আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
13 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (7 points)
আসসালামু আলাইকুম।

আমার স্বামী আমার পর্দার ব্যাপারে খুবই সতর্ক, আর আমি আলহামদুলিল্লাহ পূর্ণ পর্দা মেইনটেইন করি। আমার স্বামী সৌদি আরবে থাকে। কিছুদিন আগেই তিনি ওমরাহ করেছেন।

আমার একটা অতীত আছে। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠি, আস্তে আস্তে আমি ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারি। ধীরে ধীরে নামাজ, রোজা, খাঁটি পর্দা শুরু করি। কোনো নন-মাহরামের সাথে আমার কখনো কোনো সম্পর্ক বা হারাম কিছু ছিল না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছেলে আমাকে কিছু নোট নেওয়ার কথা বলে মেসেজ দেয়। কিন্তু শুরু থেকেই আমি তাকে ইগনোর করি, কারণ আমার হারামে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিকেই সে মেসেজ দেয়। আমি তাকে ইগনোর করতেই থাকি, কিন্তু কীভাবে জানি না, আমি নিজেও পরে উইক হয়ে যাই। পরে তাকে বলি আমি কথা বলব না, এটা হারাম। সে আমাকে বলে বিয়ে করবে, আপাতত সে সব সামলাবে, সে খুব ভালো ফ্যামিলি থেকে এসেছে—এইসব। আমিও রাজি হয়ে যাই।

কিন্তু পরে বুঝতে পারি, সে সব মিথ্যা। তার জন্য আমি এক বছর অপেক্ষা করি, কিন্তু তার কোনো উন্নতি দেখি না, আর সে আমাকে অনেক মিথ্যা বলেছে। এসব জানার পর আমি তার থেকে ডিভোর্স নিই।

আমি বর্তমানে বিবাহিত। আমি বিয়ে করতে চাইনি, তবু আমার পরিবারকেও কিছু বলতে পারছিলাম না। আমি একমাত্র মেয়ে আমার পরিবারের, তাই রাজি হয়ে যাই। আর আল্লাহর কাছে তাওবা করতে থাকি।

কিন্তু আজ হঠাৎ সকালে আমার স্বামী আমাকে বলে,

“আমার হক তুমি নষ্ট করিও না।”

আমি আল্লাহর কাছে তোমার জন্য অনেক দোয়া করেছি, তবে একটা নেগেটিভ দোয়া করেছি। বলেছি, আল্লাহ, আমার হক যদি অন্য কাউকে দিয়ে দাও, তাহলে তুমি তাকে অনেক জাহান্নাম দিও, যেন সে কখনো জান্নাত না দেখে।

তারপর আমি উত্তরে বললাম, আমি তো বিয়ের আগে অনেক বেপর্দা হয়ে চলেছি। তখন সে বলে, “ইনটিমেট হওয়ার কথাই বলছি।” এটা আমি কোনোভাবে ছাড় দেব না, আমি মানব না।

তারপর সে বলে, “আমি বিয়ের আগে বা পরে ইনটিমেসির কথাই বলছি, আমার হকের কথাই বলছি। আল্লাহকে বলেছি, আমার হক যদি অন্য পুরুষকে দেওয়া হয়।” আমি শুধু চুপ করে ছিলাম।

এখন আমার কি তালাক হবে? এটা কি শর্তযুক্ত তালাকের মধ্যে পড়ে?

আমার আগের স্বামীর সাথে তো আমি ইনটিমেট হয়েছিলাম।

আমাকে প্লিজ বলুন। শর্তমূলক তালাকের কথা কি স্পষ্ট হতে হয়? নাকি কিনায়া বাক্য কিন্তু শর্তযুক্ত তালাকে নিয়ত থাকলে হয়ে যাবে?

আমার কি স্বামীকে জিজ্ঞেস করা উচিত, তালাকের নিয়ত ছিল কি না?

