আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
110 views
in পবিত্রতা (Purity) by (4 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

আমি ফরজ গোসলের ক্ষেত্রে প্রথমে শরীরের সব নাপাকি দূর করে তারপর বিসমিল্লাহ বলে নামাজের ওজুর মতো ওজু করে ফেলি।দুই পাও ধুয়ে ফেলি। এরপর ঝর্ণার নিচে দাঁড়িয়ে গোসল সেরে ফেলি।এখন শরীরের সব নাপাকি দূর করে ওজু করছি অথবা ওজু শেষে ঝর্ণা দিয়ে গোসল করছি এই দুই অবস্থার এক অবস্থায় ওজু ভঙ্গের কোনো কারণ ঘটলে আবার প্রথম থেকে ওজু করে গোসল করবো নাকি যে অবস্থায় আছি ঐ অবস্থায় থেকে কাজ চালিয়ে যাবো?ওজু করছি ওজু করা চালিয়ে যাবো বা গোসল করছি গোসল করা চালিয়ে যাবো ব্যাপারটা এইরকম?


প্রশ্ন করার আগে আপনাদের ওয়েবসাইটে এই নিয়ে কোনো কিছু বলা আছে কিনা চেক করে দুটো উত্তর পেলাম।দুটো উত্তর কপি করে দিচ্ছি।


১)"গোসলের দ্বারা শরীর পাক হওয়ার ক্ষেত্রে বায়ু বের হওয়া ও না বের হওয়ার কোন সম্পর্কই নেই। এর দ্বারা গোসলের মাঝে কোন প্রভাব সৃষ্টি করবে না। গোসলের ফরজ আদায় করে গোসল আদায় করলে গোসল আদায় হবে যাবে। বায়ু বের হওয়ার দ্বারা মানুষ হুকুমের দিক থেকে নাপাক হয়, শারিরিক দিক থেকে নাপাক হয় না।"


২)"ফরজ গোসল আদায় করা প্রায় শেষ, শুধুমাত্র পা ধোয়া বাকি। এমন অবস্থায় যদি বায়ু নির্গত হয়, তাহলে আবার নতুন করে প্রথম থেকে সম্পূর্ণ গোসল করতে হবে না বরং গোসলের বাদবাকী কাজ সমাপ্ত করে নিলেই হবে। তবে অজু করা অবস্থায় দুয়েক অঙ্গ বাকী থাকাবস্থায় যদি অজু চলে যায়, তাহলে নতুন করে আবার অজু করতে হবে।


অর্থাৎ এক‌ই প্রশ্নের ভিন্ন দুটো উত্তর।কোনটা সঠিক?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/98247 নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ-
ফরয গোসল করার সময় যদি কোনো কারনে বায়ু ত্যাগ হয় অথবা পেশাব বের হয় তখন  আবার কুলি করা ও নাকে পানি দিতে হবেনা।

আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত,  নিশ্চয় রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
إِنَّمَا الْوُضُوءُ مِمَّا خَرَجَ ، وَلَيْسَ مِمَّا دَخَلَ
শরীর থেকে যা কিছু বের হয় এ কারণে অযু ভেঙ্গে যায়, প্রবেশের দ্বারা ভঙ্গ হয় না। (সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী ৫৬৮)

★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই /বোন, 
গোসলের দ্বারা শরীর পাক হওয়ার ক্ষেত্রে উক্ত বায়ু বের হওয়া ও না বের হওয়ার কোন সম্পর্কই নেই। এর দ্বারা গোসলের মাঝে কোন প্রভাব সৃষ্টি করবে না। গোসলের ফরজ আদায় করে গোসল আদায় করলে গোসল আদায় হবে যাবে। বায়ু বের হওয়ার দ্বারা মানুষ হুকুমের দিক থেকে নাপাক হয়, শারিরিক দিক থেকে নাপাক হয় না।

"و لو ضرب یدیه فقبل أن یمسح أحدث لا یجوز المسح بتلک الضربة کما لو أحدث في الوضوء بعد غسل بعض الأعضاء الخ."

(الفتاوی الهندیة، کتاب الطھارة، الباب الرابع فی التیمم، الفصل الأول،26/1، ط: المطبعة الکبری الأمیریة، بولاق، مصر)
সারমর্মঃ-
যদি কাহারো তায়াম্মুম করার জন্য মাটিতে হাত মারার পর মাসাহ করার পূর্বেই  অযু ভেঙ্গে যায়, তাহলে ওই হাত দ্বারা মাসাহ জায়েজ নেই। কারো যদি গোসলের কয়েকটি অঙ্গ ধোয়ার পর আবার অজু ভেঙ্গে যায় সেক্ষেত্রেও এমনটি হবে।

যদি গোসলের মাঝে ওযু ভেঙ্গে যায় তাহলে পুরোপুরি গোসল দ্বিতীয়বার করা আবশ্যক হবে না তবে গোসলের পূর্ণতার জন্য বাকি অঙ্গ গুলো ধোয়াই যথেষ্ট। 

তদুপরি গোসলের মধ্যে ওযু ভেঙ্গে যাওয়ার পর যদি ওযুর অঙ্গ গুলো ধোয়া না হয় সেক্ষেত্রে গোসলের পর পুরোপুরি অজু করে নেওয়া আবশ্যক তবে যদি গোসলের মাঝে ওযু ভেঙ্গে যাওয়ার পর অজুর অঙ্গ গুলো ধোয়া হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে অযু করা জরুরী নয়।

সুতরাং গোসল চলাকালীন বায়ি বের হলে বায়ু বের হচ্ছে হোক সমস্যা নেই, আপনি আপনার মত গোসলের ফরজ আদায় করে সুন্দরভাবে ফরজ গোসল শেষ করবেন।

তবে এক্ষেত্রে বায়ু বের হওয়ার পর যদি ওযুর অঙ্গ গুলো পুনরায় ধোয়া না হয়, সেক্ষেত্রে গোসলের পর পুরোপুরি অজু করে নেওয়া আবশ্যক।

তবে যদি গোসলের মাঝে বায়ু বের হওয়ার পর অজুর অঙ্গ গুলো পুনরায় ধোয়া হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আর অযু করা জরুরী নয়।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার যদি গোসলের ওযুর সময় ওযু ভেঙ্গে যায় বা গোসলের ওযুর পর অন্যান্য অঙ্গ ধরার সময় ওযু ভেঙ্গে যায়, সেক্ষেত্রে আপনি গোসল চালিয়ে যাবেন। পুনরায় ওযু করতে হবে না।

তবে যদি অযু ভেঙ্গে যাওয়ার পর যদি ওযুর অঙ্গ গুলো পুনরায় ধোয়া না হয়, সেক্ষেত্রে গোসলের পর পুরোপুরি অজু করে নেওয়া আবশ্যক।

( আপনি প্রশ্নে যে দুটি ফতোয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, দুটি মূলত ভিন্ন প্রেক্ষাপট। একটি হল গোসলের ওযু। আরেকটি হলো শুধু অজু। সুতরাং উভয় ক্ষেত্রে একই প্রশ্নের দুই ধরনের উত্তর হয়নি বরং দুই ধরনের প্রশ্নের এখানে আলাদা উত্তর দেওয়া হয়েছে।)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...