আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
31 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (30 points)
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
উস্তাজ আমি আলহামদুলিল্লাহ আই ও এম এর আলিম কোর্স এর ছাত্রী। ২য় সেমিস্টার শেষ হলো আলহামদুলিল্লাহ। আমার আলহামদুলিল্লাহ তাজবিদ মোটামুটি সহীহ। মাঝে মাঝে দুই এক্টা টান এদিক ওদিক হয়। দেখে আবার ঠিক করে নেই। আমার আগে থেকেই খুব ইচ্ছা ছিল কুরআন হিফজ করার। এবং আমি কাউকে না জানিয়ে সেটা করতে চাই। শুধু পরিবারের লোক জানবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যে আমি আশে পাশে কোনো মাদ্রাসা বা উস্তাজার সন্ধান পাচ্ছিনা যার কাছে আমি হিফজ করবো। আর আমাকে নিয়ে প্রতিদিন বের হওয়া আম্মুর পক্ষে সম্ভব না ও হতে পারে। এখন আমি কি বাসায় হিফজ করতে শুরু করবো? বাসায় হিফজ করতে হলে আসলে কি কি গাইডলাইন লাগবে আমাকে এক্টু বললে খুবই মুনাসিব হতো। আর আমি বাসায় যদি করি তাহলে আমার বোন বা মা কে পড়া শুনাতে পারবো ইন্ন শা আল্লহ। ওদের আলহামদুলিল্লাহ তাজবিদ আমার থেকেও সহীহ মা শা আল্লহ। আমাকে এক্টু পরামর্শ দিলে ভালো হয়।

1 Answer

0 votes
by (714,960 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

কুরআনের হাফেজদের জন্য হাদীসে বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা কোরআন তিলাওয়াত করো। কেননা তা কিয়ামতের দিন তার ধারকের জন্য সুপারিশকারী হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩০২)

কিয়ামতের দিন কোরআন মুখস্থকারীদের প্রতিটি আয়াতের বিপরীতে মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোরআন অধ্যয়নকারীকে বলা হবে, কোরআন পাঠ করতে করতে ওপরে উঠতে থাকো। তুমি দুনিয়াতে যেভাবে ধীরে-সুস্থে পাঠ করতে, সেভাবে পাঠ করো। কেননা তোমার তিলাওয়াতের শেষ আয়াতেই (জান্নাতে) তোমার বাসস্থান হবে।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ১৪৬৪)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
সবচেয়ে ভালো হয় আপনার বাসার আশে পাশে কোনো মহিলা মাদ্রাসায় অনাবাসিক পদ্ধতিতে ভর্তি হয়ে হিফজ করা।

তদুপরি আপনি ঘরে বসেও আপনার বাবা মাকে শুনিয়ে কুরআন শরীফ মুখস্থ করতে পারবেন।

প্রত্যাহ সবক,সাত সবক (সবকের পিছনের কমপক্ষে ৭ পৃষ্ঠা পড়া ও আমুখতা পিছনের পাড়া হতে প্রত্যাহ এব বা হাফ পাড়া) ভালোভাবে আপনার বাবা মাকে শোনাবেন।

এক্ষেত্রে আপনার জন্য কিছু পরামর্শঃ-
★আপনার মেধা ও স্মরণশক্তি অনুপাতে প্রতিদিন একটি নির্ধারিত পরিমাণ মুখস্থ করুন। এক পৃষ্ঠা হোক বা আধা পৃষ্ঠা হোক,সর্বনিম্ন পাঁচ লাইন মুখস্থ করার চেষ্টা করুন।

★প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে দুইবার হিফজের জন্য সময় দিন। সকালে নির্ধারিত পরিমাণ মুখস্থ করুন এবং সারা দিন মনে মনে আবৃত্তি করুন। রাতে দেখে তা আরো ভালোভাবে আত্মস্থ করুন। সকাল ও সন্ধ্যায় কমপক্ষে ৪০ মিনিট করে সময় দেওয়ার চেষ্টা করুন।

★পরের দিন একজন কোরআনের হাফেজ বা যাঁর কোরআন তিলাওয়াত বিশুদ্ধ তাঁকে মুখস্থ করা অংশটুকু শোনান। কোনো স্থানে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন করে নিন এবং পরের দিন তা আবার শোনান।

★প্রতিদিন নতুন অংশ মুখস্থ করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পেছনের অংশ মুখস্থ রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই সুযোগমতো পেছনের অংশ বারবার তিলাওয়াত করতে হবে। এবং তাহা সেই উস্তাদকে/অন্য যেকোনো শুদ্ধ পাঠকারীকে শোনাতে হবে,সম্ভবপর না হলে নিজেই নিজেই কুরআন বন্ধ রেখে ভালোভাবে পিছনের পড়া তিলাওয়াত করবেন।

★রাতে-দিনে বিশ্রামের সময় মনে মনে তিলাওয়াত করুন। বিশেষত ঘুমানোর আগে প্রতিদিনের নতুন মুখস্থ করা অংশটি আগের দিনের অংশের সঙ্গে মিলিয়ে তিলাওয়াত করুন।

★একাধিক পারা মুখস্থ হওয়ার পর সম্ভব হলে ধারাবাহিকভাবে পেছনের এক পারা করে একবার দেখে তিলাওয়াত করুন এবং তারপর একবার না দেখে তিলাওয়াত করুন।
এবং তাহা সম্ভব হলে কোনো উস্তাদকে বা অন্য যেকোনো শুদ্ধ পাঠকারীকে শোনানোর চেষ্টা করুন।

সম্ভবপর না হলে নিজে নিজেই কুরআন বন্ধ রেখে ভালোভাবে মুখস্থ তিলাওয়াত করুন।

মুখস্থ অংশ শোনানোর সময় যেসব জায়গায় ভুল ধরা পড়ে—তা (রুল দিয়ে) চিহ্নিত করে রাখা (পরবর্তীতে যেনো মিশে ফেলা যায়) এবং পরবর্তী সময় এসব শব্দ ও তার উচ্চারণের সময় সতর্কতা অবলম্বন করা।
(কিছু তথ্য সংগৃহীত।)

আরো জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 37 views
...