আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
15 views
in সালাত(Prayer) by (43 points)
আসসালামু আলাইকুম
১।এখন তো প্রায় সব বাথরুমেই কমোড সিস্টেম।প্রসাবের ছিটা আসার ভয়ে,নাপাক হয়ে যাওয়ার ভয়ে আমি আমার বাথরুমের কমোড ইউজ করতে চাই না,এড়িয়ে চলি সবসময়।  রুমের  বাইরের একটা বাথরুম ইউজ করি সেটা নরমাল প্যানের টয়লেট।অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় রাতে যখন উঠে বাইরের বাথরুমে যাই বাচ্চা উঠে গিয়ে খুব চিৎকার কান্না করে সেক্ষেত্রে আমি যদি রুমার এটাচড বাথরুমের কমোড ইউজ করতাম তাহলে হয়ত বাচ্চার সাথে বাথরুম থেকে কথা বলা বা আওয়াজ দিতে পারতাম।আবার অনেক ক্ষেত্রে বাসায় গেস্ট আসলে প্ররদার কারণে রুমের বাহিরের বাথরুম ইউজ করতে পারি না।প্রশ্ন হচ্ছেক

ক)কমোডের সিট যদি ধুয়ে তারপর বসি আর সতর্কভাবে খেয়াল রেখে দেখি  যে প্রসাবের  ছিটা বা কমোডের পানির ছিটা গায়ে লাগে নি তাহলে কি শুধু লজ্জাস্থান টুকু ধুয়ে ফেলে ওযু করে নামাজ পড়া যাবে নাকি কোমোড় পর্যন্ত ধোওয়ার দরকার আছে??

২।নামাজে অনেক সময় ফরজ নামাজে ২ রাকাত পড়ার পরে আত্তাহিয়াতু শেষ করে মনের  ভুলে দরুদের আল্লহুম্মা বলার পরে মনে হয় যে এখন এটা না তখন কি সজ্ঞে সজ্ঞে দাঁড়িয়ে গিয়ে বাকি নামাজ পড়ব নাকি সিজদা সাহু আসবে?

1 Answer

0 votes
by (714,960 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://www.ifatwa.info/12359 নং ফাতাওয়ায় উল্লেখ রয়েছেঃ- 
عن عائشة قالت : من حدثكم أن النبي صلى الله عليه و سلم كان يبول قائما فلا تصدقوه ما كان يبول إلا قاعدا (سنن الترمذى، ابواب الطهارة، باب [ ما جاء في ] النهي عن البول قاتما، رقم الحديث-12
অনুবাদ-হযরত আয়শা রাঃ বলেন-তোমাদের মাঝে যারা বলে যে রাসূল সাঃ দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছেন, তাদের কথা বিশ্বাস করো না। কেননা রাসূল সাঃ কেবল বসেই প্রস্রাব করেছেন। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-১২, মুজামে ইবনে আসাকীর, হাদীস নং-৩৬৬}

ফতাওয়ায় হিন্দিয়াতে বর্ণিত রয়েছে,
ويكره أن يبول قائما أو مضطجعا أو متجردا عن ثوبه من غير عذر فإن كان بعذر فلا بأس به (الفتاوى الهندية-1/50، رد المحتار-1/31
দাড়িয়ে বা শুয়ে বা সম্পূর্ণ কাপড় খুলে প্রস্রাব করা মাকরুহ। তবে যদি কোনো উযর থাকে, তাহলে জায়েয রয়েছে।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৫০)

