জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আল্লাহ তা’আলা বলেন-
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِّنَ اللّهِ وَاللّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
যাকাত হল কেবল ফকির, মিসকীন, যাকাত আদায়কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদের হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্য, ঋণ গ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে, এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। -সরা তাওবাহ, আয়াত-৬০
★ উপরোক্ত ক্যাটাগরিতে যাকাত আদায় করলেই কেবল যাকাত আদায় হবে। অন্য কাউকে যাকাত দিলে তা আদায় হবে না। ফুক্বাহায়ে কেরাম যাকাত আদায়ের জন্য একটি শর্তারোপ করেছেন এই যে, যাকাতের টাকার মালিক বানিয়ে দিতে হবে দানকৃত ব্যক্তিকে। যদি মালিক বানিয়ে দেয়া না হয়, তাহলে যাকাত আদায় হবে না।
যেমন কাউকে কোন বস্তু ভোগ দখলের অধিকার দিয়ে নিয়ত করল যাকাতের, তাহলে এর দ্বারা যাকাত আদায় হবে না। সেই হিসেবে কোন প্রতিষ্ঠান, মাদরাসা, মসজিদে যাকাতের টাকা দেয়া জায়েজ নয়, যদিও তাতে গরীব মানুষ থাকে, নামায পড়ে, পড়াশোনা করে। তবে প্রতিষ্ঠানের গরীবদের, মাদরাসা গরীব ছাত্রদের, মসজিদের গরীব মুসল্লিদেরকে যাকাত দিলে তাতে মালিক বানিয়ে দেয়ার বিষয়টি থাকায় তা জায়েজ হবে। {ইনায়া আলা ফাতহিল কাদীর-২/২৬৭-২৬৮, আল হিদায়া-১/২০৫, তাবয়ীনুল হাকায়েক-১/২৯৯}
فى الدر المختار: خَرَجَ الْإِبَاحَةُ، فَلَوْ أَطْعَمَ يَتِيمًا نَاوِيًا الزَّكَاةَ لَا يَجْزِيهِ إلَّا إذَا دَفَعَ إلَيْهِ الْمَطْعُومَ كَمَا لَوْ كَسَاهُ
وقال ابن عابدين: (قَوْلُهُ: إلَّا إذَا دَفَعَ إلَيْهِ الْمَطْعُومَ) لِأَنَّهُ بِالدَّفْعِ إلَيْهِ بِنِيَّةِ الزَّكَاةِ يَمْلِكُهُ فَيَصِيرُ آكِلًا مِنْ مِلْكِهِ، بِخِلَافِ مَا إذَا أَطْعَمَهُ مَعَهُ، (رد المحتار، كتاب الزكاة-3/171
মর্মার্থ: যদি কোনো ব্যক্তি কোনো ইয়াতীমকে যাকাতের উদ্দেশ্যে খাওয়ায়ে দেয় তাহলে তার যাকাত আদায় হবে না। তবে যদি খাবারগুলো তাকে মালিক বানিয়ে তার নিটক হস্তান্তর করা হয় তাহলে জায়েজ আছে।
★ সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন,
যাকাতের টাকা হকদারকে মালিক বানিয়ে না দিলে যাকাত আদায় হয় না।
সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে যাকাতের জন্য ৩০ হাজার টাকা একজনকে দেওয়ার জন্য ঠিক করার পর সেই টাকা থেকে যদি ২০ হাজার উনাকে দিয়ে বাকি টাকা উনারই বোন যে কিনা যাকাতের উপযুক্ত তাকে দেওয়া যাবে।
যাকাতের টাকা দিয়ে দেওয়ার আগে কেবলমাত্র ঠিক করলেই মালিকানা ঐ ব্যক্তির হয়ে যায়না।
বরং যাকাত হস্তান্তর এর আগ পর্যন্ত যে যাকাত দিবে তারই মালিকানা থাকে।
যে যাকাত দিবে সে চাইলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ১জনের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা ২ জনকে দিতে পারবে।