আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির মূলত রুকইয়ার চিকিৎসা প্রয়োজন। রুকইয়া ট্রেনিংয়ের জন্য— এখানে ক্লিক করুন

0 votes
19 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (4 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

১) যেকোনো ঘটনায় খুশি হয়ে বা যেকোনো দুআ কবুলের পর খুশি হয়ে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া যাবে?

২) বর্তমানে আমার বয়স ২৬ বছর। আমি কিছুদিন হলো দ্রুততার সহিত উত্তম জায়গায় বিয়ের দুআ করছি। প্রশ্ন হলো, আমার ভাগ্যে যদি লেখা থাকে যে আমার বিয়ে ৩০ বছর বয়সে হবে তারপর‌ও কি আমার দোয়ার বরকতে বিয়ের বয়সটা এগিয়ে আসবে না? আল্লাহ তায়ালা হয়তো আমার দোয়া কবুল করে ২৬ বছরেই আমার বিয়ের ব্যবস্থা করে দিবেন।এমনটা হতে পারে শাইখ?

৩) আমার কোনো দুআ কবুল হলে, এই যে আমি যেমনটা চেয়েছি ঐরকম হয়েছে তার জন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি। কিন্তু তারপরও দুআ কবুল হ‌ওয়ার একটা খুশি, আল্লাহ তায়ালা আমার ডাক শুনেছেন এর জন্য মনে একটা আনন্দ আসা এই ধরনের কোনো কিছুই আমার মধ্যে আসে না। আমার বারবার শুধু মনে হয়" আমি যা চেয়েছি এটা যে হবে তা আগে থেকেই আল্লাহ তায়ালা লিখে রেখেছেন। শুধু তা আমার চাওয়ার সাথে মিলে গিয়েছে এই আরকি। আল্লাহ তায়ালা আমার ডাক শুনেছেন এইরকম কিছু হয়নি।"এই ধরনের চিন্তা আসলে কি করা যায়?

৪) অন্যের জন্য দুআ করলে এক‌ই দুআ ফেরেশতারা ও আমার জন্য করবে।এটা ঠিক শাইখ?

৫) আমার নিজস্ব কোনো ইনকাম নেই।যখন যা প্রয়োজন আম্মুকে বললে এনে দেয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বেদ্বীন কোনো জায়গা থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসলে সেখানে রাজি না হলে এই যে আমার প্রয়োজনীয় জিনিস গুলো কিনে দেয় এসব নিয়ে আম্মু অনেক খোঁটা দেয়।আমার বয়স‌ও অনেক হয়ে গিয়েছে। সবসময় প্রয়োজনীয় সবকিছু চাইতেও লজ্জা লাগে।তাই আমার ছোট বড় যখন যা কিছুর প্রয়োজন যেমন আমার যদি একটা শ্যাম্পু প্রয়োজন হয় সেটাও কাউকে না বলে শুধু আল্লাহ তায়ালাকে বললে হবে? আল্লাহ তায়ালা কি আমার দুআ কবুল করে নিবেন?

৬)লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়াহদাহু লা শারীকালাহ,লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদ...... যেই দুআটা আছে এটা কি সকালে এবং বিকালে ১০০ বার করে পড়তে হবে?সকালে সময় কতটুকু থাকে এটা পড়ার জন্য আর বিকালে সময় কতটুকু থাকে? অনেক সময় দেখা যায় সকালে তাড়াতাড়ি নামাজ পড়ে রান্নার কাজে চলে যেতে হয়। সূর্যোদয়ের আগে পড়তে পারি না। কিন্তু চেষ্টা করি জোহরের নামাজের সময় হ‌ওয়ার আগেই পড়ে ফেলতে।

৭)গায়ে হলুদ,নাচ, গানের মাধ্যমে যেসব বিয়ে হয় এসব বিয়েতে বরকত হয় না। এটা কি ঠিক শাইখ?

বরকত হয় না বলতে আসলে কি বোঝায়?

