আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
90 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (4 points)
১.বাংলাদেশে ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক নয় কিন্তু নাগরিক হিসেবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং হয়তো হক ও (হকের ব্যাপারে টা আমি সিওর নয়)। এখন যেহেতু যোগ্য প্রার্থী নিয়ে কনফিউশনে আছি তাহলে আমি ভোট দিতে যেতে চাই না। কিন্তু আপনাদের ওয়েবসাইটে কোনো একজনের উত্তরে আপনারা বলেছেন " যেহেতু ভোট দিতে না গেলে একজন খারাপ লোকের জয়ী হওয়ার চান্স থাকতে পারে তাই ভোট দেওয়া দরকার।"
তাহলে ভোট দিতে না গেলে আমার কোনো গুন্নাহ বা হক নষ্ট হবে কি না?

১.১)আর যদি প্রিজাইডিং অফিসার ছেলে হয় এবং মুখ চেক করা নিয়ে ঝামেলা করে তাহলে সেক্ষেত্রে ভোট দেওয়া কতটা জরুরি?

২. জীবনের প্রথম কুরআন খতম কী নবীজীর জন্য করা উচিত? জীবনের প্রথম কুরআন খতম সম্পর্কে ইসলামে উত্তম নিয়ম কিছু বলা আছে কি না? একবার/১টা কুরআন খতম কি একাধিক মৃত মানুষের উদ্দেশ্য দেওয়া যাবে? কুরআন খতম করার পর ( সূরা নাস পর্যন্ত)খতমের দোয়া না পড়লে এবং আবার নতুন ভাবে পড়া শুরু করলে কোনো গুনাহ হবে কি না? খতমের দোয়া পড়া কি বাধ্যতামূলক? কুরআনে খতমের দোয়ার লেখা বুঝতে পারিনা।

৩.নামাজে মাঝেমাঝে রুকু করার সময় " সুবহানা......আযিম" না বলে" "   সামিআল্লহু লি.... হামিদা/ সুবহানা..... আলা" বলে ফেলি । এজন্য সাহু সিজদা করতে হবে কি না?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০২)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

کنز العمال: (رقم الحدیث: 42595، 655/15، ط: مؤسسة الرسالة)
“من مر علی المقابر فقرأ فیھا احدی عشرة مرة قل ھو الله احد ثم وھب اجرہ للأموات اعطی من اجر بعددالأموات۔” (الرافعی، عن علی)

যে ব্যাক্তি কবরস্থানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলো,এবং কবরস্থানে ১১ বার সুরা ইখলাস পড়ে মৃত ব্যাক্তিদের ঈসালে ছওয়াব করলো,তাহলে মুর্দাদের সংখ্যা অনুপাতে ছওয়াব তাদেরকে দেয়া হবে।

مجمع الزوائد (رقم الحدیث: 4769، ط: دارالفکر)
وعن عبد اللہ بن عمرو قال: قال رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم إذا تصدق بصدقة تطوعاً أن یجعلها عن أبویه فیکون لهما أجرہها ولا ینتقص من أجرہ شیئاً" رواہ الطبرانی فی الأوسط وفیہ خارجۃ بن مصعب الضبي وہو ضعیف۔

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাঃ থেকে বর্নিত, রাসুলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করেছেন, যখনই কোনো মুসলমান নফল সদকাহ করে,এবং তার ছওয়াব নিজ মাতাপিতাকে পৌছায়,তো ঐ দুইজন সেই ছওয়াব পায়,এবং ঐ সদকা দাতার ছওয়াব হতে কোনো কমতি করা হয়না।

رد المحتار: (243/2، ط: دار الفکر)
صرح علماؤنا في باب الحج عن الغیر بأنّ للإنسان أن یجعل ثواب عمله لغیره صلاةً أو صومًا أو صدقةً أو غیرها، كذا في الهدایة. بل في زكاة التتارخانیة عن المحیط: الأفضل لمن یتصدّق نفلًا أن ینوي لجمیع المؤمنین و المؤمنات؛ لأنّها تصل إلیهم، ولاینقص من أجره شيءٍ اه هو مذهب أهل السنة والجماعة.
সারমর্মঃ-
উত্তম হলো যে ব্যাক্তি নফল সদকাহ করবে,সে সমস্ত মু'মিন মু'মিনাত দের জন্য নিয়ত করবে।কেননা এতে তাদের নিকট ছওয়াব পৌছে৷ এবং সদকাহ দাতার ছওয়াব হতে কোনো কমতি করা হয়না। এটাই হলো আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মাযহাব।

বিস্তারিত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
জীবনের প্রথম কুরআন খতম নবীজীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। এ ধরনের কোনো নিয়ম শরীয়তে নেই। আপনি নিজের জন্য খতম করতে পারেন, যার জন্য ইচ্ছা করতে পারেন।

তবে অন্যের জন্যে কুরআন খতম করলেও আপনিও সমান সওয়াব পাবেন।

একবার/১টা কুরআন খতম একাধিক মৃত মানুষের উদ্দেশ্য দেওয়া যাবে।

কুরআন খতম করার পর ( সূরা নাস পর্যন্ত)খতমের দোয়া না পড়লে এবং আবার নতুন ভাবে পড়া শুরু করলে কোনো গুনাহ হবে না। খতমের দোয়া পড়া বাধ্যতামূলক নয়।

