ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ
যে কোনো নেক কাজের ঈসালে সওয়াব করা জায়েয।
,
এক. হজ্ব: হজ্বের ঈসালে সওয়াব করা জায়েয। এটা একাধিক হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। কিছু হাদীস এই-
বুরায়দা রা. থেকে বর্ণিত, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত ছিলাম। এক মহিলা এসে জিজ্ঞেস করল, ...আমার মা হজ্ব না করে ইন্তেকাল করেছেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্ব করতে পারব? তিনি বললেন, (হাঁ), তুমি তার পক্ষ থেকে হজ্ব কর। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৪৯
,
দুই. উমরা: উমরা করেও ঈসালে সওয়াব করা জায়েয।
আবু রাযীন উকায়লী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা খুবই বৃদ্ধ। তিনি হজ্ব, উমরা এমনকি সফর করতেও সক্ষম নন। নবীজী বললেন, তুমি তার পক্ষ থেকে হজ্ব ও উমরা করো। -সুনানে তিরমিযী, হাদীস ৯৩০
,
তিন. কুরবানী:
বিভিন্ন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, কুরবানীর ঈসালে সওয়াব করা জায়েয। এখানে কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করছি।
আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর জন্য কালো পা, কালো পেট ও কালো ভ্রু বিশিষ্ট দুম্বা আনার নির্দেশ দিলেন। আনা হলে তিনি আয়েশা রা.-কে বললেন, একটি ছুরি এনে পাথরে ঘষে ধারালো কর। তিনি তা-ই করলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছুরি হাতে নিয়ে দুম্বাকে শুইয়ে যবাহ করার জন্য প্রস্তুত হলেন এবং বললেন,
باسم الله، اللهم تقبل من محمد وآل محمد، ومن أمة محمد.
‘আল্লাহর নামে যবাহ করছি। হে আল্লাহ! আপনি তা কবুল করুন মুহাম্মদ ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে এবং তার উম্মতের পক্ষ থেকে।’ তারপর কুরবানী করলেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৬৭
,
চার. রোযা: রোযার সওয়াবরেসানি করা বৈধ। নিম্নে এ সংক্রান্ত কিছু হাদীস উদ্ধৃত করা হল।
আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ রোযা জিম্মায় রেখে মারা গেলে তার অভিভাবক যেন তার পক্ষ থেকে রোযা রাখে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯৫২
,
পাঁচ. নামায: নামায পড়ে মৃত ব্যক্তিকে সওয়াব পৌঁছানো জায়েয। আমরা আগে দেখেছি যে, অর্থ ও দেহের সমন্বিত ইবাদত তো বটেই রোযার মত নিখুঁত ইবাদাতে বাদানিয়ারও ঈসালে সওয়াব জায়েয। এ থেকে বোঝা যায় যে, নামাযের ঈসালে সওয়াব করাও জায়েয।
,
ছয়. কুরআন তিলাওয়াত: কুরআন তিলাওয়াতের ঈসালে সওয়াব করা জায়েয। রোযা আর কুরআন তিলাওয়াতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। দুটোই ইবাদাতে বাদানিয়া এবং নিম্নোক্ত বর্ণনাগুলো থেকেও এর বৈধতা বোঝা যায় :
মাকিল ইবনে ইয়াসার রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের মাইয়িতের জন্য সূরা ইয়াসীন পাঠ কর। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩১২১
,
সাত. যে কোনো নেক আমল: নেক আমলের জগৎ অনেক বিস্তৃত। এগুলো কোথাও ‘আলআমালুস সালিহ’র শিরোনামে বর্ণিত হয়েছে, কোথাও ‘আলবির’র শিরোনামে, কোথাও ‘আলহাসানা’র শিরোনামে, কোথাও ‘আলখাইর’র শিরোনামে। কখনো বা বিশেষ শিরোনাম ছাড়া বর্ণিত হয়েছে। কুরআন-সুন্নাহয় যেসব নেক কাজ সুস্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে সেগুলোর তালিকাও বেশ লম্বা।
,
আগের আলোচনা থেকে এ-ও জানা গেছে যে, উপরোক্ত নেক কাজগুলোর বাইরে আরো যে কোনো নেক কাজের ঈসালে সওয়াব করা যাবে। পেছনে এ সংক্রান্ত দলীল আলোচিত হয়েছে। এখানে শুধু ইমামদের কিছু উদ্ধৃতি উল্লেখ করা যেতে পারে।
,
আবু বকর আলখাল্লাল রাহ. ‘আলউকূফ ওয়াত তারাজ্জুল’ গ্রন্থে (পৃ. ৮৫) মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইমাম আহমদ রহ.-কে জিজ্ঞেস করেছেন, মানুষ নামায, সদকা ইত্যাদি নেক কাজ করে এর অর্ধেক সওয়াব পিতা বা সন্তানকে দান করে (এ কি তার কাছে পৌঁছবে)? উত্তরে তিনি বলেন, আশা করি। তিনি আরো বলেন, সদকা ইত্যাদি সব মাইয়িতের কাছে পৌঁছে। কপি: মাসিক আল কাউসার
,
★ সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই!
,
জ্বী হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার বাবা-মার পক্ষ থেকে উমরাহ করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। এই তারও সওয়াব পাবেন ইনশাআল্লাহ।