আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
98 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (2 points)
আসসালামুয়ালাইকুম, আমার প্রশ্নটি নিম্নে বর্ণিত -

জনৈক ব্যক্তি একজন পুরুষ মেডিকেল শিক্ষার্থী,সে তার পিতা-মাতার ৬ষ্ট সন্তান। শিশুকালে তার বাবার আপন নিঃসন্তান ভাই  এই সন্তানকে পালক পুত্র হিসেবে লালনপালন করছে ।৬ বছর পর তার আপন বাবা মারা যায়।
১. এখন যে অবস্থায় আছে সে কিভাবে হালাল হারাম মেনে চলবে,কারন তার বর্তমান মা সম্পর্কে চাচি হয় , তিনি অনেক ভালো, কিন্তু আসল মা সম্পর্কে খারাপ ধারণা রাখে, এক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কসম দেয় যে আমার সংসারের এক টাকা ও আমাকে না বলে কাওকে দিবি , এক্ষেত্রে ছেলের করনীয় কি?

২.বর্তমানে যারা ( মহিলা ও পুরুষ দুই জনের নামেই আলাদা সম্পত্তি আছে )তাকে লালনপালন করছে তাদের সম্পুর্ণ সম্পত্তি এই ছেলেকে দিতে চায় (যেহেতু তাদের সন্তান নাই) কিন্তু তারা চাই এরকম দলিল করে যে  মরার আগ পর্যন্ত এই সম্পত্তির মালিক তারা থাকবে , কিন্তু মরার পর তাকে দিবে? শর্ত সাপেক্ষে যে মরার আগ পর্যন্ত সমস্ত খরচ(অর্থাৎ একজন ছেলে থাকলে যা করতে)এই ছেলে বহন করবে এবং তারা মরার পর এই ছেলে মালিক হবে । শরিয়ত কি এই ধরনের দলিল সমর্থ করে বা বাকি হকারদের ঠকিয়ে এরকম করা কি ঠিক হবে? , (উল্লেখ্য এই পিতার ৬ ভাই আর ২ বোন এবং এই মাতার শুধু মা ও ২ বোন আছে)

৩. বর্তমানে  এই ছেলের NID তে পালক পিতা-মাতার নাম যেখানে আসল পিতা-মাতার নাম থাকা উচিত ছিল।সকল জায়গায় তাদেরকে অর্থাৎ পালক পিতা-মাতাকে আসল বাবা-মা হিসেবে জানে কিন্তু প্রতিবেশীরা আসল বিষয়টা জানে। এক্ষেত্রে ছেলের করনীয় কি? একটা হারাম কাজ আর বাস্তবতার সম্মুখীনে এই বয়সে তার সবসময় মন খারাপ থাকে।

৪. অপরদিকে আপন ভাইবোনরা তাকে তার বাবার সম্পত্তি থেকে ভাগ দিতে চায় না কারন NID তে থাকা ভূল পরিচয়ের জন্য এবং তারা এমনিতে ও দিতে রাজি না,আর ছেলের মা মনে করে ছেলে ডাক্তার হয়ে টাকা ইনকাম করবে এজন্য কোনভাবেই তাকে সম্পদ দেওয়া যাবে না এমনিতে ছেলের সাথে তার আসল পরিবারের সদস্যদের সম্পর্ক ভালো। এক্ষেত্রে ছেলের করনীয় কি?

উত্তর গুলো পেলে ছেলেটির অনেক ভালো হতো। আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় দান করুন,আমিন।

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
ভূমিকা
হযরত আবু উমামা রাযি থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেনঃ
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻗَﺪْ ﺃَﻋْﻄَﻰ ﻛُﻞَّ ﺫِﻱ ﺣَﻖٍّ ﺣَﻘَّﻪُ ، ﻓَﻠَﺎ ﻭَﺻِﻴَّﺔَ ﻟِﻮَﺍﺭِﺙٍ
নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক হক্বদারকে তার প্রাপ্য হক্ব (নির্ধারণ)করে দিয়েছেন।সুতরাং ওয়ারিছদের জন্য আর কোনো ওসিয়্যাত নেই। অর্থাৎ-মূত্যুর পরে কাউকে কিছু দানের সিদ্ধান্ত নিলে সেটা ওসিয়ত হয়ে যায়,আর নিজ ওয়ারিছদের মধ্য থেকে কারো জন্য ওসিয়ত করা জায়েয নয়।তবে ওয়ারিছ ব্যতীত অন্য কারো জন্য এক তৃতীয়াংশ মালে ওসিয়ত করা জায়েয আছে। (সুনানে আবু-দাউদ-২৮৭০,সুনানে তিরমিযি-২১২০,সুনানে নাসাঈ-৪৬৪১,ইবনে মাজাহ-২৭১৩)  এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/343

সৎ পিতাকে সাময়িক পিতা বলে সম্বোধন করা যাবে তবে সৎ পিতা থেকে নিজের বংশধারা সাব্যস্ত করা জায়েয হবে না। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1091

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) আপনার বর্তমান পালক মা (চাচি) যদি মায়ের সংসারে খরচ না দিতে কসম দেন, তাহলে সেই কথা মানা যাবে না। হ্যা, পালক মায়ের কোনো সম্পত্তি তার অনুমতি ব্যতিত আপনি কাউকে দিতে পারবেন।

(২) মরার আগ পর্যন্ত পালক সন্তান খরচ বহন করবে এবং মরার পর পালক ছেলে সমূদয় সম্পত্তির মালিক হবে। এমন চক্তি শরীয়ত সম্মত নয়। বরং মরার পর তার ওয়ারিছরা সম্পত্তির মালিক হবে।

(৩) NID কার্ড সহ সমস্ত সার্টিফিকেটে নাম পরিবর্তন করবে যদি সম্ভব হয়, নতুবা যেভাবেই আছে রাখবে।মন খারাপ করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নাই।

(৪) আপন ভাইবোনরা বাবার সম্পত্তি থেকে ভাগ দিতে না চাইলে এর জন্য তাদের কিয়ামত দিবসে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...