আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
130 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (25 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।

১. আমি দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের স্বপ্ন দেখি । যেমন মাহারাম বা নন মাহারাম যে কোনো কারো সামনেই। এমনকি রাস্তায় চলতেও অটো-সাটো পোশাক পড়ে আছি,, ওড়না ছাড়া আছি বা একদম খালি গায়ে আছি। পরিবারের অনেক পুরুষ সদস্য আমাকে দেখছে, আবার পরিচয় পরিচিত জনেরাও দেখছে। এতে আমার খুবই অস্বস্থি হচ্ছে,কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আমার গায়ে এত্তো ছোট পোশাক বা এক্কেবারে খালি গাঁ কিভাবে হয়েছে জানিনা । এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা কি?

২. আমার বাবা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। একটা সময় অভাবের জন্য এবং আমার দাদার ঋণের কারণে আমাদের পারিবারিক অবস্থা খুব সংকটপন্ন হয়ে পড়ে তখন আমার বাবা খুব ছোট বয়সে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তারপর তিনি অনেক কষ্টে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করান এবং প্রায় সকল ভাই-বোনদের শিক্ষিত করে তোলেন। এরপর আমার চাচাদের চাকরি দেন, তাদের বিয়ে দেন এবং বাড়ির করার জন্য শহরে জমি কিনে দেন। বড় চাচা কে গ্রামের রাইস মিল দিয়ে দেন। আমার দাদার থেকে পাওয়া গ্রামের বাড়ির জমিও আব্বু তার ভাইদের লিখে দেন। আমার বাবা একবার একটা জমি কিনে চার ভাইয়ের নামে দিতে চাইলে আমার বড় চাচা কৌশলে সেটা শুধু নিজের নামে লিখে নেন। আমার আম্মুর বিয়ের সময় নানা বাসায় থেকে দুই বিঘা মত জমি আম্মুকে দিয়েছিল সেই জমি আমার এক চাচা 26-27 বছর ভোগ করেছে। কিন্তু তারা কেউ আমাদেরকে দেখে না, আমাদের সাথে ভালো আচরণ করে না। বলতে গেলে সব সময় সুযোগই থাকে কিভাবে আমার বাবার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে পারবে। আমার প্রশ্ন হল আমরা দুই বোন। তাই আমার আব্বুর বাকি ৮ ভাই বোন(আব্বুরা চার ভাই এবং পাঁচ বোন তার মধ্যে এক ভাই মারা গিয়েছেন) আমাদের সম্পত্তির ভাগ চাই সব সময়। আমার বাবার সম্পত্তির ভাগ কি তারা পাবে? পেলে কতটুকু পাবে?

৩. বিয়ের সময় ঘটক কিংবা পাত্রপক্ষকে ছবি দেয়ার জন্য বাবা-মা জোড়াজুড়ি করলে কি করণীয়? পাত্রী যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দৃঢ়ভাবে না করে দেয় কিংবা বাবা-মার কথার অবাধ্য হয় সেক্ষেত্রে করণীয় কী? যদি নন-মাহরামের সামনে পাত্রীর পর্দা ছুটার সম্ভাবনা থাকে। মা যদি এমন বলে যে -"আমি তোর পা ধরি,তবুও ছবি দে" বা "তোর কোন পাপ হলে ঐ পাপ আমি নিয়ে নিব" - এক্ষেত্রে করণীয় কি?
আল্লাহকে সন্তুষ্টির করার জন্য বাবা-মার এমন আচরণে কি তাদের বিরুদ্ধাচরণ/ তাদেরকে অসন্তুষ্ট করা যাবে?

1 Answer

0 votes
by (715,140 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
হাদীস শরীফে এসেছে 

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي ابْنُ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَبَّابٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ رُؤْيَا يُحِبُّهَا فَإِنَّمَا هِيَ مِنَ اللَّهِ، فَلْيَحْمَدِ اللَّهَ عَلَيْهَا، وَلْيُحَدِّثْ بِهَا، وَإِذَا رَأَى غَيْرَ ذَلِكَ مِمَّا يَكْرَهُ، فَإِنَّمَا هِيَ مِنَ الشَّيْطَانِ، فَلْيَسْتَعِذْ مِنْ شَرِّهَا، وَلاَ يَذْكُرْهَا لأَحَدٍ، فَإِنَّهَا لاَ تَضُرُّهُ ".

