আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
21 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (11 points)
আসসালামু আ'লাইকুম।
১. এই প্রশ্নটি আমার মাথায় নিজে থেকে আসেনি, একজন নাস্তিকের কথা শুনে এসেছে।
সেটা হল,
"বাচ্চারা যারা নাবালক অবস্থায় মারা যায়, তাদেরকে তো টেস্ট না নিয়েই জান্নাত দিয়ে দেয়া হল, ফ্রিতে তারা পেয়ে গেল। হতে পারে মা-বাবার টেস্ট হচ্ছে, কিন্তু বাচ্চাটার তো টেস্ট দেয়া লাগেনি।
সেখানে আমাকে বালেগ হওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে, তাই আমাকে জান্নাত অর্জন করে নিতে হচ্ছে, এটা কি আমার প্রতি বেইনসাফি না?"

এটা ছিল ওই নাস্তিকের প্রশ্ন। আমি কখনোই চাইবনা নাবালক অবস্থায় মারা যেতে, কিন্তু অনেকেই চায় যে তাদের যদি পরীক্ষা না দিতে হত!
আমার প্রশ্নটা হল, আল্লাহ তো ন্যায়বিচারক। তিনি মানুষের পরীক্ষার কঠিনতা সহজতা অনুযায়ী মানুষের উপরে দয়া করে জান্নাত জাহান্নাম দেন। নবীজি(সা.) এর পরীক্ষা কঠিন ছিল তাই তিনি জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম পাবেন, তাইনা? আবার একজন হিন্দু যদি মুসলিম হয়, তার টেস্ট অবশ্যই আমার চেয়ে কঠিন, তাহলে আল্লাহ আমার চেয়ে তাকে বেশি প্রতিদান দিবেন তাইনা?
তাহলে একটা বাচ্চা যে কোনো টেস্টই দেয়নি, তার তো জান্নাতে গিয়ে কোনো বাড়তি প্রতিদান পাওয়া উচিত না, হোক তার বাবা মা টেস্ট দিয়েছে।
এটা কি এরকম সম্ভব, যে বাচ্চারা জান্নাতেও বাচ্চাই থাকবে আর তাদের জান্নাতের নিয়ামতগুলো অন্যদের মত করে উপভোগ করার অনুভূতি থাকবেনা বা নিয়ামত পাবেনা তাদের মত, যারা কঠিন পরীক্ষা দিয়ে জান্নাত পেয়েছে? অর্থাৎ ফেরেশতাদের মত হবে বাচ্চারা?

অথবা এমন সম্ভব, যে আল্লাহ জানেন যে বাচ্চাগুলো বালেগ হলেও কাজের মাধ্যমেই জান্নাতে যেত, তাই তারা মারা গেলেও জান্নাতে যাবে এবং উপভোগও করতে পারবে?

আল্লাহই ভালো জানেন, কিন্তু উপরের দুটি সম্ভাবনা থেকে কোনো একটা যদি আমি বিশ্বাস করি তাহলে কি আমার ঈমান থাকবে?

1 Answer

0 votes
by (754,620 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
শিশু অবস্থায় যারা মারা যায় তারা জান্নাতে যাবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) জান্নাত দেখার সময় অনেক ছেলেমেয়েকে ইবরাহীম (আঃ)-এর সামনে  দেখলেন, যারা  জনগণের সন্তান (বুখারী, মিশকাত-৪৬২১)।

অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, জিবরীল (আঃ) বললেন, যারা তাওহীদের উপর মারা গেছে তারাই ইবরাহীম (আঃ)-এর সামনে আছে। তখন  ছাহাবীরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! মুশরিকদের সন্তানেরাও? তিনি উত্তরে বললেন, মুশরিকদের ছেলেরাও (বুখারী, মিশকাত-৪৬২৫ ‘স্বপ্ন’ অধ্যায়)। 

অন্য এক বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, মুশরিকের ছেলেরা জান্নাতের খাদেম হবে (ত্বাবারাণী আওসাত্ব, সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৪৬৮)।

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
কাকে আল্লাহ পরিপূর্ণ হায়াত দিবেন আর কাকে দিবেন না তা আল্লাহই ভালো জানেন। এটা সম্পূর্ণ আল্লাহর অধিকার। এক্ষেত্রে কারো প্রশ্ন তুলার সুযোগ নেই। যেহেতু আল্লাহ তাকে পরিপূর্ণ হায়াত দেন নাই। জীবনকে উপভোগের সুযোগ দেন নাই, তাই তাদেরকে জান্নাতের খাদিম হিসেবে রাখবেন। মুসলমানে  নাবালক সন্তান হোক বা অমুসলিমের নাবালক সন্তান হোক, তাদের সবাইকে জান্নাতের খাদেম হিসেবে নিয়োগ করা হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (11 points)
হুজুর হায়াত দেয়া না দেয়া নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই, আল্লাহ অবশ্যই যা খুশি করার অধিকার রাখেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন ছিল জান্নাতে বাচ্চারা কি ফেরেশতাদের মত সেবক/ আদেশ পালনকারী হয়ে থাকবে, নাকী তাদের মত নানারকম ইচ্ছাপূরণের সুযোগ পাবে যারা বিভিন্ন পরীক্ষা দিয়ে জান্নাতে গিয়েছে? যেহেতু আল্লাহ ন্যায়বিচারক। আর আমি যদি এরকম বিশ্বাস রাখি যে তারা প্রাপ্তবয়ষ্কদের মত এত নিয়ামত জান্নাতে পাবেনা, তাহলে ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক হবে কীনা। 
ago by (754,620 points)
তারা সাধারণ জান্নাতিদের মত নয়। বরং তারা জান্নাতের খাদেম হিসেবে থাকবে। সুতরাং সাধারণ জান্নাতিদের মত সুযোগ সু্বিধা তো তাদের নেই। কি কি সুবিধা তারা পাবে? তা আল্লাহই ভালো জানেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...