1 Answer

0 votes
by (750,030 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
মহিলাকে তার পানিপ্রার্থী বা স্বামী পূর্বে কোনো গোনাহ বা অ্যাফেয়ার সম্পর্কে কিছুই জিজ্ঞাসা করবে না।যদি নারী কে চাপ প্রয়োগ বা জোড়ালো ভাবে জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে সে তাওরিয়াহ করতে পারে।তাওরিয়াহ হল,এমন কথা যা থেকে শ্রুতা কিছু একটা বুঝে নিবে।কিন্তু বক্তা অন্য কিছু উদ্দেশ্য নিবে।যেমন- স্ত্রী বলবে,আমার কারো সাথে কোনো সম্পর্ক ছিলো না।উদ্দেশ্য নিবে,আজকে বা গতকাল কারো সাথে আমার কোনো সম্পর্ক ছিল না। অথবা এভাবে বলবে, আমার যে সম্পর্ক ছিলো,তুমি কি তা বিশ্বাস করবে?স্বামীর উচিৎ সে দ্বীনদ্বার, চরিত্রবান কোনো নারী দেখে বিয়ে করবে। যখন সে কাউকে বিয়ে করে নেবে,তখন সে যেন তার স্ত্রীকে অতীত জীবন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা না করে,খোজখবর না নেয়।কেননা দোষ গোপন রাখাই  আল্লাহর পছন্দনীয়।যা কারো অতীত জীবনী তালাশের বিরোধী। এতেকরে সন্দেহের সৃষ্টি হয় যা সংসার নামক প্রশান্তিদায়ক বস্তুকে অগ্নিময় করে তুলে।মানুষকে অস্থির ও পেরেশান করে তুলে। স্বামীর জন্য এটাই যথেষ্ট যে সে তার স্ত্রীকে ইবাদতে লিপ্ত দেখবে।তার ফরমাবরদার হবে।ঠিক এমনিভাবে স্ত্রী তার স্বামীকে অতীত জীবন সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করবে না।স্বামী কি ইতিপূর্বে কাউকে ভালবেসেছিলো? অন্য কারো প্রতি তার মন কখনো চলে গিয়েছিলো?সে কি কোনো গোনাহের কাজে কখনো গিয়েছিলো?কেননা এমনসব প্রশ্নে কোনো উপকার নেই।বরং এর দ্বারা অপকারের এমনসব দরজা খুলে যায়,যার সংশোধন কখনো সম্ভবপর হয় না।স্বামী যদি স্ত্রীকে বারংবার জিজ্ঞাসা করে।অথবা এ বিষয়ে স্ত্রীর মূখ থেকে হ্যা/না শুনার জন্য চাপ প্রয়োগ করে, অন্যদিকে স্ত্রী নিজেকে বাচানোর অন্য কোনো রাস্তা খুজে না পায়,তাহলে সে নিজের ভবিষ্যৎ জীবনকে সন্দেহমুক্ত রাখতে তাওরিয়াহ করে কসম করতে পারবে।কিন্তু যদি এমন হয় যে,পূর্বের রিলেশনের কথা স্বামী একদিন জেনে যাবে,এবং রিলেশনটাও এ পর্যায়ের ছিলো,অস্বীকার করে পার পাওয়া যাবে না।এবং এটা যে স্বামী জানবে,এ সম্পর্কে অধিকাংশ ধারণা থাকে।স্বামী ভবিষ্যতে জানলে সংসার বিষময় হয়ে যেতে পারে।এমন পরিস্থিতিতে বিয়ের পূর্বেই স্বামীকে অবগত করে দেওয়া উচিৎ।আল্লাহ-ই ভালো জানেন।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/906

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আমরা সম্পূর্ণ প্রশ্নটি পড়েছি, প্রশ্নের বিবরণমতে কোনো তালাক হবে না। শর্তযুক্ত তালাক হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 292 views
...