ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ
নিশ্চয়ই উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. থেকে সহিহভাবে বর্ণিত আছে—তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর গায়ে দোয়া/কুরআনের আয়াত পড়ে ফুঁ দিতেন। (রুকইয়া করতেন)।
নিচে আরবি হাদিস, সূত্র ও অর্থসহ দেওয়া হলো:
আরবি হাদিস (সহিহ বুখারি)
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا اشْتَكَى، قَرَأَ عَلَى نَفْسِهِ بِالْمُعَوِّذَاتِ وَنَفَثَ، فَلَمَّا اشْتَدَّ وَجَعُهُ كُنْتُ أَقْرَأُ عَلَيْهِ وَأَنْفُثُ وَأَمْسَحُ بِيَدِهِ رَجَاءَ بَرَكَتِهَا.
বাংলা অর্থ: আয়েশা (রাঃ) বলেন: “রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন অসুস্থ হতেন, তখন তিনি নিজে মু‘আওয়িযাতাইন (সূরা ফালাক ও সূরা নাস) পড়ে নিজের গায়ে ফুঁ দিতেন। কিন্তু যখন তাঁর অসুস্থতা বেড়ে যেত, তখন আমি তাঁর ওপর পড়ে ফুঁ দিতাম এবং তাঁর নিজের হাত দিয়েই তাঁর শরীরে মাসেহ করতাম—তার বরকতের আশায়।” সহিহ বুখারি: ৫৭৩৫ সহিহ মুসলিম: ২১৯২
.
গুরুত্বপূর্ণ দিক:
* এখানে ফুঁ দিয়ে দোয়া/কুরআন পড়া (রুকইয়া) স্পষ্টভাবে প্রমাণিত
* কুরআনের আয়াত ও (সুন্নাহ) দিয়ে রুকইয়া করা সুন্নত
.
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ:
انْطَلَقَ نَفَرٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ فِي سَفْرَةٍ سَافَرُوهَا، حَتَّى نَزَلُوا عَلَى حَيٍّ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ، فَاسْتَضَافُوهُمْ فَأَبَوْا أَنْ يُضَيِّفُوهُمْ، فَلُدِغَ سَيِّدُ ذَلِكَ الْحَيِّ، فَسَعَوْا لَهُ بِكُلِّ شَيْءٍ لَا يَنْفَعُهُ شَيْءٌ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَوْ أَتَيْتُمْ هَؤُلَاءِ الرَّهْطَ الَّذِينَ نَزَلُوا لَعَلَّهُ أَنْ يَكُونَ عِنْدَ بَعْضِهِمْ شَيْءٌ، فَأَتَوْهُمْ فَقَالُوا: يَا أَيُّهَا الرَّهْطُ، إِنَّ سَيِّدَنَا لُدِغَ، وَسَعَيْنَا لَهُ بِكُلِّ شَيْءٍ لَا يَنْفَعُهُ، فَهَلْ عِنْدَ أَحَدٍ مِنْكُمْ مِنْ شَيْءٍ؟
فَقَالَ بَعْضُهُمْ: نَعَمْ، وَاللَّهِ إِنِّي لَأَرْقِي، وَلَكِنْ وَاللَّهِ لَقَدِ اسْتَضَفْنَاكُمْ فَلَمْ تُضَيِّفُونَا، فَمَا أَنَا بِرَاقٍ لَكُمْ حَتَّى تَجْعَلُوا لَنَا جُعْلًا.
فَصَالَحُوهُ عَلَى قَطِيعٍ مِنَ الشَّاءِ، فَانْطَلَقَ يَتْفُلُ عَلَيْهِ، وَيَقْرَأُ: الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، فَكَأَنَّمَا نُشِطَ مِنْ عِقَالٍ، فَانْطَلَقَ يَمْشِي وَمَا بِهِ قَلَبَةٌ
فَأَوْفَوْهُمْ جُعْلَهُمُ الَّذِي صَالَحُوهُ عَلَيْهِ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: اقْسِمُوا، فَقَالَ الَّذِي رَقَى: لَا تَفْعَلُوا حَتَّى نَأْتِيَ النَّبِيَّ ﷺ فَنَذْكُرَ لَهُ الَّذِي كَانَ، فَنَنْظُرَ مَاذَا يَأْمُرُنَا.**
> فَقَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَذَكَرُوا لَهُ، فَقَالَ:
> «وَمَا يُدْرِيكَ أَنَّهَا رُقْيَةٌ؟»
> ثُمَّ قَالَ: «قَدْ أَصَبْتُمْ، اقْسِمُوا، وَاضْرِبُوا لِي مَعَكُمْ سَهْمًا».
আবু সাঈদ খুদরি (রাঃ) বলেন: “রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর কিছু সাহাবি এক সফরে এক গোত্রের কাছে অবতরণ করলেন। তারা আতিথ্য দিতে অস্বীকার করল। এরপর সেই গোত্রের সর্দারকে বিষাক্ত কোনো প্রাণী কামড় দেয়। বহু চেষ্টা করেও কিছু কাজে আসল না। তখন তারা সাহাবিদের কাছে এসে সাহায্য চাইলো।
.
এক সাহাবি বললেন: ‘আমি রুকইয়া জানি, কিন্তু তোমরা আমাদের মেহমানদারি করোনি। বিনিময় না দিলে আমি রুকইয়া করবো না।’
তারা এক পাল ছাগলের বিনিময়ে রাজি হলো।
সাহাবি সূরা আল-ফাতিহা পড়ে ফুঁ দিতে লাগলেন।
ফলে লোকটি এমন সুস্থ হয়ে গেল, যেন বাঁধন খুলে দেওয়া হলো।
.
পরে তারা বিষয়টি রাসূল ﷺ–কে জানালে তিনি বললেন:
> ‘তুমি কীভাবে জানলে এটি রুকইয়ার জন্য উপযুক্ত?’
> তারপর বললেন:
> ‘তোমরা ঠিকই করেছ। ছাগলগুলো ভাগ করে নাও, আর আমার জন্যও একটি অংশ রাখো।’” সহিহ বুখারি: ৫৭৩৬; সহিহ মুসলিম: ২২০১
.
হাদিস থেকে প্রমাণিত বিষয়
* সূরা ফাতিহা দ্বারা রুকইয়া করা সুন্নত
* বিষাক্ত কামড়েও কুরআন দ্বারা চিকিৎসা করা জায়েয
* রুকইয়ার বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়া বৈধ
.
★ সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী বোন!
.
কুরআন ও সুন্নাহের অকাট্য দলীল দ্বারা রুকইয়া করা প্রমাণিত। আরো অনেক দলীল আছে। আপনি ‘শয়তানের সাথে যুদ্ধ’ বইটি সংগ্রহ করে নিবেন ইনশাআল্লাহ। সেখানে আরো অনেক দলীল আছে।