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, যেখন তোমাদের কেউ এমন স্বপ্ন দেখে, যা সে পছন্দ করে, তাহলে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাই সে যেন এ জন্য আল্লাহর প্রশংসা করে এবং অন্যের কাছে তা বর্ণনা করে। আর যদি এর বিপরীত অপছন্দনীয় কিছু দেখে, তাহলে তা শয়তানের পক্ষ থেকে। তাই সে যেন এর ক্ষতি থেকে আল্লাহর আশ্রয় চায়। আর কারো কাছে যেন তা বর্ণনা না করে। তাহলে এ স্বপ্ন তার কোন ক্ষতি করবে না। ( বুুুখারী ৬৯৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫১৪)
,
উপরোক্ত হাদীসের আলোকে দুঃস্বপ্ন দেখলে আমাদের যা যা করতে হবেঃ
১) দুঃস্বপ্নের ক্ষতি ও অনিষ্ট থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে। এভাবে সকল প্রকার ক্ষতি থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত।
২) শয়তানের অনিষ্ট ও কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে। এবং এর জন্য আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম পড়তে হবে। কারণ, খারাপ স্বপ্ন শয়তানের কুপ্রভাবে হয়ে থাকে।
৩) ঘুম ভাঙার পর বাঁ দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করতে হবে। এটা করতে হবে শয়তানের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ ও তার চক্রান্তকে অপমান করার জন্য।
৪) যে দিক ফিরে দুঃস্বপ্ন দেখেছে তা পরিবর্তন করে অন্য দিক ফিরে ঘুমাতে হবে। অবস্থাকে বদলে দেয়ার ইঙ্গিত স্বরূপ এটা করতে বলা হয়েছে।
৫) খারাপ স্বপ্ন দেখলে কারো কাছে বলা যাবে না। আর নিজেও এর ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

আরো জানুনঃ 

★স্বপ্নে নিজেকে এভাবে বিবস্ত্র দেখার ব্যাখ্যা হলো শরীয়তের উপর আমলের কমতি ও গুনাহের দিকে ধাপিত হয়ে যাওয়ার আশংকা ।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, 
আপনার জন্য উচিত,আপনি পূর্ণ শরীয়তের উপর চলার চেষ্টা করবেন।
আমলের কমতি কাটিয়ে উঠবেন।

গুনাহ থেকে হেফাজতের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
,
পবিত্র বিছানায় অযু করে প্রতি রাতে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন।
ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়বেন, তিন কুল তিন তিন বার করে পড়ে পুরো শরীর ফুক দিবেন।

আপনার আমল বাড়িয়ে দিতে হবে,দ্বীনদার লোকদের সাথে উঠাবসা করতে হবে,পবিত্র হালতে থাকতে হবে,অহংকার থেকে বেঁচে থাকতে হবে। 

বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত, যিকির আযকার,ফরজ সহ নফল নামাজ পড়তে হবে। 

(০২)
আপনার বাবার সন্তান কয়জন?
আপনার বাবার স্ত্রী (আপনার আম্মু) কি জীবিত আছেন?

আপনার বাবা কি জীবিত আছেন?
আপনার দাদা দাদী কি জীবিত আছেন?
বিস্তারিত কমেন্ট বক্সে উল্লেখ করলে জবাব প্রদানে সুবিধা হতো।

(০৩)
আল্লাহকে সন্তুষ্টির করার জন্য বাবা-মার এমন আচরণে তাদের বিরুদ্ধাচরণ/ তাদেরকে অসন্তুষ্ট করা যাবে।
তবে বেয়াদবি যেনো না হয়,জোড় গলায় যেনো কথা না হয়,ধমক যেনো না দেয়া হয়,সতর্কতার সাথে বিষয়টি এড়িয়ে চলার পরামর্শ থাকবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (25 points)
2 বোন, আম্মু জীবিত আছেন বাবা ও জীবিত আছেন। দাদা নেই, দাদি আছেন।
by (715,140 points)
প্রশ্নের বিবরণ মতে আপনার যেহেতু কোন ভাই নেই, সুতরাং আপনার বাবার মৃত্যুর পর আপনার বাবার সমুদয় সম্পত্তি 216 ভাগ হবে।

এর মধ্য হতে দুইতৃতীয়াংশ হিসেবে আপনারা দুই কন্যা ১৪৪ অংশ পাবেন।

এরপর আপনার দাদি ছয় ভাগের একভাগ হিসেবে ৩৬ অংশ পাবেন।

আপনার মা আট ভাগের একভাগ হিসেবে সাতাশ অংশ পাবেন।

আপনার বাবার জীবিত দুই ভাই দুই অংশ করে দুইজন মোট চার অংশ পাবেন।

আপনার বাবার পাঁচ বোন প্রত্যেকে এক অংশ করে ৫ বোন মোট পাঁচ অংশ পাবেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...