আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
17 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (106 points)
১।ইশার নামাজের পরে বিদ্যুৎ  বিল দিয়ে  বিদ্যুৎ ব্যাবহার করে রাত ১১টা বা ১২টা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত খেলি তা জায়েজ হবে কি?
২।ডাক্তার বলছে যে চোখে সানি পরছে অপারেশন লাগবে। তবে চশমা ব্যাবহার করে সব দেখি চশমা ছাড়া দুরের জিনিস বেশী জাপশা দেখি চশমা ছাড়াও চলতে পারি।ডাক্তার মোবাইল ফোন দেখতে নিষেধ করে নাই এখন যদি মোবাইলে ফেসবুক খবরাখবর এবং রাজনৈতিক তথ্য দেখা এবং জায়েজ জিনিস দেখা জায়েজ হবে কি?

৩।জায়েজ এবং হালাল ও বৈধ এর মধ্যে  কোনো পার্থক্য আছে কিনা নাকি সবগুলো একই?

৪।মাকরুহে তানজিহি কাজ গুলো কি জায়েজ?

1 Answer

0 votes
by (754,620 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ- 
ইসলাম এ বিষয়ে জোর দেয় যে,মানুষ তার জীবনের প্রতিটি মূহূর্ত এমন কাজে ব্যয় করবে যাতে দুনিয়া ও আখেরাতের নিশ্চিত কল্যাণ রয়েছে।কমপক্ষে যেন দুনিয়া ও আখেরাতের কোনো ক্ষতি না হয়।এ জন্যই কোরআনে কারীমে মু'মিনদের উত্তম ও প্রশংসনীয় গুনাবলীর আলোচনা করতে যেয়ে বলা হয়,
ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢْ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻠَّﻐْﻮِ ﻣُﻌْﺮِﺿُﻮﻥَ
যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত,
(মু'মিনুন-৩) 
اللغو: وهو كل سقط من قول او فعل فيدخل فيه الغناء واللهو و غير ذلك مما قاربه
অর্থাৎ- লাগু ঐ সকল অনর্থক কথাবার্তা ও কাজ-কর্ম যাতে গান-বাদ্য রং তামাশা ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। (কুরতুবি:১৩/৮০)

উল্লেখিত আয়াত ও হাদীস সমূহ থেকে বুঝা গেল যে, ইসলামী শরীয়তে সময়ের প্রতি যত্নশীল হওয়া ও লক্ষস্থির জীবন গঠনের নির্দেশ হয়েছে।
খেলাধুলা ও রং তামাশা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।কিন্তু বিনোদন নয়;বরং বললে ভুল হবে না যে,যেই বিনোদনের অর্থ হলো আনন্দ ও খুশি লাভ করা। শরয়ী আনন্দ সম্ভলিত সেই বিনোদন ইসলামে কেবল অনুমোদিতই নয়;বরং এক পর্যায়ে প্রশংসনীয় ও বটে।যাতে করে শারিরিক অলসতা ও অবসাদ কেটে যায় এবং মনোবল ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয় আর মানুষ প্রফুল্লতার সাথে জীবনের শ্রেষ্ঠ লক্ষ্য অর্জনে মনোযোগী হতে পারে। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/673

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১)  রাত ১১টা বা ১২ টা কিংবা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত খেলাধুলা করা অনুচিত। ক্ষেত্রভেদে নাজায়েযও হতে পারে।
(২) ডাক্তার মোবাইল ফোন দেখতে নিষেধ করুক বা নাই করুক। মুবাইল স্কিনের দিকে থাকানো দৃষ্টিশক্তির জন্য ক্ষতিকর। 
(৩) জায়েয এবং হালাল ও বৈধ এর মধ্যে সাধারণত  কোনো পার্থক্য নাই। তবে একটা পার্থক্য হল, জায়েয নাজায়েয এর সম্পর্ক হল খাবার ব্যতিত অন্য জিনিষের সাথে। এবং হালাল হারামের সম্পর্ক হল, খাবারের সাথে।
(৪) মাকরুহে তানজিহি কাজ গুলো জায়েয না করাই উচিত। তবে করলে কোনো গোনাহ হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...