আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
112 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (16 points)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

 আমি ব্যক্তিগতভাবে গিবত পরিহার করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। কিন্তু আমার চারপাশে প্রায় ৯০% মানুষই কথা বলতে গেলে গিবত শুরু করেন। যাদের মধ্যে অধিকাংশ আমার বয়সে বড়, আত্মীয়-স্বজন এবং অতি কাছের মানুষ। এই পরিস্থিতিতে আমি নিচের সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হচ্ছি:

১. বড়দের গিবত থেকে নিষেধ করতে গেলে তারা বিষয়টিকে ভালোভাবে নেন না।অনেকে শুনেও না শোনার ভান করে। কেউ কেউ স্বীকার করলেও পুনরায় গিবতে লিপ্ত হন, আবার ঘরের মানুষরা বারবার বাধা দিলে আমার ওপর অসন্তুষ্ট হন।আবার দেখা যায় বাধা দিলেও তারা থামে না বলতেই থাকে।

২. কাছের মানুষরা যখন বলে, "তোর কাছে দুঃখের কথা বলব না তো কার কাছে বলব?"—তখন আমি মানসিকভাবে আটকে যাই। কিন্তু  তাদের 'দুঃখের কথা'র সিংহভাগই থাকে অন্যের সমালোচনা বা গিবত।

৩. অনিচ্ছাকৃতভাবে এসব কথা শুনতে শুনতে মাঝে মাঝে নিজের মুখ থেকেও দু-একটি কথা বেরিয়ে যায়, যা গিবতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে।

এমতাবস্থায় নিজেকে গুনাহ থেকে বাঁচাতে আমি বর্তমানে যা করছি:
১.আমি যেকোনো মজলিস বা আড্ডা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখি।বলতে গেলে বসিই না যেখানে গীবত হওয়ার সর্বোচ্চ চান্স আছে। 

২.আত্মীয়-স্বজন ও বান্ধবীদের এড়িয়ে চলি। তাদের সাথে দেখা হলে শুধু কুশল বিনিময় করি, দীর্ঘ সময় বসি না।
 

৩.ফোনে কথা বলার সময় গিবত শুরু হলেই কোনো বাহানা দিয়ে ফোন কেটে দেই।
এতে দেখা যায় তাদের সাথে শুধু কুশল বিনিময় ছাড়া আমি আর কোনো কথাই বলতে পারি না।

এর ফলে আমার আত্মীয়-স্বজন ও বিশেষ করে বন্ধুরা আমার ওপর অসন্তুষ্ট। তারা অভিযোগ করে যে আমি তাদের এড়িয়ে চলি, মিশি না বা সময় দেই না।
আমার প্রশ্নসমূহ:
১. গিবত থেকে বাঁচতে এভাবে সবার থেকে দূরত্ব বজায় রাখা বা নিজেকে গুটিয়ে রাখলে কি আমার কোনো গুনাহ হবে?
২. এতে কি 'আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা'র  গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা আছে?
৩. যেখানে মজলিসে বসলে গুনাহ হবেই নিশ্চিত, সেখানে আমার করণীয় কী?

৪. মা যদি গীবত করে আর আমি যদি শুনতে রাজি না হই তখন যদি আমার ওপর বিরক্ত ও অসন্তুষ্ট হয় তখন আমার কি গুনাহ হবে?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/18346/ ফতোয়ায় উল্লেখ রয়েছেঃ 
আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন করা নাজায়েজ,এক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাঃ অনেক কঠোরভাষা ব্যবহার করেছেন।

হাদীস শরীফে এসেছে  

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلي الله عليه وسلم قَالَ " لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ رَحِمٍ " . - صحيح

জুবাইর ইবনু মুত্বঈম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

.(বুখারী ৫৯৮৪, মুসলিম ১৯-(২৫৫৫), আবূ দাঊদ ১৬৯৬, তিরমিযী ১৯০৯, সহীহুল জামি‘ ৭৬৭১, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৫৪০ সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৪৫, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ২০২৩৪, মুসনাদুল বাযযার ৩৪০৫, আহমাদ ১৬৭৩২, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৭৩৯২, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৫৪, শু‘আবুল ঈমান ৭৯৫২, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ১৪৯১, আর মু‘জামুল আওসাত্ব ৯২৮৭।)

আরো জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)

গিবত থেকে বাঁচতে এভাবে সবার থেকে দূরত্ব বজায় রাখা বা নিজেকে গুটিয়ে রাখলে আপনার গুনাহ হবেনা।


(০২) প্রশ্নের বিবরন মতে এতে 'আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা'র  গুনাহ হবেনা।


(০৩) এক্ষেত্রে আপনি যে পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন তা হলোঃ আপনি প্রাথমিক অবস্থায় সেখানে বসবেন। যখন গীবতের আলোচনা হবে, তখন সেখান থেকে উঠে চলে যাবেন।

অথবা সেই মজলিসে বসা যদি আপনি প্রয়োজনীয় মনে না করেন, জরুরি কোন বিষয় হিসেবে আলোচনা হবে এমনটি না হয়, সে ক্ষেত্রে আপনি সেই মজলিস পরিহার করে চলতে পারেন।

(০৪) এতে আপনার গুনাহ হবেনা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...