1 Answer

0 votes
by (726,300 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)

https://www.ifatwa.info/10962 ফাতাওয়ায় উল্লেখ রয়েছে যে,
শুকরিয়া আদায় মূলক সেজদা জায়েয। এটা রাসূলুল্লাহ সা. থেকে প্রমাণিত রয়েছে। এতে সমস্ত উলামায়ে কেরাম একমত ।
নামায ব্যতীত সেজদা করা ও সেজদায় দু'আ করা, বাহ্যিক দৃষ্টিতে এতে কোনো সমস্যা মনে হচ্ছে না। তবে নিয়মিত না করাই উত্তম।এবং সুন্নাত মনে না করাই উচিৎ।(এমদাদুল ফাতাওয়া, ১/৬৪০)

তবে শুকরিয়া আদায় মূলক নফল নামায, এ নামাযের বৈধতা নিয়ে উলামাদের মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে।
শুকরিয়ার নামায নিয়ে উলামাদের মধ্যে মতপার্থক্য বিদমান রয়েছে,যারা বৈধতার পক্ষে রয়েছেন,তারা নিম্নোক্ত হাদীসকে দলীল হিসেবে পেশ করে থাকেন।
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।
ما رواه ابن ماجه (1391) من طريق سَلَمَة بْن رَجَاءٍ حَدَّثَتْنِي شَعْثَاءُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى رضي الله عنه (أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى يَوْمَ بُشِّرَ بِرَأْسِ أَبِي جَهْلٍ رَكْعَتَيْنِ) .
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ জাহলের শিরশ্ছেদের সুসংবাদ প্রাপ্তি দিবসে দু' রাকআত শোকরানা সালাত (নামায/নামাজ) পড়েন।(সুনানে ইবনে মা'জা-১৩৯১)

শুকরিয়া আদায় করে নামায পড়া বৈধ।(কিতাবুল ফাতাওয়া- ২/৩৮৬, মাজমাউয-যাওয়ঈদ-২/২৮২)

তবে উল্লেখসংখ্যক উলামায়ে কেরাম মনে করেন যে, শুকরিয়া আদায় মূলক কোনো নামায রাসূলুল্লাহ সা. থেকে প্রমাণিত নয়। হ্যা সেজদায়ে শোকর অবশ্যই রয়েছে। সেজদায়ে শোকর দেয়া যাবে। 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
যেকোনো ঘটনায় খুশি হয়ে বা যেকোনো দুআ কবুলের পর খুশি হয়ে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া যাবে।

(০২)
আল্লাহ তাআলা যদি আপনার দোয়া কবুল করেন, সেক্ষেত্রে অবশ্যই দ্রুত বিবাহ হবে।

এ সংক্রান্ত জানুনঃ- 

(০৩)
এক্ষেত্রে শুকরিয়া আদায় করা বান্দার জন্য কর্তব্য।  

৪) এরকম হাদীস খুজে পাইনি।

৫) এক্ষেত্রে তো শুধু দোয়াই যথেষ্ট নয়,পাশাপাশি চেষ্টাও থাকতে হবে।

আপনি যদি আপনার অভিভাবককে প্রয়োজনের কথা না বলেন,সেক্ষেত্রে নিজে প্রাইভেট পড়িয়ে বা অন্য কোনো বৈধ উপায়ে শরীয়তের গন্ডির মধ্যে থেকে উপার্জন করতে পারেন।

৬)এই দুয়া সকালে ১০০ বার করে পড়বেন।

সূর্যোদয়ের আগে পড়তে না পারলে, সকাল থাকাকালীন সময়েই (দুপুরের আগেই) পড়বেন।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال رسول الله ﷺ: «مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، مِائَةَ مَرَّةٍ فِي يَوْمٍ، كَانَتْ لَهُ عَدْلَ عَشْرِ رِقَابٍ، وَكُتِبَتْ لَهُ مِائَةُ حَسَنَةٍ، وَمُحِيَتْ عَنْهُ مِائَةُ سَيِّئَةٍ، وَكَانَتْ لَهُ حِرْزًا مِنَ الشَّيْطَانِ يَوْمَهُ ذَلِكَ حَتَّى يُمْسِيَ، وَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ، إِلَّا أَحَدٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ»

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি একদিনে ১০০ বার বলে—
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাইইন কাদীর।” তার জন্য  দশজন দাস মুক্ত করার সমান সওয়াব লেখা হবে,তার জন্য ১০০টি নেকি লেখা হবে,তার থেকে ১০০টি গুনাহ মুছে দেওয়া হবে,সেদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সে থাকবে, শয়তানের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষিত থাকবে এবং সে যে আমল করেছে তার চেয়ে উত্তম আমল কেউ করতে পারবে না, তবে সে ব্যক্তি ছাড়া, যে এর চেয়ে বেশি আমল করেছে।

( সহিহ বুখারী হাদীস নং ৩২৯৩, ৬৪০৩, সহিহ মুসলিম হাদীস নং ২৬৯১)

৭)হ্যাঁ এটি সঠিক।

এক্ষেত্রে উক্ত বিবাহে আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত নাযিল হয়না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...