আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
19 views
in পবিত্রতা (Purity) by (10 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ।

ডান হাতের কব্জি তে আঘাত পেয়ে হাত ভেঙে গিয়েছে। ইন্না লিল্লাহ। আল্লাহ সুস্থতা দান করুন আমিন।এখন হাত ব্যান্ডেজ করা রয়েছে। এমতাবস্থায় বিভিন্ন কাজে সমস্যা হচ্ছে।
১.বাম হাত দিয়ে খাবার খেলে কি গুনাহ হবে?

২.ইস্তেঞ্জার পর যদি শুধু টিস্যু ব্যবহার করে(ঢিলা কুলুপ হিসেবে) তবে পবিত্রতা অর্জন হবে কি?

৩.এমতাবস্থায় নামাজ কিভাবে পড়তে হবে? এমতাবস্থায় অপবিত্র আছি ভেবে নামাজ না আদায় করলে কি গুনাহ হবে?

৪.উল্লেখ্য আলহামদুলিল্লাহ সুস্থ অবস্থায় মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতেন। এমতাবস্থায় মসজিদে যেতে হবে কি? ব্যান্ডেজ তো কমপক্ষে ১৫দিন রাখা লাগতে পারে। আল্লাহ না করুন যদি মসজিদে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিথিলতা চলে আসে। এক্ষেত্রে করণীয় কি?

আল্লাহ আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ ও আখেরাতের কল্যাণ দান করূন এবং জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তি দিন। আফিয়াতের সাথে সুস্থতা দিন।আমিন।

দোয়া করবেন
জাজাকুমুল্লহু খয়রন।

1 Answer

0 votes
by (720,840 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ওযর বশত বাম হাত দিয়ে খাবার খেলে গুনাহ হবেনা।

(০২)

পেশাব-পায়খানার পরপবিত্রতা অর্জন করার তিনটি পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে।

প্রথম পদ্ধতি: শুধু ঢিলা/টিস্যু ব্যবহার করা: এক্ষেত্রে তিনটি টিলা/কুলুফ ইউজ করা সুন্নাহ। এ বিষয়ে বহু হাদীস ও আছার বর্ণিত হয়েছে।

 قَدْ عَلّمَكُمْ نَبِيكُمْ كُلّ شَيْءٍ حَتى الْخِرَاءَةَ قَالَ: فَقَالَ: أَجَلْ لَقَدْ نَهَانَا  أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِأَقَلّ مِنْ ثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ

সালমান ফারসী রা.-কে বলা হলতোমাদের নবী তোমাদের সবকিছু শিক্ষা দিয়েছেনএমনকি শৌচাগার ব্যবহারের পদ্ধতিও! আব্দুর রহমান বিন ইয়াযীদ রাহ. বলেনসালমান রা. বললেন, ‘হাঁঅবশ্যই! তিনি আমাদেরকে নিষেধ করেছেনআমরা যেন ডান হাত দ্বারা ইস্তিঞ্জা না করিইস্তিঞ্জার সময় তিন পাথরের কম ব্যবহার না করি ।’ সহীহ মুসলিমহাদীস ২৬২

 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্ত আমল ও বাণী মুতাবেক অনেক সাহাবা ও তাবেয়ীনের আমল ছিল। তাঁরা পানি থাক বা না থাক শুধু ঢিলা দ্বারা ইস্তিঞ্জা করতেন।

 

এ অনুযায়ীই উম্মাহর ইমামগণের ফতোয়া। সকল ইমামের মত হলপানি থাকুক বা নাই থাকুক সর্বাবস্থাই শুধু ঢিলা দ্বারা তাহারাত হাসিল করা জায়েয। আল ইসতিযকার ১/১৪৩

 

দ্বিতীয় পদ্ধতি: ঢিলা ও পানি উভয়টা দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা। ঢিলা ব্যবহার করে পানি দ্বারা ধৌত করা কুরআন-সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীনের আমল দ্বারা প্রমাণিত। কারণতাতে অধিক পরিচ্ছন্নতা অর্জিত হয়। তবে এ ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা কখনোই ঠিক হবে না। যেমনপ্রস্রাবের পর ঢিলা হাতে নিয়ে শৌচাগারের বাইরে চল্লিশ কদম দেওয়ালেফট-রাইট করাবার বার উঠা-বসা করাকেউ পানির পূর্বে ঢিলা ব্যবহার না করলে তাকে পশুর সাথে তুলনা ও ঘৃণা করা কিংবা কটু বাক্য বলে তাকে জর্জরিত করা ইত্যাদি ইত্যাদি।

 

তৃতীয় পদ্ধতি: পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা। কাযায়ে হাজতের পর পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করার বিষয়ে সাহাবা ও তাবেয়ীন-যুগে দু-একজনের ভিন্নমত থাকলেও পরবর্তীতে এ বিষয়ে কোনো ইমামের মতবিরোধ নেই যেকাযায়ে হাজতের পর পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা যাবেবরং উলামায়ে কেরাম বলেনপানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করাই উত্তম।

 

শুধু পানি দিয়ে ইস্তিঞ্জা করার ব্যাপারে আনাস রাযি. থেকে বর্ণিততিনি বলেন,

كَانَ رَسُوْلُ اللهِ  صلى الله عليه وسلم يَدْخُلُ الْخَلاَءَ، فَأَحْمِلُ أَنَا وَغُلاَمٌ نَحْوِيْ إِدَاوَةً مِنْ مَاءٍ وَعَنَـزَةً، فَيَسْتَنْجِيْ بِالْمَاءِ

রাসূলুল্লাহ সা. পায়খানায় গেলে আমি এবং আমার সমবয়সী একটি ছেলে এক লোটা পানি ও একটি হাতের লাঠি নিয়ে রাসুল সা. অপেক্ষায় থাকতাম। অতঃপর তিনি পানি দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতেন।” সহীহ বুখারীহাদীস নং ১৫০


বিস্তারিত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
ইস্তেঞ্জার পর যদি শুধু টিস্যু ব্যবহার করে(ঢিলা কুলুপ হিসেবে) তবুও পবিত্রতা অর্জন হবে।

(০৩)
এমতাবস্থায় নামাজ স্বাভাবিক অবস্থার ন্যায় পড়তে হবে।

এমতাবস্থায় অপবিত্র আছেন ভেবে নামাজ না আদায় করলে গুনাহ হবে।

(০৪)
এমতাবস্থায় মসজিদে যাওয়ার মতো শক্তি, ক্ষমতা থাকলে মসজিদে যেতে হবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 352 views
...