে গেছে যে আমি কিভাবে বেচে আছি শুধু আল্লাহ জানেন। ধৈর্য নিয়ে একটু পুরোটা পড়ে উত্তর দেয়ার অনুরোধ হুজুর।একটু বড় জন্য মাফ চেয়ে নিচ্ছি-
আমার পিরিয়ড জীবনের শুরু থেকেই প্রতি মাসেই হয়। এবং আমার ধারনা, আরবি মাস অনুযায়ী প্রতি মাসেই নিদিষ্ট সময়ে হয়(কেননা ৮/৯ বছর যাবত আমার স্পষ্ট খেয়াল আছে যে শাবানের ১৫ তারিখ আমার রক্ত স্রাব চলে। যদিও এর আগের বছর গুলোতে কখনো ওই সময়ে থাকত কখনো থাকত না,আমার স্পষ্ট মনেও নাই)। এবং ইংরেজি মাস অনুযায়ীও মাসের নিদিষ্ট তারিখেই আমার রক্ত স্রাব চলে।হঠাত কখনো আবার অল্প কয়েক দিন আগে পিছেও হয়। কিন্তু গত প্রায় ১ বছর যাবত খেয়াল করছি আমার রক্তস্রাব আসার যে নিদিষ্ট তারিখ তার ৭/৮/৯ দিন আগে থেকে জেলি টাইপ হাল্কা হলুদ স্রাব আসে।

  • এই স্রাব যোনিমুখেই পাই(ছিদ্রের ভিতর না সম্ভবত) বা কখনো তা পার হয়ে যোনিমুখ ও প্রসাবের রাস্তাকে ঢেকে রাখা যে নরম লোমহীন চামড়া(ল্যবিয়া মাইনরা) সেটার গোঁড়ার দিকে পাই। এর বাইরে অর্থাৎ লোমযুক্ত মোটা ঠোঁটের চামড়াতে (ল্যবিয়া মেজরাতে ) কখনোই আসে না।
  • স্রাবের পরিমান এতই অল্প যে কখনো সুতার আশের মত,কখনো একবিন্দু পানির পরিমান মত বা তার চেয়েও কম।
  • এই স্রাব অবিরত আসে না।দেখা যায় একদিন ১/২ ওয়াক্তে দেখলাম এরপর আর নাই।পরে আবার ১/২/৩ দিন পরে আবার এক ওয়াক্তে দেখলাম। এভাবেই ৭/৮/৯ দিন চলে।এবং এই সময়টাতে আবার মাঝে মাঝে স্পষ্ট সাদা স্রাবও পাই
  •  হলুদ ও এতই হাল্কা হলুদ যে হাতে নিয়ে এটা নিশ্চিত বোঝা যায় না যে হলুদ। শুধুমাত্র টিস্যুতে নিলেই হলুদ আভার মত বা সাদা না সেটা বোঝা যায়


আমি ২ জন মুসলিম মহিলা ডাক্তারকে দেখাইছি । তারা বলছে এটা ইনফেকশনের অসুস্থতার জন্য।(আমার ইনফেকশন, পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিজিস, লিউকোরিয়া নির্ণয় করেছিল) চিকিস্যাও নিলাম তবে আল্লাহ এখনও মাফ করেন নি।চিকিস্যা নেয়ার আগে দেখা যেত রক্তস্রাব শেষ হওয়ার পর মাত্র ৮/৯ দিন সাদাস্রাব থাকত এর পর আবার হলুদ স্রাব শুরু হয়ে যেত। চিকিস্যা শুরুর পর এখন রক্তস্রাব শেষ হওয়ার পর ১৫/১৬ দিন পর হলুদ স্রাব দেখা যাচ্ছে

