আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, শাইখ।
শাইখ, আমার ২০২৪ সালের মার্চে বিয়ে হয় এবং আমি উনার সেকেন্ড ওয়াইফ; প্রথম ওয়াইফের সাথে উনার তালাক হয়ে গিয়েছিল।প্রথম ওয়াইফের সাথে তালাক হওয়ার কারণ ছিলো মেয়েটা ঘরে সবার সাথে খুব জুলুমপূর্ণ আচরণ করতো। এমনটাই বলেছিলেন উনার পরিবার বিয়ের আগে।
যাই হোক, আমি জেনারেল লাইনের আর উনি মাদ্রাসার লাইনের ছিলেন। উনি দাওরা পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। বিয়ের প্রায় ৪/৫ মাস আগে আমার একটা ডিজিজ ধরা পড়ে যেটার বদৌলতে আমার সারা গায়ে কালশিটে দাগ পড়ে যায় (শুধুমাত্র বাহ্যিক যেটুকু দেখা যায় সেটুকু ব্যতীত)। উল্লেখ্য, বিয়ের সময় আমি আমার স্বামীকে এটা জানানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু আমি ব্যর্থ হয়েছিলাম। জানাতে পারি নি। আমার মা আমাকে জানাতে দেন নি। তারপরও আমি চেষ্টা করেছিলাম, জাওযের নাম্বার বা ইমেইল, এটলিস্ট ফেসবুক আইডি রিচ করতে। যেহেতু প্রস্তাবটা আত্মীয়ের মাধ্যমে এসেছিল তাই বায়োডাটা বা অন্য কোনো কিছু ছিলো না যার মাধ্যমে উনার নাম্বার বা কিছু ম্যানেজ করা যেত। তাই জানাতে পারি নি। আমার হাজবেন্ডও বিয়ের পর এটা নিয়ে তেমন কোনো ঝামেলা করেন নি। ইভেন আমাকে জিজ্ঞেসও করেছেন কালেভদ্রে। হ্যাঁ, তবে বিয়ের পর থেকে আমি মোটামুটি এইটুক বুঝেছিলাম যে, উনি আমাকে পছন্দ করেন না বা দায়িত্বের খাতিরে উনি আমার সব দায়িত্ব পালন করছেন। এবং এটা সত্য যে, উনি আমার সমস্ত হাজত পূরণ করেছেন ইনশা আল্লাহ। এবং স্ত্রী হিসেবে আমি সবসময়ই উনার সর্বোচ্চ আনুগত্য ও সেবা-যত্ন করার চেষ্টা করেছি। আর এটার স্বীকারোক্তি উনি নিজেই দিয়েছেন উনার পরিবারের কাছে।
মূল কথায় আসি, আমি বিয়ের পর থেকেই উনাকে সন্দেহ করছিলাম যে, উনি অন্য কোনো নারীর সাথে থেকে আসেন/পরকীয়ায় লিপ্ত/আগের ওয়াইফের কাছে যান এমনটাই ধারণা করেছিলাম। কিন্তু কখনো প্রকাশ করি নি। আমি ভেবেছিলাম, আমাকে শয়তান ধোকা দিচ্ছে। এজন্য আমি অহেতুক বাড়াবাড়ি করতে চাই নি। কিন্তু অক্টোবর মাসের লাস্টের দিকে উনি ভুলে উনার ফোন ফেলে অফিসে চলে যান। আমি উনার ফোনের পাসওয়ার্ড জানতাম যদিও উনার ফোন উনি আমাকে ধরতে দিতেন না। তো, আমি উনার ফোন চেক করি এবং উনার টেলিগ্রামে অত্যন্ত আপত্তিকর কিছু ম্যাসেজ পাই যেগুলো ছিলো একজন পতিতার সাথে দরকষাকষি রিলেটেড। পরে এটা নিয়ে আমি তার সাথে কথা বলি। উনি বলেছেন যে, এটা নাকি জাস্ট ফাইজলামির বশে করেছেন যেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা ছিলো। এরপর অন্য আরেক পতিতার কাছে টাইম পাস করে আসলে সেটা আমি হাতেনাতে ধরি। পরে উনি স্বীকার করেন যে, উনি গিয়েছেন অযুহাত হিসেবে উনি আমার গায়ের দাগের কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, উনার এই অসভ্য আচরণটা বহুদিনের। আমাকে বিয়ের পর উনি গেছেন বা যাচ্ছেন—ব্যাপারটা এমন নয়। আমার কাছে ধরা খাওয়ার পরও উনি যাওয়া বন্ধ করেন নি শাইখ। আমি তাকে অনেক বুঝিয়েছি যে, এমনটা কইরেন না। তাকে আখিরাত ও দুনিয়ার লাঞ্চনার ভয়ও দেখিয়েছি। কিন্তু উনি বন্ধ করেন নি। শাইখ, উনার শারীরিক প্রয়োজনীয়তা তেমন নেই। কিন্তু উনি মেডিসিন নিয়ে এই প্রয়োজনীয়তাকে বৃদ্ধি করেন এবং অন্য নারীদের কাছে গিয়ে টাইম পাস করে আসেন। আমি তাকে এও বলেছি যে, আপনি প্রয়োজনে আরও বিয়ে করেন। কিন্তু এই হারাম থেকে বের হয়ে আসেন। আমি আপনার হালাল স্ত্রীকে মেনে নিতে পারবো কিন্তু হারামকে পারবো না। আমার পক্ষে সম্ভব না। কিন্তু উনি আমার থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে এ হারাম কাজ করে যাচ্ছেন যখন যেভাবে সুবিধা পাচ্ছেন। সে বলেছে, তার নাকি গিলটি ফিল হচ্ছে। কিন্তু আমি তার সাথে একটু স্বাভাবিক হলেই সে আবার শুরু করে দেয় এগুলো।
আমার কি করনীয় শাইখ? আমার বাবা নেই। আমার মা বৃদ্ধা, অসুস্থ। আমার ছোটো ভাই, একটা ছোটোখাটো চাকরি করে। আমার মায়ের মাথায় অনেক ঋণ। আমি মায়ের সাথে শেয়ার করেছিলাম, উনি আমাকে সবর করতে বলছেন যদিও সেটা লোকলজ্জার ভয়ে। উনি বলতে চাইছেন, আমাকে কে বিয়ে করবে চলে আসলে? উনি আমার দায়িত্ব কিভাবে নেবেন!! এই সোসাইটি তো আমাকে ঠিকমতো বাঁচতে দেবে না—এই ধরনের নানা কথাবার্তা বলছেন।
আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উনাকে বিয়ে করেছিলাম শাইখ। উনি ডিভোর্সি হওয়ার পরেও আমি সেটা নিয়ে মাথা ঘামাই নি। আমি শুধু উনার মধ্যে সততাটুকু খুঁজেছিলাম। এখন আমি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত সময় পার করছি। কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। অনুগ্রহ করে আমাকে পরামর্শ দিন।