আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
2 views
ago in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (36 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ উস্তাজ,
**১ মাসের কিছু বেশি হবে আমার বিয়ে হয়েছে,আমার বিয়ের আগে আমার স্বামী ৬ লক্ষ নগদ দেনমোহর,১ ভরি স্বর্ণ গয়না  দিবে বলে কথা দিয়েছিল ,কিন্তু তিনি তার কোনো কথা রক্ষা করেনি(১ আনার ১ টি আংটি দিয়েছি),দেনমোহর যা বলেছিল তার চেয়ে অনেক কম ধরেছে এবং তাও ১ টাকাও আদায় করেনি।এটা নিয়ে আমার মা য়ের অনেক মন খারাপ,আমার ও মন খারাপ ছিল (আমার স্বামী বিবাহিত জীবনে দেওয়া প্রথম কথাগুলোই রক্ষা করেনি সেজন্য),তবে আমি আল্লাহ কপালে যা রেখেছেন তাতেই সন্তূষ্ট এই বুঝ দিয়ে মন কে শান্ত করেছি এবং আমার মন খারাপ থাকলে আমার স্বামী যদি মনে কষ্ট পায় সেই ভয়ে মন খারাপ না করে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছি।কিন্তু সমস্যা হলো আমার আম্মু চাচ্ছে আমি এই বিষয় গুলো উনার কাছে উত্থাপন করি, আমি কেন এত বোকা,এভাবে ঠকে গেলাম,আর উনি এভাবে কোনো উপহার ছাড়া বিয়ে করায় আমি পুরো পরিবারের কাছে অপমানিত হয়েছি।উল্লেখ্য আমার বিয়ের প্রায় ১.৫ মাস হতে চলল আমি আমাদের বাসাতেই আমার মায়ের সংসারে আছি এবং জব করি,তিনি আমাকে দেনমোহরের ১টি টাকাও দেন নি এবং আমার ভরণপোষণ /হাত খরচের জন্য ও কোনো টাকা দেন নি(তিনি আমার সাথে স্বামী- স্ত্রী সুলভ সম্পর্ক স্থাপন করেছেন)।শুরুর দিকে পোশাক আশাক কিনার জন্য কিছু টাকা দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন১#
**এমতাবস্থায় আমার প্রশ্ন আমি যদি সরাসরি না বলে আকারে ইংগিতে আমার মোহরের টাকা,ভরনপোষণ এর টাকা এবং যে সকল গিফট দিবে বলে কথা দিয়েছিল এসব যদি আমি স্বামী র কাছে যদি আমি দাবি করি আর স্বামী যদি মনে কষ্ট পায় তবে কি আমার গুনাহ হবে??(নারীরা জাহান্নামে যাওয়ার অন্যতম কারণ নাকি স্বামী র না শুকরি,স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা,দেনমোহর চাওয়া/ভরনপোষণ চাওয়া ও কি এর শামিল হবে?)

**দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে,আমার বাবা ছোটো বেলায় মারা গিয়েছেন,আমাদের দুই বোন কে মা অনেক কষ্ট করে বড় করেছেন,আমার মায়ের স্বপ্ন ছিল আমাদের বিয়ে র পরেও আমরা একসাথেই থাকব, আমারো তেমন ই ইচ্ছে ছিল।কিন্তু আমার স্বামী আলাদা বাসা নিবে বলেছে (একই এলাকাতেই পাশাপাশি) এবং আমি বুঝতেছি স্বামী হিসেবে এতটুকু অধিকার তার আছে এবং তার এই নির্দেশ মানতে আমি বাধ্য।কিন্তু  আমার আম্মু এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা,সে প্রচন্ড ভাবে আহত হয়েছে প্রচুর কান্নাকাটি করছে এবং রাগ করে অনেক দূরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার অভিযোগ স্বামী র এই সিদ্ধান্ত এ আমি রাজি হয়য়ে গেলাম,আমি অতিরিক্ত স্বামী ভক্ত,বিয়ে হতে না হতেই সবাইকে পর করে দিছি,এই দাবিগুলো সবই অযৌক্তিক কিন্তু তবুও আমি মাকে বলেছি আমি তোমার মনে কষ্ট দিয়েছি আমাকে মাফ করে দাও,কেঁদে কেঁদে অনেক মাফ চেয়েছি এবং আমার কাছাকাছি থাকার অনুরোধ করেছি কিন্তু আমি বুঝতে পেরেছি তবুও আমার মায়ের মন গলেনি,আলাদা বাসা নিতে রাজি হওয়ায় আমার মা আমার উপর খুবই অসন্তুষ্ট হিয়েছে।

প্রশ্ন#২:পিতামাতার অসন্তুষ্টি  ত আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ,আমি খুবই ভয় পাচ্ছি আমার মায়ের এই চোখের পানি কি অভিশাপ হয়ে আমার দুনিয়া ও আখিরাত ধবংসের কারণ হবে?