ওজরের কারণে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা জায়েজ। যেমন বসলে গায়ে ময়লা লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, বা পানির ছিটা গায়ে লাগার সম্ভাবনা থাকে, এরকম কারণে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা জায়েজ।
তবে গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া এমনিতে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা মাকরুহে তাহরীমী।বাথরুমে হাই কমোড বানানো তাদের জন্য জায়েজ যাদের বসে প্রস্রাব পায়খানা কষ্টকর। এমনিতে ফ্যাশন স্বরূপ এমনটি করা মাকরুহে তাহরীমী। প্রয়োজন ছাড়া হাই কমোড বানানো উচিত নয়। (জাদিদ ফিক্বহী মাসায়েল-১/৫৭}যদি কোথাও হাই কমোড ব্যতীত নিচু কোন বাথরুম না থাকে, তাহলে হাই কমোডে ইস্তিঞ্জা করা যাবে। এতে কোনো সমস্যা হবে না। 

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী বোন!
হাই কমোডে বসে ইস্তেঞ্জা করতে গিয়ে অনেক সময় কমোডের ভেতর জমে থাকা পানি ছিটে উপরের দিকে আসে। এ পানি অপবিত্র। সুতরাং শরীর বা কাপড়ের যে অংশে ঐ নাপাক পানি  লাগবে, সেই অংশকে ধৌত করতে হবে। 

কমোড ব্যবহারের পর যখন পানি নেয়ার জন্য স্প্রে করা হয় তখন যদি পানি ছিটে এসে হাতে লাগে বা শরীরের আশেপাশে লাগে আর কমোড থেকেও পেশাব মিশ্রিত পানি উঠে আসে,সেক্ষেত্রে এসব পানিই নাপাক। 

এক্ষেত্রে শরীর বা কাপড়ের যেখানেই উক্ত পানি বা পানির ছিটা লাগবে,সেই স্থান পা করে নিতে হবে। 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী বোন,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে কমোডের ছিটা পানি শরীরে/কাপড়ে লাগেনি বলে আপনি নিশ্চিত হলে সেক্ষেত্রে শুধু লজ্জাস্থান টুকু ধুয়ে ফেলে ওযু করে নামাজ পড়া যাবে।

এক্ষেত্রে কোমড় পর্যন্ত ধোয়া আবশ্যক নয়। 

(০২)
কেহ যদি ২য় রাকাতে ভুলক্রমে দরুদ শরীফ পাঠ করা শুরু করে দেয়,অতঃপর মনে আসে,যার কারনে সে ৩য় রাকাতের দিকে দাঁড়িয়ে যায়,তাহলে সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। 
কিছু ইসলামী স্কলার গন বলেছেন যে   اللهم صل على محمد পরিমান পড়া হলে সেজদায়ে সাহু আবশ্যক হবে।

চার রাকাত বা তিন রাকাতবিশিষ্ট নামাজে প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার পর দরুদ শরীফ পাঠ করলে পরবর্তী রাকাত বিলম্ব হয়,যেহেতু সাথে সাথেই দাড়ানোর নিয়ম ছিলো,আর দরুদ শরীফ পাঠ করার কারনে দাড়ানোর ক্ষেত্রে কিছুটা বিলম্ব হলো,তাই সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে।    

তাশাহুদের পর শুধুমাত্র ৪২ হরফ পরিমাণ পড়লে তথা “আল্লাহুম্মা সাল্লিয়ালা মুহাম্মদ ওয়া আলা আলী মুহাম্মদ” পর্যন্ত পড়লে সেজদায়ে সাহু আবশ্যক হয়ে যায়। {আহসানুল ফাতওয়া-৮/২৯.৩০}

বিস্তারিত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি মনে পড়া মাত্র সাথে সাথেই দাঁড়িয়ে গিয়ে অবশিষ্ট নামাজ আদায় করবেন।

এক্ষেত্রে আপনি যদি ২য় রাকাতে "আল্লাহুম্মা সাল্লিয়ালা মুহাম্মদ" পর্যন্ত পড়ে থাকেন,সেক্ষেত্রে নামাজের শেষে সেজদায়ে সাহু আদায় করবেন।

আর যদি "আল্লাহুম্মা" বলার পরেই দাঁড়িয়ে যান,তাহলে সেজদায়ে সাহু আদায় করা আবশ্যক হবেনা। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...