এই হলুদ মত স্রাবের পরে বেশিরভাগ সময়ই রক্ত স্রাবের নিদিষ্ট তারিখেই বা কখনো অল্প কয়েকদিন আগে পিছে অল্প একটু করে রক্ত দেখি পরিষ্কার করতে গেলে।সেটাও যোনিমুখেই পাই(ছিদ্রের ভিতর না) বা কখনো তা নরম লোমহীন চামড়াতে (ল্যবিয়া মাইনরা) পাই। কিন্তু তখনও লোমযুক্ত মোটা ঠোঁটের চামড়াতে (ল্যবিয়া মেজরাতে ) আসে না। অর্থাৎ আমার প্যাড পরতে হয় না তখনও । কিন্তু আমি নিশ্চিত থাকি যে এর ১/২/৩ দিন পর অবিরত ভারি স্রাব শুরু হবে। (যতটা মনে পড়ে আমার পিরিয়ডের শুরু থেকেই এমন ছিল প্রথম ১ দিন মত ভারি স্রাব হত না।প্যাড ছাড়াই থাকতে পারতাম।) এই অল্প একটু রক্ত স্রাব দেখা থেকে শুরু করে, ভারি স্রাব শুরু হওয়ার ১ দিন বা ৩/৪ ওয়াক্ত আগে থেকে প্রসাবের সাথে স্পষ্ট লাল ময়লার মত স্রাব ভেসে যায়। বা দলা স্রাব আসতে থাকে আস্তে আস্তে। তারপর ভারি স্রাব শুরু হয় এবং অল্প একটু রক্ত দেখা থেকে শুরু করে শেষ হওয়া ১০দিনের ভিতরই হয়।এবং রক্তস্রাব চলা সময়ে আমার ব্যথা থেকে শুরু করে হায়েজের সব উপসর্গ থাকে। আমার প্রশ্ন হচ্ছেঃ
আমার করনীয় কি বলেন প্লিজ ?
(অসুস্থতা, লজ্জাস্থানের এতকাছে স্রাবের অবস্থান, এত অল্প পরিমান, অবিরত স্রাব না আসা, টিস্যুতে না নিলে নিশ্চিত বোঝা না যাওয়া এত হাল্কা কালার, এবং রক্তস্রাবের নিদিষ্ট সময় ও ধরন ঠিক থাকা ) এসব বিবেচনায় হলুদ স্রাব দেখার দিনগুলকে আমি কি ইস্তিহাযা ধরবো নাকি হায়েজ?
নাকি যখন অল্প একটু রক্ত দেখি এবং আমি নিশ্চিত থাকি যে এর ১/২/৩ দিন পর অবিরত ভারি স্রাব শুরু হবে তখন হায়েয ধরবো?
নাকি যখন থেকে প্রসাবের সাথে স্পষ্ট লাল ময়লার মত স্রাব ভেসে যায়। বা দলা স্রাব যেতে থাকে তখন থেকে?

আগের মাসের হায়েজ অনুযায়ী হায়েজ নির্ধারণ করার পরামর্শ দিয়েন না দয়া করে।কারন এই ১ টা বছর আমার কখন আসলে হায়েজ ছিল আমি নিজেও জানি না। আমার আমল জীবন মানসিক শান্তি সব এলোমেলো হয়ে গেছে।

1 Answer

0 votes
by (763,560 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী তুহর তথা দুই হায়েজের মাঝে পবিত্রতার সর্বনিম্ন সীমা পনেরো দিন।
এই পনেরো দিনের মধ্যে কোনো রক্ত আসলে সেটি হায়েজ নয়,বরং সেটি ইস্তেহাজা তথা অসুস্থতা।
এই সময়ে নামাজ রোযা আদায় করতে হবে।    
হজরত হান্নাদ [রহ] আম্মাজান আয়েশা [রা]-এর হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, ফাতিমা বিনতে হুবাইশ নামক এক নারী একবার রাসুল [সা]-এর সমীপে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসুল, আমি একজন ইস্তেহাযাগ্রস্ত মেয়ে। আমি তো পাক হই না। তাই আমি কি নামাজ পড়া ছেড়ে দেবো? রাসুল [সা] বললেন, না, কারণ এ রক্ত হায়েযের নয়; বরং এ হলো শিরা থেকে বেরিয়ে আসা রক্ত। সুতরাং যখন তোমার হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলি আসে তখন সে দিনগুলি নামাজ ছেড়ে দেবে। আর হায়েযের দিন চলে গেলে তোমার রক্ত ধুয়ে নেবে এবং নামাজ আদায় করবে। [তিরমিজি, হাদিস-১২৫]
,
আরো জানুনঃ   

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা হলো ৩ তিন,আর সর্বোচ্ছ সময়সীমা ১০দিন।
এ ১০দিনের ভিতর লাল,হলুদ,সবুজ,লাল মিশ্রিত কালো বা নিখুত কালো যে কালারের-ই পানি বের হোক না কেন তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে।যতক্ষণ না নেপকিন সাদা নজরে আসবে। (বেহেশতী জেওর-১/২০৬)  