(০৩)
রুকু সেজদার তাসবিহ যেহেতু সুন্নাত,তাই এগুলো একটার জায়গায় আরেকটা পড়লেও নামাজ হয়ে যাবে,সেজদায়ে সাহু আবশ্যক হবেনা।
তবে এটি সুন্নাত তরীকা নয়।

সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার নামাজ আদায় হয়ে যাবে।

বিস্তারিত জানুনঃ- 

(০১)
(১.১)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 
আবূ হারূন আল-আবদী (রহঃ) থেকে বর্ণিত।
عَنْ أَبِي هَارُونَ الْعَبْدِيِّ، قَالَ كُنَّا إِذَا أَتَيْنَا أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ قَالَ مَرْحَبًا بِوَصِيَّةِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ . إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ لَنَا " إِنَّ النَّاسَ لَكُمْ تَبَعٌ وَإِنَّهُمْ سَيَأْتُونَكُمْ مِنْ أَقْطَارِ الأَرْضِ يَتَفَقَّهُونَ فِي الدِّينِ فَإِذَا جَاءُوكُمْ فَاسْتَوْصُوا بِهِمْ خَيْرًا "

 তিনি বলেন, আমরা আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) -এর কাছে এলেই তিনি বলতেনঃ তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওসিয়ত অনুযায়ী স্বাগতম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলতেনঃ লোকেরা অবশ্যই তোমাদের অনুগামী। অচিরেই পৃথিবীর দিকদিগন্ত থেকে লোকেরা তোমাদের নিকট দ্বীনি ইলম অর্জনের জন্য আসবে। তারা যখন তোমাদের নিকট আসবে,তখন তোমরা তাদেরকে ভালো ও উত্তম উপদেশ দিবে।(সুনানু তিরমিযি-২৪৯,তিরমিযী ২৬৫০-৫১, মুওয়াত্ত্বা মালিক ২৪৭।)

সু-প্রিয় পাঠকবর্গ ও প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
অতীব জরুরী ও সাধারণ মাস'আলা মাসাঈল আয়ত্বে না থাকার কারণে দৈনন্দিন জীবনে দ্বীন-ইসলাম পালন করতে, যে সমস্ত দ্বীনি ভাই-বোন থমকে দাড়ান,এবং যাদের দ্বীনি ইলম অর্জনের কাছাকাছি কোনো নির্ভরযোগ্য মাধ্যম নেই, মূলত তাদেরকে দিকনির্দেশনা দিতেই আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস .....

মুহতারাম/মুহতারামাহ!
দ্বীনের পরিধি অনেক ব্যাপক, সকল বিষয়ে আলোচনা করা বা দিকনির্দেশনা দেওয়া স্বল্প পরিসরের এই ভার্চুয়ালি মাধ্যম দ্বারা আমাদের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। চেষ্টা করলেও প্রশ্নকারীর পিপাসা মিটানো সম্ভব হবে না। প্রত্যেক বিষয়ে আমরা শুধুমাত্র সামান্য আলোকপাত করে থাকি।

উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তরের জন্য আপনার এলাকার সংশ্লিষ্ট উলামায় কেরামের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা আপনার জন্য কল্যাণকর হবে বলেই আমাদের ধারণা।

তাছাড়া ইলম অর্জনের জন্য সফর করা অত্যান্ত  জরুরী। এবং কষ্ট করে ইলম অর্জন করাই আমাদের  আকাবির আসলাফদের রীতি ও নীতি। এদিকেই কুরআনের এই আয়াত ইঙ্গিত দিচ্ছে,
 ۚفَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَائِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ
তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হলো না, যাতে দ্বীনের জ্ঞান লাভ করে এবং সংবাদ দান করে স্ব-জাতিকে, যখন তারা তাদের কাছে প্রত্যাবর্তন করবে, যেন তারা বাঁচতে পারে।(সূরা তাওবাহ-১২২)

সুতরাং আপনাকে বলবো, আপনি বিস্তারিত জানতে স্ব-শরীরে কোনো দারুল ইফতায় যোগাযোগ করবেন।
প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।আল্লাহ তা'আলা আপনার ইলম অর্জনের স্পৃহাকে আরো বাড়িয়ে দিক, আমীন।

প্রত্যেকটা বিষয়ের সাথে নিম্নের হাদীসকে লক্ষ্য রাখবেন।
হাসান ইবনে আলী রাযি থেকে বর্ণিত রয়েছে।
ﻭﻋﻦ ﺍﻟﺤَﺴَﻦِ ﺑﻦ ﻋَﻠﻲٍّ ﺭﺿﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗَﺎﻝَ : ﺣَﻔِﻈْﺖُ ﻣِﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﷺ : « ﺩَﻉْ ﻣَﺎ ﻳَﺮِﻳﺒُﻚَ ﺇِﻟﻰ ﻣَﺎ ﻻ ﻳﺮِﻳﺒُﻚ » ﺭﻭﺍﻩُ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ﻭﻗﺎﻝ : ﺣﺪﻳﺚٌ ﺣﺴﻦٌ ﺻﺤﻴﺢٌ 
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাঃ কে বলতে শুনেছি।তিনি বলেন,সন্দেহ যুক্ত জিনিষকে পরিহার করে সন্দেহমুক্ত জিনিষকে গ্রহণ করো।(সুনানু তিরমিযি-২৪৪২)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...