আসসালামু আলাইকুম।
আমার স্বামী আমার পর্দার ব্যাপারে খুবই সতর্ক, আর আমি আলহামদুলিল্লাহ পূর্ণ পর্দা মেইনটেইন করি। আমার স্বামী সৌদি আরবে থাকে। কিছুদিন আগেই তিনি ওমরাহ করেছেন।
আমার একটা অতীত আছে। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠি, আস্তে আস্তে আমি ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারি। ধীরে ধীরে নামাজ, রোজা, খাঁটি পর্দা শুরু করি। কোনো নন-মাহরামের সাথে আমার কখনো কোনো সম্পর্ক বা হারাম কিছু ছিল না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছেলে আমাকে কিছু নোট নেওয়ার কথা বলে মেসেজ দেয়। কিন্তু শুরু থেকেই আমি তাকে ইগনোর করি, কারণ আমার হারামে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিকেই সে মেসেজ দেয়। আমি তাকে ইগনোর করতেই থাকি, কিন্তু কীভাবে জানি না, আমি নিজেও পরে উইক হয়ে যাই। পরে তাকে বলি আমি কথা বলব না, এটা হারাম। সে আমাকে বলে বিয়ে করবে, আপাতত সে সব সামলাবে, সে খুব ভালো ফ্যামিলি থেকে এসেছে—এইসব। আমিও রাজি হয়ে যাই।
কিন্তু পরে বুঝতে পারি, সে সব মিথ্যা। তার জন্য আমি এক বছর অপেক্ষা করি, কিন্তু তার কোনো উন্নতি দেখি না, আর সে আমাকে অনেক মিথ্যা বলেছে। এসব জানার পর আমি তার থেকে ডিভোর্স নিই।
আমি বর্তমানে বিবাহিত। আমি বিয়ে করতে চাইনি, তবু আমার পরিবারকেও কিছু বলতে পারছিলাম না। আমি একমাত্র মেয়ে আমার পরিবারের, তাই রাজি হয়ে যাই। আর আল্লাহর কাছে তাওবা করতে থাকি।
কিন্তু আজ হঠাৎ সকালে আমার স্বামী আমাকে বলে,
“আমার হক তুমি নষ্ট করিও না।”
আমি আল্লাহর কাছে তোমার জন্য অনেক দোয়া করেছি, তবে একটা নেগেটিভ দোয়া করেছি। বলেছি, আল্লাহ, আমার হক যদি অন্য কাউকে দিয়ে দাও, তাহলে তুমি তাকে অনেক জাহান্নাম দিও, যেন সে কখনো জান্নাত না দেখে।
তারপর আমি উত্তরে বললাম, আমি তো বিয়ের আগে অনেক বেপর্দা হয়ে চলেছি। তখন সে বলে, “ইনটিমেট হওয়ার কথাই বলছি।” এটা আমি কোনোভাবে ছাড় দেব না, আমি মানব না।
তারপর সে বলে, “আমি বিয়ের আগে বা পরে ইনটিমেসির কথাই বলছি, আমার হকের কথাই বলছি। আল্লাহকে বলেছি, আমার হক যদি অন্য পুরুষকে দেওয়া হয়।” আমি শুধু চুপ করে ছিলাম।
এখন আমার কি তালাক হবে? এটা কি শর্তযুক্ত তালাকের মধ্যে পড়ে?
আমার আগের স্বামীর সাথে তো আমি ইনটিমেট হয়েছিলাম।
আমাকে প্লিজ বলুন। শর্তমূলক তালাকের কথা কি স্পষ্ট হতে হয়? নাকি কিনায়া বাক্য কিন্তু শর্তযুক্ত তালাকে নিয়ত থাকলে হয়ে যাবে?
আমার কি স্বামীকে জিজ্ঞেস করা উচিত, তালাকের নিয়ত ছিল কি না?