হাদীস শরীফে এসেছে   
أقل الحیض للجاریۃ البکر والثیب ثلاثۃ أیام ولیالیہا وأکثرہ عشرۃ أیام
دار قطني، السنن، 1: 219، رقم: 61
রাসুল সাঃ বলেন  মহিলাদের হায়েজের সর্বনিম্ন সীমা হলো ৩ দিন ৩ রাত,সর্বোচ্চ সীমা হলো ১০ দিন ১০ রাত।

হায়েজের দিন গুলোতে যেই কালারেরই রক্ত হোক,সেটি হায়েজের রক্ত বলেই গন্য হবে। 
উক্ত সময় নামাজ রোযা ইত্যাদি আদায় করা যাবেনা।
(কিতাবুল ফাতওয়া ২/৭৬)

তবে স্পষ্ট সাদা কালারের কিছু বের হলে সেটাকে হায়েজ বলা যাবেনা।
(ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়াহ ২/৮৩৩)

উম্মে আলক্বামাহ তথা মার্জনা (مَوْلاَةِ عَائِشَةَ) হইতে বর্ণিত,

عن أم علقمة أَنَّهَا قَالَتْ : " كَانَ النِّسَاءُ يَبْعَثْنَ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ بِالدُّرْجَةِ فِيهَا الْكُرْسُفُ فِيهِ الصُّفْرَةُ مِنْ دَمِ الْحَيْضَةِ يَسْأَلْنَهَا عَنْ الصَّلَاةِ فَتَقُولُ لَهُنَّ لَا تَعْجَلْنَ حَتَّى تَرَيْنَ الْقَصَّةَ الْبَيْضَاءَ تُرِيدُ بِذَلِكَ الطُّهْرَ مِنْ الْحَيْضَةِ "

তিনি বলেনঃ (ঋতুমতী) স্ত্রীলোকেরা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ঝোলা বা ডিবা (دُرْجَة) পাঠাইতেন, যাহাতে নেকড়া বা তুলা (كُرْسُفْ) থাকিত। উহাতে পাণ্ডুবৰ্ণ ঋতুর রক্ত লাগিয়া থাকিত। তাহারা এই অবস্থায় নামায পড়া সম্পর্কে তাহার নিকট জানিতে চাহিতেন। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] তাহাদিগকে বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা (বর্ণ) দেখিতে না পাও। তিনি ইহা দ্বারা ঋতু হইতে পবিত্রতা (طُهْر) বুঝাইতেন।(মুয়াত্তা মালিক-১২৭)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে এটা যদি লজ্জাস্থানের বাহিরে না আসে,লজ্জাস্থানের অভ্যন্তরেই থাকে, সেক্ষেত্রে এটিকে হায়েজ ধরবেননা।

যখন লজ্জাস্থানের বাহিরের দিকে আসবে,তখন থেকে হায়েজ ধরবেন।

এক্ষেত্রে ব্লাড ১০ দিন অতিক্রম হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে পরবর্তী মাসগুলোর অভ্যাস অনুপাতে হায়েজ ধরবেন। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (9 points)
 "লজ্জাস্থানের বাহিরে " বলতে কোথায় বোঝায় এটা আমাকে দয়া করে বলেন
এটা কি লোমযুক্ত চামড়ার জায়গাকে বোঝায়?

এভাবে সরাসরি হায়া বর্জিত ভাষা ব্যবহার করে লিখতে আমি খুব বিব্রত হচ্ছি। কিন্তু আমার এই সম্পর্কিত জ্ঞ্যান নেই। 
"লজ্জাস্থানের বাহিরে " বলতে কোথায় বোঝায় এই প্রশ্ন আমি আগেও করেছি। কিন্ত উত্তর বুঝি নাই।  এটা বুঝলে আমাকে আর হায়েজের ব্যপারটা নিয়ে এত বারবার প্রশ্ন করতে হবে না ইং শা আল্লাহ। প্লিজ উত্তরটা দিয়েন।
by (763,560 points)
এ সংক্রান্ত জানুনঃ- 
https://ifatwa.info/138907/

আরো জানতে বিজ্ঞ মহিলা গাইনী ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...