জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সুরা মুযযামিল এর ২০ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ
فَاقۡرَءُوۡا مَا تَیَسَّرَ مِنَ الۡقُرۡاٰنِ ؕ
তোমরা কুরআন হতে যতটুকু সহজসাধ্য ততটুকু পড়।
কুরআনে সুরার যেভাবে তারতীব বা সিরিয়াল আছে তার উল্টো করা যাবে না,বরং প্রথম রাকাতে যে সূরা পড়বে,পরের রাকাতে তার পরবর্তী সূরা পড়বে। কিন্তু প্রথম রাকাতে এক সূরা পড়ে, পরের রাকাতে উক্ত সূরার আগের কোন সূরা পড়া, যেমন প্রথম রাকাতে সূরা ফীল পড়া আর দ্বিতীয় রাকাতে সূরা হুমাজাহ পড়া মাকরূহ। কারণ এতে কুরআনের তারতীব পাল্টে দেয়া হচ্ছে। তাই প্রথমে এমন একটি সূরা দিয়ে শুরু করবে, যেন উক্ত সূরার পর পরের রাকাতে পড়ার মত কোন সূরা থাকে। তবে যদি ভুলে এমনটি করে তাহলে সমস্যা নেই।
এক সূরা পড়ার পর মাঝখানে এক সূরা বাদ দিয়ে পরের সূরা পড়া মাকরূহ্ তবে দুই সূরা বাদ দিয়ে পড়াতে কোন সমস্যা নেই।
যেমন, প্রথম রাকাতে সূরা ফীল পড়ার পর, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা কুরাইশ বাদ দিয়ে সূরা মা’ঊন পড়া মাকরূহ। কিন্তু সূরা কাউসার বা কাফিরূন বা এর পরের সূরাগুলো পড়াতে কোন সমস্যা নেই।
ويكره فصله بسورة بين سورتين قرأهما فى ركعتين لما فيه من شبهة التفضيل والهجر، (مراقى الفلاح على هامش الطحطاوى، فصل فى المكروهات-287، الدر المختار مع الشامى- 2/269)
কুরআনের কারীমের সূরার সিরিয়াল রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমেই সাহাবাগণ রাঃ পেয়েছেন। সুতরাং এতে সন্দেহ করার কোন সুযোগ নেই।
فَقَالَ عُثْمَانُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِمَّا يَأْتِي عَلَيْهِ الزَّمَانُ وَهُوَ تَنْزِلُ عَلَيْهِ السُّوَرُ ذَوَاتُ الْعَدَدِ فَكَانَ إِذَا نَزَلَ عَلَيْهِ الشَّىْءُ دَعَا بَعْضَ مَنْ كَانَ يَكْتُبُ فَيَقُولُ ضَعُوا هَؤُلاَءِ الآيَاتِ فِي السُّورَةِ الَّتِي يُذْكَرُ فِيهَا كَذَا وَكَذَا وَإِذَا نَزَلَتْ عَلَيْهِ الآيَةُ فَيَقُولُ ضَعُوا هَذِهِ الآيَةَ فِي السُّورَةِ الَّتِي يُذْكَرُ فِيهَا كَذَا وَكَذَا
উছমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর এমন এক যামানাও এসেছে যখন তাঁর উপর বহুসংখ্যক সূরা এক সঙ্গে নাযিল হয়েছে। ঐ যুগে তাঁর উপর কোন বিষয় নাযিল হলে ওয়াহী লেখকগণের কাউকে ডেকে তিনি বলতেন এ আয়াতগুলো যে সূরায় অমুক অমুক বিষয়ের উল্লেখ আছে, সে সূরায় অন্তর্ভূক্ত কর। কোন আয়াত নাযিল হলে বলতেন, এই আয়াতটি যে সূরায় অমুক অমুক বিষয়ের উল্লেখ আছে সে সূরায় অন্তর্ভূক্ত কর। [সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-৩০৮৫, মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন, হাদীস নং-২৮৭৫, মারেফাতুস সুনান ওয়াল আছার, হাদীস নং-৩০৫৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৩৯৯]
تَرْتِيبُ السُّوَرِ هَكَذَا هُوَ عِنْدَ اللَّهِ فِي اللَّوْحِ الْمَحْفُوظِ عَلَى هَذَا التَّرْتِيبِ وَعَلَيْهِ كَانَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْرِضُ عَلَى جِبْرِيلَ كُلَّ سَنَةٍ
সূরার তারতীব এমনি। এমনি আছে আল্লাহর কাছে লওহে মাহফূজে। আর এ তারতীবের সাথেই প্রতি বছর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈলকে শুনাতেন। [আলইতকান ফী উলুমিল কুরআন লিসসুয়ূতী-১/২১৭]
বিস্তারিত জানুনঃ-
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত সুরা গুলো ক্রমানুসারে নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ-
সুরা ফিল, কুরাইশ, মাউন,কাফিরুন, কাউসার,নাসর, লাহাব, ইখলাস, ফালাক, নাস।
আপনি উক্ত ক্রম বজায় রেখে নামাজে তিলাওয়াত করবেন।
(০২)
এটি সঠিক নিয়ম নয়।
আপনি বিতর নামাজের জন্য তিন রাকাত নামাজ পড়বেন। তাকবীরে তাহরীমার পর সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা মিলিয়ে রুকু সেজদাহ করে উক্ত রাকাত শেষ করবেন।
দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা মিলিয়ে প্রথম বৈঠক করবেন।
প্রথম বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ করে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যাবেন।
তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা মিলানোর পর আল্লাহু আকবার বলে হাত উত্তোলন করে এরপর পুনরায় হাত বেধে দোয়ায়ে কুনুত পাঠ করবেন।
এরপর রুকু সেজদাহ করে শেষ বৈঠক করে নামাজ শেষ করবেন।