*প্রশ্ন ৩#আমার মা সুযোগ পেলেই আমার স্বামীর বিভিন্ন দোষ ত্রুটি শুধু বলতে থাকে আমার কাছে কিছু সত্য আর কিছু এমন বিষয় যেটা আসলে দোষ দেওয়া যায়না তবে যাই হোক আমি যদি স্বামীকে ডিফেন্ড করে কোনো কথা বলতে যাই তবে আম্মু আরো কষ্ট পাবে।তাই চুপচাপ শুনি, এতে কি গীবত শ্রবণের গুনাহ হবে??

উস্তাজ আমি একজন নেককার জীবনসংগীর আশায় ২৯ টা বছর একাকী পার করেছি,ঘটককে ছবি না দেওয়া,কারো সামনে না যাওয়া বিয়ে তে দেরি এসব কারনে আমি পরিবারের কাছ থেকেও অনেক মানসিক কষ্ট পেয়েছি।অবশেষে আল্লাহর অশেষ রহমতে একজন মাওলানা মুফতি র সাথে আমার বিয়ে হয়েছে।কিন্তু উস্তাজ বিয়ের পরেও আমি মানসিক কষ্ট পাচ্ছি,উনি আমাকে বিয়েতে স্বর্ণ ,দেনমোহর  দিয়ে বিয়ে না করায় পরিবারের কাছে অপমানিত হয়ে যে কষ্ট পেয়েছি তার চেয়েও বড় কষ্ট আমি আবিষ্কার করেছি উনি ফরজ স্বলাত,মাহরাম নন মাহ রাম ,পর্দআর ব্যাপারে যথেষ্ট উদাসীন (ভাবির সাথে ভিডিও কলে কথা বলে), আমার পরিবারের কাউকে তেমন পাত্তা দেয়না,কারো কল রিসিভ করেনা।কিন্তু আমি আল্লাহর কাছে কোনো অভিযোগ করিনা,আমি গুনাহগার আমি হয়ত এমন টাই ডিসার্ভ করি অথবা আল্লাহ আমার পরীক্ষা নিচ্ছেন,তাই আমি শুধু দোয়া করি আল্লাহ যেন আমাকে আর আমার স্বামীকে এস্লাহ করে দেন, হেদায়েত দেন,সুরা ফোরকান এর ৭৪ নংনং আয়াত টা পড়ি।কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমি খারাপ ভালো যেমন ই থাকি আমি হাসিমুখে থেকে সবাই কে সন্তুষ্ট রাখতে চাই,আমার দ্বারা কারোর হক নষ্ট হোক/কেউ কষ্ট পাক তা চাই না। কিন্তু উস্তাজ উপরের প্রশ্ন গুলো পড়লে আপনি বুঝতে পারবেন আমি আসলে খুবই মানসিক কষ্ট এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছি কারন একই সাথে স্বামী এবং মাকে সন্তুষ্ট রাখা আমার পক্ষে সম্ভব না। সময়ের সাথে সাথে আমার স্বামী কে ম্যানেজ করা হয়ত সম্ভব কিন্তু আমার মা সেই সময় টুকু আমাকে দিবেনা, তিনি খুব ইগোসম্পন্ন মানুষ এবং তার রাগ খুবই শক্ত, তিনি ইতোমধ্যে ই আমার কাছ থেকে দূরে থাকার ব্যবস্থা করতেছেন। আমার মা আমাদের দুই বোনের জন্য বহু ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তার জীবন যৌবন সবই ত্যাগ করেছেন,তাই আমার মার এই কষ্ট পাওয়া টাও মেনে নিতে পারছিনা।
##এই জটিল পরিস্থিতি তে  কিভাবে কি করব কিছু নসীহা চাচ্ছি। আমি যতই স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছি পারছিনা,আমার মা অনবরত কান্নাকাটি করছে,আর বঅলতেছে আমি পর হয়ে গেছি তাকে আর আমার প্রয়োজন নাই।কোনো মানুষ ই পারফেক্ট না, আমার স্বামী যেমন ই হোক আমি আল্লাহর কাছে শোকর করে তাকে নিয়েই ভালো থাকতে চাই কিন্তু আমার মা যখন আমার স্বামী র বিভিন্ন দোষ ত্রুটি উত্থাপন করে,তার মনোকষ্ট এর কথা বলে তখন আমার স্বামী র প্রতি প্রচন্ড ক্ষোভ তৈরি হয়,তআকে আর ভালো লাগেনা আমার মাথায় ও অই দোষ ত্রুটি গুলো ঘুরপাক খায়, তখন আমি আর সসন্তুষ্ট থাকতে পারিনা।আমি বারংবার এই চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছি।

এত বড় লেখা কষ্ট করে পড়ার জন্য جزاك الله خيرا. আল্লাহ আপনার হায়াতে ও রিজিকে বারাকাহ দান করুক।

Please log in or register to answer this question.

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...