আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
আমি ব্যক্তিগতভাবে গিবত পরিহার করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। কিন্তু আমার চারপাশে প্রায় ৯০% মানুষই কথা বলতে গেলে গিবত শুরু করেন। যাদের মধ্যে অধিকাংশ আমার বয়সে বড়, আত্মীয়-স্বজন এবং অতি কাছের মানুষ। এই পরিস্থিতিতে আমি নিচের সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হচ্ছি:
১. বড়দের গিবত থেকে নিষেধ করতে গেলে তারা বিষয়টিকে ভালোভাবে নেন না।অনেকে শুনেও না শোনার ভান করে। কেউ কেউ স্বীকার করলেও পুনরায় গিবতে লিপ্ত হন, আবার ঘরের মানুষরা বারবার বাধা দিলে আমার ওপর অসন্তুষ্ট হন।আবার দেখা যায় বাধা দিলেও তারা থামে না বলতেই থাকে।
২. কাছের মানুষরা যখন বলে, "তোর কাছে দুঃখের কথা বলব না তো কার কাছে বলব?"—তখন আমি মানসিকভাবে আটকে যাই। কিন্তু তাদের 'দুঃখের কথা'র সিংহভাগই থাকে অন্যের সমালোচনা বা গিবত।
৩. অনিচ্ছাকৃতভাবে এসব কথা শুনতে শুনতে মাঝে মাঝে নিজের মুখ থেকেও দু-একটি কথা বেরিয়ে যায়, যা গিবতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে।
এমতাবস্থায় নিজেকে গুনাহ থেকে বাঁচাতে আমি বর্তমানে যা করছি:
১.আমি যেকোনো মজলিস বা আড্ডা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখি।বলতে গেলে বসিই না যেখানে গীবত হওয়ার সর্বোচ্চ চান্স আছে।
২.আত্মীয়-স্বজন ও বান্ধবীদের এড়িয়ে চলি। তাদের সাথে দেখা হলে শুধু কুশল বিনিময় করি, দীর্ঘ সময় বসি না।
৩.ফোনে কথা বলার সময় গিবত শুরু হলেই কোনো বাহানা দিয়ে ফোন কেটে দেই।
এতে দেখা যায় তাদের সাথে শুধু কুশল বিনিময় ছাড়া আমি আর কোনো কথাই বলতে পারি না।
এর ফলে আমার আত্মীয়-স্বজন ও বিশেষ করে বন্ধুরা আমার ওপর অসন্তুষ্ট। তারা অভিযোগ করে যে আমি তাদের এড়িয়ে চলি, মিশি না বা সময় দেই না।
আমার প্রশ্নসমূহ:
১. গিবত থেকে বাঁচতে এভাবে সবার থেকে দূরত্ব বজায় রাখা বা নিজেকে গুটিয়ে রাখলে কি আমার কোনো গুনাহ হবে?
২. এতে কি 'আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা'র গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা আছে?
৩. যেখানে মজলিসে বসলে গুনাহ হবেই নিশ্চিত, সেখানে আমার করণীয় কী?
৪. মা যদি গীবত করে আর আমি যদি শুনতে রাজি না হই তখন যদি আমার ওপর বিরক্ত ও অসন্তুষ্ট হয় তখন আমার কি গুনাহ হবে?